Inqilab Logo

বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৩ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

আবারো মেসির ফ্রি-কিক যাদু

| প্রকাশের সময় : ১৩ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

স্পোর্টস ডেস্ক : ‘চুক্তি নিয়ে আলোচনার দরকার কি? তার চেক তাকেই লিখতে দিন না।’
খাঁদের কিনার থেকে আবারো দলকে উদ্ধার করার পর লিওনেল মেসিকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে একটি শীর্ষ ব্রিটিশ দৈনিকের প্রতিবেদনের প্রথম লাইন এটি। ক্যাম্প ন্যুতে পেরিয়ে গেছে ৭৭ মিনিট। কিন্তু অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের সাথে তখনও হিসাবটা মেলাতে পারেনি বার্সেলোনা। অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে দুই লেগ মিলে খেলায় তখন ৩-৩ সমতা। শঙ্কিত হাজার হাজার স্বাগতিক দর্শকদের ঠিক তখন স্বস্তি এনে দিলো মেসির ৩১তম ফ্রি-কিক গোল। বার্সাও পৌঁছে গেলো কোপা দেল রে’র শেষ আটে।
ম্যাচ শেষে কোচ বরাবর সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন-যে কোন মূল্যে মেসির চুক্তি নবায়ন করা উচিত কিনা? জবাবে লুইস এনরিকের উত্তর, ‘সংখ্যা সম্পর্কে আমি জানি না, শুধু এটা জানি আজ রাতেও সেই ছিল ম্যাচের ফল নির্নায়ক।’
নতুন বছরে তৃতীয় ম্যাচে এসে জয়ের দেখা পেলো বার্সা। তিন ম্যাচেই ফ্রি-কিক থেকে গোল পেলেন মেসি। প্রথম লেগে বিলবাওয়ের মাঠে ২-১ গোলে হারলেও মূল্যবান অ্যাওয়ে গোলটিও ফ্রি-কিক থেকেই করেন আর্জেন্টাইন তারকা। অপরটি ছিল লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে সেই হার এড়ানো ম্যাচে। বার্সার জার্সিতে আর একটি ফ্রি-কিক গোল করলেই আরেকটি ক্লাব রেকর্ড গড়বেন মেসি। এতদিন রেকর্ডটি ছিল রোনাল্ড কোইম্যানের (২৬)। বর্তমান এভারটন কোচ টুইটারে অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি মেসিকে।
অনেক দিন পর পরশু রাতে গোলের দেখা পান ‘এমএসএন’-এর বাকি দুই তারকা লুইস সুয়ারেজ ও নেইমারও। ১২০তম ম্যাচে এসে কাতালান জার্সিতে ১০০তম গোলের দেখা পেলেন সুয়ারেজ। বার্সার হয়ে তৃতীয় দ্রুততম গোলের রেকর্ড এটি। তার আগে আছেন কেবল স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মারিয়ানো মার্টিন (৯৯ ম্যাচ) ও হাঙ্গেরিয়ান স্ট্রাইকার লাজলো কুবালা (১০৩ ম্যাচ)। মেসি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন ১৮৮ ম্যাচে।
প্রথমার্ধে উরুগুয়ান স্ট্রাইকারের গোলেই এগিয়ে ছিল বার্সা। তার এই গোলের উৎসস্থলও ছিলেন মেসি। মাঝমাঠ থেকে দারুণ দক্ষতায় বলের দখল নিয়ে দু’জনকে পরাস্থ করে বাঁ প্রান্তে পাঠান নেইমারের কাছে। ক্ষিপ্র গতিতে এগিয়ে ডানপ্রান্তে ভাসিয়ে দেয়া নেইমারের ভয়ঙ্কর ক্রস সরাসরি বিদুৎগতির ভলিতে জালে পাঠান সুয়ারেজ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুন করেন নেইমার। প্রায় তিন মাস পর গোলের দেখা পেলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। কিন্তু স্বাগতিকদের ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার স্বস্তি মাত্র তিন মিনিটের ব্যবধানে কেড়ে নেন বিলবাও ডিফেন্ডার এনরিক সাবোরিত। ডানপ্রান্ত থেকে ভেসে আসা বল দারুণ এক হেডারে জালে পাঠান সাবোরিত। দুই দলই অ্যাওয়ে গোলের সুবিধা নিয়ে দুই লেগ মিলে খেলায় তখন ৩-৩ সমতা। বিলবাও কোনভাবে আরেকটি গোল করতে পালেই অথৈ সাগরে পড়তে হত বার্সাকে। কিন্তু সেই পাঠ চুকিয়ে দেন একজন মেসি।
‘এমএসএন’ ত্রয়ী গোলের দেখা পেলেও নেইমার-সুয়ারেজরা এদিনও ছিলেন গোল মিসের মহড়ায়। নইলে বড় ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারত বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এছাড়া প্রথমার্ধে সুয়ারেজের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল করা হয়। অথচ রিপ্লেতে দেখা যায় সুয়ারেজ অফসাইড ছিলেন না। শেষ দুই ম্যাচে রেফারির একাধিক সিদ্ধান্ত বার্সার বিপক্ষে যাওয়ার পর আবার এমন সিদ্ধান্ত! তবে চূড়ান্ত ফল এদিন পক্ষে থাকায় ম্যাচ শেষে কারো কাছ থেকে তেমন উচ্চবাচ্য শোনা যায়নি।
স্বস্তির আভাস মেলে এনরিকের কথাতে, ‘ভালোভাবেই আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ করেছি, তারা গোলটি করেছে একমাত্র সুযোগ থেকে। আমার খেলোয়াড়রা জানে শান্ত থেকে কিভাবে শুরু করতে হয়।’ প্রিয় শিষ্যের প্রসংশায় স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘লিওনেল মেসি ছিল ফল নির্ধায়ক, এটাই স্বাভাবিক এবং তার চেয়ে ভালো বিশ্বে আর কেউ হতে পারে না।’
আবারো বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হিসাবে বন্ধুকে স্বীকৃতি দিলেন সুয়ারেজও, ‘সে বিশ্বের সেরা এবং তা সে প্রতি ম্যাচেই দেখায়।’



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আবারো

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