Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

৩৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার জন্য

| প্রকাশের সময় : ১৫ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম


বিষয় : বাংলা (বিরচন অংশ)
শামসুল আলম
চেয়ারম্যান
ক্যারিয়ার গাইডলাইন

(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
১৪.    নীরব ভাষায় বৃক্ষ আমাদের সার্থকতার গান গেয়ে শোনায়। অনুভূতির কান দিয়ে সে গান শুনতে হবে। তাহলে বুঝতে পারা যাবে জীবনের মানে বৃদ্ধি, ধর্মের মানেও তাই। প্রকৃতির যে ধর্ম মানুষেরও সে ধর্ম। পার্থক্য কেবল তরুলতা ও জীবজন্তুর বৃদ্ধির উপর তাদের নিজেদের কোন হাত নেই, মানুষের বৃদ্ধির উপরে তার নিজের হাত রয়েছে। আর, এখানেই মানুষের মর্যাদা। মানুষের বৃদ্ধি কেবল দৈহিক নয়, আত্মিকও। মানুষকে আত্মা সৃষ্টি করে নিতে হয়, তা তৈরি পাওয়া যায় না। সুখ-দুঃখ-বেদনা উপলব্ধির ফলে অন্তরের যে পরিপক্বতা, তাই তো আত্মা।
সারাংশ:  বৃক্ষের সঙ্গে মানবজীবনের একটি জায়গায় মিল আছেÑবৃক্ষকে ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে হয়, মানুষকেও। আবার তরুলতা ও জীবজন্তুর সঙ্গে মানুষের সুস্পষ্ট পার্থক্যও আছে; তাদের বৃদ্ধি দৈহিক, মানুষের বৃদ্ধি শুধু দৈহিক নয়, আত্মিকও। মানুষকে নিজের সাধনায় আত্মাকে বিকশিত করেই জীবনে সার্থকতা অর্জন করতে হয়।
১৫.    বার্ধক্য তাহাইÑযাহা পুরাতনকে, মিথ্যাকে, মৃত্যুকে আঁকড়িয়া পড়িয়া থাকে। বৃদ্ধ তাহারাইÑযাহারা মায়াচ্ছন্ন, নব-মানবের অভিনব জয়যাত্রার শুধু বোঝা নয়, বিঘœ; শতাব্দীর নবযাত্রীর চলার ছন্দে ছন্দ মিলাইয়া যাহারা কুচকাওয়াজ করিতে জানে না, পারে না; যাহারা জীব হইয়াও জড়; যাহারা অটল সংস্কারের পাষাণস্তূপ আঁকড়িয়া আছে। বৃদ্ধ তাহারাইÑযাহারা নব-অরুণোদয় দেখিয়া নিদ্রাভঙ্গের ভয়ে দ্বার রুদ্ধ করিয়া পড়িয়া থাকে। আলোক-পিয়াসী প্রাণ চঞ্চল শিশুদের কল-কোলাহলে যাহারা বিরক্ত হইয়া অভিসম্পাত করিতে থাকে, জীর্ণ পুঁথি চাপা পড়িয়া যাহাদের নাভিশ্বাস বহিতেছে, অতিজ্ঞানের অগ্নিমান্দ্যে যাহারা আজ কঙ্কালসারÑবৃদ্ধ তাহারাই।
সারাংশ:  : পুরোনা ধ্যান-ধারণাকে যারা আঁকড়ে থাকে তারাই বৃদ্ধ। তাদের চিন্তা-চেতনা ও জ্ঞান অতীতমুখী নতুনকে তারা গ্রহণ করতে নারাজ। ফলে তাদের ধ্যান-ধারণা জাতীয় জীবনের অগ্রগতি ও নব চেতনার অন্তরায়।
১৬.    বাল্যকাল হইতে আমাদের শিক্ষার সহিত আনন্দ নাই। কেবল যাহা কিছু নিতান্ত আবশ্যক, তাহাই কণ্ঠস্থ করিতেছি। তেমন করিয়া কোন মতে কাজ চলে মাত্র, কিন্তু মনের বিকাশ লাভ হয় না। হাওয়া খাইলে পেট ভরে না, আহার করিলে পেট ভরে কিন্তু আহারটি রীতিমত হজম করিবার জন্য হাওয়ার দরকার। তেমনি একটি শিক্ষা পুস্তককে রীতিমত হজম করিতে অনেকগুলি পাঠ্য পুস্তকের সাহায্য আবশ্যক। ইহাতে আনন্দের সহিত পড়িতে পারিবার শক্তি অলক্ষিতভাবে বৃদ্ধি পাইতে থাকে। গ্রহণ শক্তি, ধারণা শক্তি, চিন্তা শক্তি বেশ সহজে এবং স্বাভাবিক নিয়মে ফললাভ করে।
