Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৭, ২ ভাদ্র, ১৪২৪, ২৩ যিলকদ ১৪৩৮ হিজরী

সবুজ পিচে খেলার চ্যালেঞ্জ মুশফিকদের

| প্রকাশের সময় : ১২ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

বিশেষ সংবাদদাতা : নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট রেকর্ডটা মোটেও ভাল নয় বাংলাদেশের। ১১ টেস্টে ৯ হার, ৩টি ড্র। দেশের মাটিতে ৩টি ড্র’র মধ্যে ২টি আবার বৃষ্টি বিঘিœত। একটি শুধু মাঠের লড়াইয়ে, সোহাগ গাজীর বিশ্বরেকর্ড অল রাউন্ড পারফরমেন্স (হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেট এবং সেঞ্চুরি) এবং মুমিনুলের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে (১৮১)। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ২০১০ সালে হ্যামিল্টন টেস্ট বাদ দিলে অন্য ৪টি ম্যাচের একটিও ৫ম দিনে টেনে নিতে পারেনি বাংলাদেশ দল। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে অন্য ৪টি টেস্টের মধ্যে তিনটিতেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ দল। ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে বাংলাদেশ দলের রেকর্ডটা একটু বেশিই করুন। ২টিতেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। ২০০১ সালে ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে অনুষ্ঠিত টেস্টে ইনিংস এবং ৭৪ রানে হারের ম্যাচটি চতুর্থ দিনে গড়ালেও সেই টেস্টটি এক অর্থে আড়াই দিনেরও কম খেলা হয়েছে। তৃতীয় দিনের পুরোটা খেলা হলেও দ্বিতীয় দিনের পুরোটা কেটেছে খেলাহীন, প্রথম দিনে ২৪ ওভারের বেশি গড়ায়নি খেলা, ৪র্থ দিনে সেখানে বাংলাদেশ খেলতে পেরেছে মাত্র ১৭ ওভার! ২০০৮ সালে ইনিংস এবং ১৩৭ রানে হারের ম্যাচে তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন পর্যন্ত পার করতে পারেনি বাংলাদেশ দল। ওয়েলিংটনে অতীতে ৪টি ইনিংসের কোনটাতেই দেড়শ’ স্বোর করতে পারেনি বাংলাদেশ-২০০১ সালে ১৩২ ও ১৩৫, ২০০৮ সালে ১৪৩ ও ১১৩! পৃথিবীর তৃতীয় এবং নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বেশি বাতাস প্রবাহের সেই ভেন্যুতে বাংলাদেশের সামনে প্রস্তুত বেসিন রিজার্ভের সবুজ গালিচা। যে মাঠ থেকে উইকেট আলাদা করা দুষ্কর।
বাস্তবতা মেনে তাই দুরূহ চ্যালেঞ্জের মুখে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। অসম্ভব সাধনের স্বপ্ন দেখছেন না। লক্ষ্য তার একটাই, দেশের মাটিতে গত ২৭ মাসে টেস্টের ধারাবাহিকতা। আজ থেকে অনুষ্ঠেয় টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে গতকাল ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সে লক্ষ্যের কথাই শুনিয়েছেনÑ ‘লক্ষ্য একটাই, দেশের মাটিতে যে ধারাবাহিকতা ছিল, বিদেশের মাটিতে টেস্টে ও যেন তা দেখাতে পারি। এখন সময় বিদেশের মাটিতে টেস্টে আমাদেরকে প্রমাণ করা। ইংল্যান্ডের  বিপক্ষে জিতেছি, তার মানে এই নয় যে, আমরা খুব ভালো টেস্ট দল হয়ে গেছি। দেশে আমরা যে রকম কন্ডিশন-উইকেট পাই, এখানে সেই কন্ডিশন উইকেট পাব না। তাই লক্ষ্য থাকবে, টেস্টে যেন আমরা লম্বা সময় খেলায় থাকতে পারি এবং লড়াই করতে পারি।’
