Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

ফুল যখন আয়ের উৎস

প্রকাশের সময় : ১৫ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম | আপডেট : ১২:০৭ এএম, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৭

আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই ফুলের চাহিদা থাকে। বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে ফুলের চাহিদা থাকে আকাশচুম্বী। ফুল পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান ছাড়াও গৃহসজ্জার জন্য মানুষ ফুল ব্যবহার করে থাকে। এছাড়াও প্রিয়জনকে ফুল উপহার দিয়ে থাকে। তাই জীবিকা নির্বাহে বেকারত্বের হাত থেকে বাঁচার জন্য আকর্ষণীয় একটি পেশা হতে পারে এই ফুলের ব্যবসা। যা আপনার ভবিষ্যৎ জীবনকে সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করবে।

স্থান নির্বাচন
ফুলের দোকানের জন্য স্থান নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ ভালো জায়গায় যদি দোকান না দেয়া হয় তাহলে ব্যবসায়ে সফলতার সম্ভাবনা কম বলে মনে করেন, শাহবাগের মুক্তি ফ্লাওয়ার্সের মালিক ফারুক হোসেন। তাই ফুলের দোকান দেয়ার জন্য বাজারে কেন্দ্র বা যেসব স্থানে বেশি লোক সমাগম হয় সেসব স্থানে দোকান দিলে লাভ বেশি হবে।

প্রয়োজনীয় উপকরণ
শাহবাগের মৌ পুষ্পালয়ের মালিক আলাউদ্দীন বলেন, ফুলের দোকানের জন্য একটি ছিমছাম ঘর ভাড়া করতে হবে। এর সাথে প্রয়োজনীয় কিছু উপকরণ লাগবে যেমনÑ মাটির ফুলদানি, বালতি, মগ, কাঁচি, ব্লেড, কাঠের সেলফ, স্কচটেপ, রঙিন কাপড়, সেলোফিন পেপার, র‌্যাপিং পেপার ইত্যাদি। উপকরণগুলো সাপ্তাহিক ব্যবহারের জন্য কিনতে হবে, তবে এগুলো বেশি পরিমাণে কিনে রাখলে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই প্রতি সপ্তাহের জন্য কিনে ব্যবহার করা ভালো। উপরের উপকরণগুলো কিনতে ১৮০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

পরিচালনা করবেন যেভাবে
ফুলের দোকান কিভাবে পরিচালনা করবেন সে সম্পর্কে শাহবাগের মুক্তা পুষ্পালয়ের মো. জাকির হোসেন বলেন, ফুলের দোকান পরিচালনার জন্য নিয়ম-কানুন ভালো করে জানতে হয়। দোকান নির্বাচন করার পর দোকানে কাঠের সেলফগুলো সুন্দর করে সাজাতে হবে এবং উপরে মাটির ফুলদানিতে ফুল সাজিয়ে রাখলে কাজ সহজ হবে। ভিন্ন ভিন্ন ফুলদানিতে ভিন্ন ভিন্ন ফুল রাখতে হবে। এছাড়া আপনি বেত বা বাঁশের ঝুড়িতে ফুল বিক্রয়ের জন্য ফুল সাজিয়ে রাখতে পারেন। ফুল টাটকা ও সতেজ রাখার জন্য ফুলের উপর মাঝে মাঝে পরিষ্কার পানি ছিটিয়ে দিতে পারেন। এতে ফুলও সতেজ থাকবে এবং ফুলের গন্ধও ভালো থাকবে। আবার যেসব ফুল সহজেই নষ্ট হয় সেসব ফুল কম রাখাই ভালো। তবে মনে রাখতে হবে ফুলগুলো যেন সবসময় টাটকা ও সতেজ থাকে এবং দোকান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। তা না হলে ক্রেতারা দোকানের প্রতি আকৃষ্ট নাও হতে পারে।

কী কী ফুল রাখতে পারেন
ফুলের চাহিদার ওপর ব্যবসা অনেকখানি নির্ভর করে। কারণ, ক্রেতার চাহিদা ব্যবসায় সাফল্যের মূলকথা। যেমন- গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, গ্লাডিওলাস, অর্ডিক, দোলনচাঁপা, পদ্ম, জিনিয়া, ডালিয়া, ঝাড়বেরা, চাইনিজ গাঁদা, জিপসি ইত্যাদি ফুলের চাহিদা সব সময় বেশি থাকে। তাই এসব ফুল দোকানে বেশি রাখতে পারেন।

মূলধন ও প্রশিক্ষণ
স্থায়ী উপকরণ ও সাপ্তাহিক প্রয়োজনীয় দ্রব্য কেনার টাকা ছাড়াও প্রতিদিন ফুল কেনার জন্য ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। দোকান ভাড়া নেয়ার জন্য আরো কিছু টাকা প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া ব্যক্তিগত পুঁজি না থাকলে ঋণদানকারী সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিতে পারেন। ফুলের ব্যবসায় যারা একেবারে নতুন। তারা অভিজ্ঞ কারোর সহকারী হিসেবে কাজ করে শিখে নিতে পারেন। কিভাবে কাজ করতে হবে  এবং ফুলের তোড়া কিভাবে সাজাতে হয় তা জানতে হবে। অন্যান্য খুঁটিনাটিও জেনে নিতে পারবেন।

আয়
দোকানে ফুল দিয়ে ঘর সাজানো, গাড়ি সাজানো বা নানাভাবে ফুল সাজানোর ছবিসহ এক বা একাধিক বই রাখলে ভালো হয়। ক্রেতা তা দেখে অর্ডার দিতে পারে। ফুল ব্যবসায় মাসে ১২ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করা তেমন কোন কঠিন কাজ নয়। এছাড়া ফুলের দোকানে ব্যবসা দুইভাবে করা যা। খুচরা ফুল, ফুলের তোড়া বিক্রয় করে। আবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ক্রেতাদের নির্দেশ অনুযায়ী ঘরবাড়ি বা গাড়ি সাজিয়ে দিয়ে তার বিনিময়ে ফুলের দাম ও মজুরি পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে লাভের পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।
১ তামান্না তানভী



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।