সারাংশ:  প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার একটা বড় সীমাবদ্ধতা শিক্ষার সঙ্গে আনন্দের যোগ নেই। ফলে শিশুর মনের যথাযথ বিকাশ ঘটছে না। শিক্ষাকে কেবল পাঠ্যবই নির্ভর হলে চলে না সেই সঙ্গে চাই পাঠ-সহায়ক আনন্দকর শিক্ষা উপকরণ। শিক্ষার সঙ্গে চাই পাঠ-সহায়ক আনন্দকর শিক্ষা উপকরণ। শিক্ষার সঙ্গে আনন্দের যোগ হলে শিশুর গ্রহণ ক্ষমতা, চিন্তা শক্তি ও ধারণা শক্তির স্বাভাবিক বিকাশ ঘটে।
১৭.    বিদ্যা মানুষের মূল্যবান সম্পদ, সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। কিন্তু চরিত্র তদপেক্ষাও মূল্যবান। অতএব, কেবল বিদ্বান বলিয়াই কোন লোক সমাদর লাভের যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইতে পারে না। চরিত্রহীন লোক যদি নানা বিদ্যায় আপনার জ্ঞানভা-ার পূর্ণ করিয়াও থাকে, তথাপি তাহার সঙ্গ পরিত্যাগ করাই শ্রেয়। প্রবাদ আছে যে, কোন কোন বিষধর সর্পের মস্তিষ্কে মণি থাকে। মণি মহামূল্যবান পদার্থ বটে; কিন্তু তাই বলিয়া যেমন মণি লাভের নিমিত্ত বিষধর সর্পের সাহচর্য করা বুদ্ধিমানের কার্য নহে, সেইরূপ বিদ্যা আদরণীয় হইলেও, বিদ্যালাভের নিমিত্ত বিদ্বান দুর্জনের নিকট গমন বিধেয় নহে। কেননা, দুর্জনের সাহচর্যে আপনার নিষ্কলুষ চরিত্রও কলুষিত হইতে পারে, এবং এইরূপে মানব-জীবনের অমূল্য সম্পদ নষ্ট হইতে পারে।
সারাংশ:  বিদ্যা নিঃসন্দেহে মূল্যবান সম্পদ; কিন্তু চরিত্র তার চেয়েও বেশি মূল্যবান। তাই বিদ্বান লোক চরিত্রহীন হলে তিনি সমাদর লাভে বঞ্চিত হন। তার সাহচার্যও পরিত্যাজ্য। কারণ, চরিত্রহীন লোকের সাহচর্যে ভাল মানুষের স্বভাও নষ্ট হয়ে যায়।
১৮.    ভবিষ্যতের ভাবনা ভাবাই হল জ্ঞানীর কাজ। পিঁপড়ে-মৌমাছি পর্যন্ত যখন ভবিষ্যতের জন্য ব্যতিব্যস্ত তখন মানুষের কথা বলাই বাহুল্য। ফকির-সন্ন্যাসী যে ঘর-বাড়ি ছেড়ে আহার-নিদ্রা ভুলে পাহাড়-জঙ্গলে চোখ বুঁজে বসে থাকে, সেটা যদি নিতান্ত গঞ্জিকার কৃপায় না হয়, তবে বলতে হবে ভবিষ্যতের ভাবনা ভেবে। সমস্ত জীব-জন্তুর দুটো চোখ সামনে থাকবার মানে হল ভবিষ্যতের দিকে যেন নজর থাকে। অতীতের ভাবনা ভেবে লাভ নেই। প-িতেরা-ত বলে গেছেন, গতস্য শোচনা নাস্তি’। আর বর্তমান সে-ত নেই বললেই চলে। এই যেটা বর্তমান সেইÑএই কথা বলতে বলতে অতীত হয়ে গেল। কাজেই তরঙ্গ গোনা আর বর্তমানের চিন্তা করা, সমানই অনর্থক। ভবিষ্যৎটা হল আসল জিনিস। সেটা কখনও শেষ হয় না। তাই ভবিষ্যতের মানব কেমন হবে, সেটা একবার ভেবে দেখা উচিত।
সারাংশ:  সত্যিকারের চিন্তাশীল মানুষ মাত্রই ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবিত হন। অতীত গত হয়েছে বলে গুরুত্বহীন, আর বর্তমানও এত ক্ষণস্থায়ী যে তাও গুরুত্ব পেতে পারে না। তাই চিন্তার ক্ষেত্রে অতীতচারিতা যেমন অর্থহীন, বর্তমানকে আঁকড়ে থাকাও তেমনি নিরর্থক। বস্তুত ভবিষ্যৎকে উজ্জ্বল করার জন্যে ভবিষ্যতের কর্মপন্থা নিয়ে ভাবনা-চিন্তাই দূরদর্শিতার লক্ষণ।
১৯.    মাতৃস্নেহের তুলনা নাই, কিন্তু অতি স্নেহ অনেক সময় অমঙ্গল আনয়ন করে। যে স্নেহের উত্তাপে সন্তানের পরিপুষ্টি, তাহারই আধিক্যে সে অসহায় হইয়া পড়ে। মাতৃহৃদয়ের মমতার প্রাবল্যে মানুষ আপনাকে হারাইয়া আপন শক্তি, মর্যাদা বুঝিতে পারে না। নিয়ত মাতৃস্নেহের অন্তরালে অবস্থান করিয়া আত্মশক্তির সন্ধান সে পায় নাÑদুর্বল, অসহায় পক্ষিশাবকের মতো চিরদিন স্নেহাতিশয্যে আপনাকে সে একান্ত নির্ভরশীল মনে করে। ক্রমে জননীর পরম সম্পদ সন্তান অলস, ভীরু, দুর্বল ও পরনির্ভরশীল হইয়া মনুষ্যত্ব বিকাশের পথ হইতে দূরে সরিয়া যায়। অন্ধ মাতৃস্নেহ সে কথা বুঝে না।
সারাংশ:  মাতৃস্নেহ অতুলনীয় হলেও তার মাত্রাতিরিক্ত প্রশ্রয়ে সন্তান হয়ে পড়ে পরনির্ভরশীল ও আত্মশক্তিহীন। তার মনুষ্যত্ব বিকাশের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অন্ধ মাতৃস্নেহ শেষ পর্যন্ত সন্তানের অমঙ্গলের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
২০.    মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ প্রাণী। জগতের অন্যান্য প্রাণীর সহিত মানুষের পার্থক্যের কারণÑমানুষ বিবেক ও বুদ্ধির অধিকারী। এই বিবেক, বুদ্ধি ও জ্ঞান নাই বলিয়া আর সকল প্রাণী মানুষ অপেক্ষা নিকৃষ্ট। জ্ঞান ও মনুষ্যত্বের উৎকর্ষ সাধন করিয়া মানুষ জগতের বুকে অক্ষয় কীর্তি স্থাপন করিয়াছে, জগতের কল্যাণ সাধন করিতেছে; পশুবল ও অর্থবল মানুষকে বড় বা মহৎ করিতে পারে না। মানুষ বড় হয় জ্ঞান ও মনুষ্যত্বের বিকাশে। জ্ঞান ও মনুষ্যত্বের প্রকৃত বিকাশে জাতির জীবন উন্নন হয়। প্রকৃত মানুষই জাতীয় জীবনের প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন আনয়নে সক্ষম।
সারাংশ:  জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও মনুষ্যত্বের অধিকারী বলে মানুষ সৃষ্টির সেরা প্রাণী। পাশব শক্তি ও বিত্তের দাপট মানুষকে বড় করে তোলে না। জ্ঞান ও মনুষ্যত্বের পরিপূর্ণ বিকাশের মাধ্যমে মানুষ যথার্থ মানুষ হয়ে ওঠে। এ ধরনের মানুষের অবদানেই অর্জিত হয় জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতি।
২১.    মানুষের এক বড় সৃষ্টি তার সাহিত্য। তার বৈচিত্র্যময় জীবনের অনন্ত ধারা দিয়ে মানুষ সাহিত্যের নানা শাখাকে নানা রসে সমৃদ্ধ করে তুলেছে। যুগ যুগ ধরে মানুষের এই অনন্ত-জীবনের সাধনা চলেছে। এ সাধনার শেষ নেই, এর চরম বিকাশ নেই। মানুষের মনোরাজ্যের লীলাখেলা কল্পলোকের বিচিত্র সুরধ্বনি হয়েছেÑসাহিত্য সৃষ্টির গোড়া। মানুষের চিন্তারাজ্যের এই জয়যাত্রা রুদ্ধ হতে পারে নাÑ যেখানে যে মানুষের মধ্যে এই চিন্তার স্রোত রুদ্ধ হয়ে এসেছে, সেখানে তার জীবনও স্থবির হয়ে গেছে। গতিহীন যে, সে তো সম্মুখে অগ্রসর হতে পারে নাÑতার অকাল মৃত্যু অনিবার্য।