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ টেস্টটি ৫ম দিনে টেনে নেয়ার পাশাপাশি মাহামুদুল্লাহ, সাকিবের সেঞ্চুরির পাশে রুবেলের ৫ উইকেটের ইনিংস থেকেও টনিক নিতে চাইছেন মুশফিকুর। হ্যামেস্ট্রিং ইনজুরি থেকে সেরে ওঠা  টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর দল হিসেবে খেলার চ্যালেঞ্জটাও নিয়েছেনÑ ‘এখন দল হিসেবে করতে হবে। লম্বা সময় ধরে কষ্ট করে যেতে হবে। সেশন বাই সেশন করতে হবে। কঠিন হবে, তবে অসম্ভব নয়।’ টেস্টে ফিল্ডিংয়ের পরীক্ষায়ও সফল হতে চান মুশফিকুরÑ ‘অবশ্যই আমরা চাইব না টম ল্যাথাম, রস টেলর বা কেন উইলিয়ামসনকে সুযোগ দিতে। সিøপ, গালিতে ফিল্ডিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ।’
বোলারদের পারফরমেন্সের দিকে তাকিয়ে মুশফিকুর রহিমÑ ‘এক্সট্রা বাউন্স এবং সেরা ডেলিভারী দিতে বোলাররা রোমাঞ্চিত হয়ে আছে। যে কোন ব্যাটসম্যানের জন্য একটি ভাল বলই যথেষ্ট, বোলারদের সেই বার্তা পৌঁছে দিয়েছি। তাই বোলারদের উপর দায়িত্বটা বেশি। কারণ, নিউজিল্যান্ড জানে, এই কন্ডিশনকে হ্যান্ডল করতে জানে। দেশে যেমন স্পিনাররা আক্রমণাত্মক ভূমিকায় থাকে, এখানে সেই ভূমিকায় থাকতে হবে পেসারদের। যদি আমাদের পেস বোলাররা তাদের সামর্থের সেরাটা দিতে পারে, তাহলে আমাদের পক্ষে ২০ উইকেট নেয়া সম্ভব।’
সবুজ গালিচা প্রস্তুত। তিন পেসার নিয়ে খেলার পরিকল্পনা বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টের। তাসকিনের সঙ্গে অভিষেক হচ্ছে শুভাশিষ রায়ের। তৃতীয় পেসার হিসেবে কামরুল ইসলাম রাব্বীকেও করা হচ্ছে বিবেচনা। অথচ ওয়েলিংটন টেস্টে বর্তমানে বাংলাদেশ দলের পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ (২৩ টেস্ট) রুবেল হোসেন নেই বিবেচনায়। সর্বশেষ টি-২০ সিরিজে সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকারের পরও (৭ উইকেট) বিবেচ্য হচ্ছেন না তিনি ওয়েলিংটন টেস্টে। অভিষেক টেস্ট সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রেকর্ড ১৯ উইকেটে সিরিজ সেরা অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজকেও ওয়েলিংটন টেস্টে লুকিয়ে রাখার পক্ষে টিম ম্যানেজমেন্ট। এমন আভাসই দিয়েছেন মুশফিকুর রহিমÑ ‘দারুণ অভিষেকের পর কোনো ম্যাচে ২-৩ উইকেট পেলেও অনেকে মনে করে খুব বাজে বোলিং করেছে। তাই মিরাজের কাছে যেনো বেশি প্রত্যাশা না করা হয়, সেই অনুরোধ করব সবার কাছে। কারণ, জাতীয় দলের হয়ে এটাই ওর জীবনের প্রথম দেশের বাইরে বাইরে আসা। ও যদি খেলে, এই জায়গাটায় মানিয়ে নিতে হবে। শুধু বোলিং নয়, ব্যাটিংয়েও ওর কাছ থেকে ভালো কিছু পেতে চাইব।’
এদিকে সিরিজের শেষ টি-২০ ম্যাচে আঙুলে চোট থেকে পুরোপুরি সেরে ওঠার আগেই দলের প্রয়োজনে ওয়েলিংটন টেস্ট খেলবেন তামীম, চোট পাওয়া ইমরুলকেও ওপেনিং পার্টনার হিসেবে পাচ্ছেন তামীম। তিনে মুমিনুল হক। এরপর মাহমুদউল্লাহ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান। প্রথম টেস্টের একাদশে আর একটি জায়গা নিয়ে গতকাল পর্যন্ত সিদ্ধান্তহীন টিম ম্যানেজমেন্টÑ সৌম্য সরকার, না মেহেদী হাসান মিরাজ? সর্বশেষ ২টি টি-২০ ম্যাচে ব্যাটিং ছন্দ ফিরে পাওয়ায় সৌম্য থাকছেন টিম ম্যানেজমেন্টের বিবেচনায় এগিয়ে।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর