Inqilab Logo

শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯, ০২ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী
শিরোনাম

গ্যাস সঙ্কটে নাভিশ্বাস কুমিল্লার আবাসিক গ্রাহকদের দেখা মেলে সপ্তাহে একদিন

| প্রকাশের সময় : ১৪ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

সাদিক মামুন, কুমিল্লা থেকে : গ্যাস সঙ্কটে নাভিশ্বাস উঠেছে কুমিল্লার অন্তত ১২ হাজার আবাসিক গ্রাহকের। তবে সপ্তাহে ৬ দিন গ্যাস না থাকলেও প্রতি শুক্রবারে সকালের দিকে চুলোয় গ্যাস থাকাটা যেনো একধরনের নাটক বলে মনে করছেন। সপ্তাহে মাত্র একদিন সকালের দিকে কয়েকটি এলাকায় চুলোয় গ্যাসের প্রেসার মোটামুটি থাকা এবং বাকি ৬ দিন না থাকার কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না কুমিল্লা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের কর্মকর্তারা। তবে শুক্রবার সকালে চুলোয় অল্প প্রেসারে গ্যাস থাকার বিষয়টিকে ‘নাই মামার চেয়ে কানা মামাই ভালো’ বলে মনে করছেন নগরীর পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি এলাকার আবাসিক গ্রাহকরা। আর পশ্চিমাঞ্চলসহ যেসব এলাকায় শুক্রবারেও গ্যাস মিলছে না তারা বরাবরই হতাশ হয়ে বিকল্প ব্যবস্থায় অতিরিক্ত অর্থ গচ্ছা দিয়ে রান্নার কাজকর্ম সারছেন।
কুমিল্লার বিজিডিসিএল কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস না পাওয়ায় আবাসিক গ্রাহকরা কিছুটা গ্যাস সঙ্কটে ভুগছেন। কিন্তু কর্মকর্তাদের ওই কথার সাথে মিল নেই আবাসিক গ্রাহকের চুলোয় গ্যাস চলে যাওয়া ও আসার ঘটনায়। কেননা কুমিল্লায় নির্দিষ্ট করে বেশ কিছু এলাকায় প্রতিদিন সকাল ৮টার আগে পরে গ্যাস চলে যায় এবং বেলা আড়াইটার দিকে গ্যাস আসে। ভুক্তভোগী আবাসিক গ্রাহকরা জানান, তারা ঠিকমতো গ্যাস পাচ্ছেন না। আর এনিয়ে বিজিডিসিএল কর্মকর্তারা রীতিমত দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। এটা বিজিডিসিএলের কারিগরী সমস্যা। তারা এটা সমাধানের জন্য আন্তরিক নয় বলেই বেশ কিছু নর্দিষ্ট এলাকার আবাসিক গ্রাহক সময়মতো গ্যাস না পেয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। তবে শীতের এ সময়টিতে কেবল নগরীর পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় শুক্রবারে চুলোয় গ্যাসের প্রেসার মোটামুটি থাকে। তাও সকাল ১০টার পরে ফের প্রেসার কমতে থাকে। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন, শুক্রবার সকাল ১০টা-সাড়ে ১০টা পর্যন্ত গ্যাস থাকলে বাকি দিনগুলোতে এসময় পর্যন্ত গ্যাস থাকবে না কেনো? এটাতো একটা বড় রহস্য। বিজিডিসিএলকেই এ রহস্যের কারণ আবসিক গ্রাহকদের জানাতে হবে।
কুমিল্লা নগরী ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলছে আবাসিক গ্যাস সঙ্কট। অধিকাংশ এলাকার বাসা-বাড়িতে গ্যাসের প্রেসার কমে যাওয়ায় চুলোয় আগুনের তীব্রতা না থাকায় আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তির শেষ নেই। শীত আসার আগ থেকেই চলছিল এ সমস্যা। গ্রাহকরা কুমিল্লা বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন অফিসে আবাসিক গ্যাসের সমস্যা সমাধান করার ব্যাপারে একাধিকবার বলার পরও কর্মকর্তারা বিষয়টিতে নজর দিচ্ছেন না। ফলে পুরোদমে শীত শুরু হওয়ায় গ্যাস সঙ্কট আরও প্রকট হয়ে পড়েছে। কুমিল্লা নগরীর চাঁনপুর ও ইউপির চাঁনপুর, শুভপুর, চকবাজার, মোগলটুলি, সংরাইশ, নবগ্রাম, নলুয়াপাড়া, সুজানগর, পাথুরিয়াপাড়া, নুরপুর, তেলিকোনা, বাগিচাগাঁও, রেইসকোর্স, বিষ্ণুপুর, ছোটরা, অশোকতলা, কালিয়াজুরি, আশ্রাফপুর, শাকতলা এবং চৌয়ারা, বুড়িচংয়ের ময়নামতি, রামপুর ও সদর দক্ষিণ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। তারমধ্যে গত সপ্তাহ থেকে কেবল শুক্রবার সকাল ১০টা- সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চুলোয় গ্যাসের মোটামুটি বা চলনসই প্রেসার থাকে। তাও সব এলাকায় নয়। অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবারও যেসব এলাকায় গ্যাস সঙ্কট বিদ্যমান থাকে পশ্চিমাঞ্চলের এসব এলাকা হচ্ছে বাগিচাগাঁও, রেইসকোর্স, বিষ্ণুপুর, ছোটরা, অশোকতলা, কালিয়াজুরি, পুলিশ লাইন, ভাটপাড়া, টমছমব্রীজ, আশ্রাফপুর, গোবিন্দপুর, শাকতলাসহ আরও কিছু এলাকা।
এদিকে এসব এলাকার অন্তত ১২ হাজার গ্রাহকের চুলোয় গ্যাস না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় রান্নার জন্য প্রতিদিন কেরোসিনের চুলোর পেছনে প্রায় ৯ লাখ টাকা বাড়তি খরচ হচ্ছে। আবার এসব গ্রাহকের অনেকেই রয়েছেন যারা বিকল্প ব্যবস্থায় সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। এভাবে গ্যাসের জন্য ভোগান্তি ও বিকল্প জ্বালানি হিসেবে কেরোসিন ও সিলিন্ডারের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচে ভুক্তভোগী আবাসিক গ্রাহকরা আর্থিক দন্ডের মুখে পড়েছেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: গ্যাস


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