সারাংশ:  সাহিত্য মানুষের এক মহৎ সৃষ্টি। তা গড়ে উঠেছে অনন্তকাল ধরে অর্জিত মানুষের মনোজাগতিক সম্পদে। মানুষের   চিন্তারাজ্যের অনিরুদ্ধ স্রোতে এর সৃষ্টি বলে সাহিত্য সাধনার বিষয়টিও চিরন্তন। মানুষের চিন্তাস্রোত সেখানে রুদ্ধ, জীবন সেখানে স্থবিরÑতা অকাল মৃত্যুর লক্ষণ।
২২.    মানুষের জীবনকে একটি দোতলা ঘরের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। জীব-সত্তা সেই ঘরের নিচের তলা, আর মানব-সত্তা বা মনুষ্যত্ব উপরের তলা। জীব-সত্তার ঘর থেকে মানব-সত্তার ঘরে উঠবার মই হচ্ছে শিক্ষা। শিক্ষাই আমাদের মানব-সত্তার ঘরে নিয়ে যেতে পারে। অবশ্য জীব-সত্তার ঘরেও সে কাজ করে; ক্ষুৎ পিপাসার ব্যাপারটি মানবিক করে তোলা তার অন্যতম কাজ। কিন্তু তার আসল কাজ হচ্ছে মানুষকে মনুষ্যত্বলোকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। অন্য কথায় শিক্ষার যেমন প্রয়োজনের দিক আছে, তেমনি অপ্রয়োজনের দিকও আছে, আর অপ্রয়োজনের দিকই তার শ্রেষ্ঠ দিক। সে শেখায় কী করে জীবনকে উপভোগ করতে হয়, কী করে মনের মালিক হয়ে অনুভূতি ও কল্পনার রস আস্বাদন করা যায়।
সারাংশ:  অন্য সব প্রাণীর মতো জীব-সত্তার অধিকারী হলেও মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মূলে রয়েছে তার মানব-সত্তা বা মনুষ্যত্ব। মানুষ মনুষ্যত্ব অর্জন করে শিক্ষার মাধ্যমে। শিক্ষাই তার অন্তরকে আলোকিত করে, তার মধ্যে রসবোধ জাগায় এবং জীবনকে সুন্দরভাবে উপভোগ করতে শেখায়।
২৩.  মানুষের মূল্য কোথায়? চরিত্র, মনুষ্যত্ব, জ্ঞান ও কর্মে। বস্তুতত চরিত্র বলেই মানুষের জীবনে যা কিছু শ্রেষ্ঠ তা বুঝতে হবে। চরিত্র ছাড়া মানুষর গৌরব করার আর কিছুই নেই। মানুষের শ্রদ্ধা যদি মানুষের প্রাপ্য হয়, সে শুধু চরিত্রের জন্য। অন্য কোন কারণে মানুষের মাথা মানুষের সামনে নত হবার দরকার নেই।
জগতে যে সকল মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করেছেন, তাঁদের গৌরবের মূলে এই চরিত্র শক্তি। তুমি চরিত্রবান লোক, এই কথার অর্থ এই নয় যে, তুমি শুধু লম্পট নও। তুমি সত্যবাদী, বিনয়ী এবং জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ কর; তুমি পরদুঃখকাতর, ন্যায়বান এবং মানুষের ন্যায় স্বাধীনতাপ্রিয়। চরিত্রবান মানে এই।
সারাংশ:  মানুষের সত্যিকারের মর্যাদা নির্ভর করে চরিত্র, মনুষ্যত্ব, জ্ঞান ও কর্মের উপর। এসবের মধ্যে চরিত্রই মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। চরিত্র-গুণই মানুষ শ্রদ্ধার আসন পায়। চরিত্রবান বলতে সত্যবাদী, বিনয়ী, জ্ঞানী, পরহিতব্রতী, ন্যায়বান ও স্বাধীনতাপ্রিয় সজ্জন লোককে বোঝায়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।