Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার ২২ মে ২০১৯, ০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১৬ রমজান ১৪৪০ হিজরী।

নবীনদের পদচারণায় মুখরিত জবি ক্যাম্পাস

প্রকাশের সময় : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

নাইমুর রহমান নাবিল : বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার অন্যতম বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। রাজধানীর অন্যতম প্রবেশদ্বার বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতোমধ্যে অতিবাহিত হয়েছে প্রতিষ্ঠার এক দশক। এরই সঙ্গে যোগ হলো শিক্ষার্থীদের আরও একটি ব্যাচ। গান আড্ডা ও বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয়ে সবাই যেন ব্যস্ত। ভর্তিযুদ্ধে জয়ী হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য দিনটি ছিল সত্যিই অনেক আনন্দের। চান্স পাওয়ার পর প্রত্যেকেই ক্যাম্পাস নিয়ে মনে মনে আঁকতে থাকে নানা স্বপ্ন, নানা পরিকল্পনা। প্রস্তুতি নিতে থাকে ক্যাম্পাসের প্রথম দিন কীভাবে কাটাবে এবং কী করবে। প্রবীণরাও প্রস্তুতি নিতে থাকে কীভাবে নবীনদের বরণ করে নেয়া যায়। প্রস্তুতি শেষে ওরিয়েন্টেশনের দিনেই সেটি প্রকাশ পায়। সবাই ভেসে যায় আনন্দের জোয়ারে। নানা আয়োজন আর আনন্দঘন পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃত স্নাতক (সম্মান) প্রথমবর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ওরিয়েন্টেশন ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পাস মেতেছিল উৎসবের আমেজে। নবীন ছাত্রছাত্রীরা সকাল থেকেই ক্যাম্পাসে আসতে শুরু করে। অনেক নবীনের সঙ্গে আবার তাদের অভিভাবকদেরও দেখা গেছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের প্রবীণরাও এসেছেন সাজগোজ করে নানা আয়োজনে নবীনদের বরণ করে নিতে। প্রবীণ ছাত্রীদের কেউ কেউ শাড়ি পরে ও ছেলেরা এসেছে পাঞ্জাবি অথবা শার্ট-কোর্ট-টাই পরে। প্রত্যেক বিভাগে পৃথক পৃথকভাবে বিভাগীয় প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় ওরিয়েন্টেশন ক্লাস। ওরিয়েন্টেশন ক্লাসে স্ব স্ব বিভাগের শিক্ষক ও নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষকরা নবীনদের রজনীগন্ধা ও গোলাপ ফুল উপহার দেয়ার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে স্বাগত জানান। এ সময় শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতিমূলক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলার জন্য নবীনদের প্রতি আহ্বান জানান। প্রবীণরাও নবীনদের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে, বিতরণ করছে রজনীগন্ধা ও লাল গোলাপ। বাদ যায়নি মিষ্টি বিতরণ পর্বও। নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সবাই যখন স্ব স্ব বিভাগ থেকে বেরিয়ে আসে তখনই আনন্দের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। সবার হাতে হাতে ফুল, সবাই একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে। অনেকে ব্যস্ত গ্রুপ সেলফি তোলায়। অনেকে আবার বসে পড়েছে আনন্দ আড্ডায়। ক্যাম্পাসে পুরোটা দিন অতিবাহিত হয়েছে এমনই এক আনন্দঘন পরিবেশে। আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন নিয়ে নতুন ক্যাম্পাসে নতুন জীবনের শুরু! সত্যিই এক অন্যরকম অনুভূতি। ক্যাম্পাসের এই প্রথমদিনে কথা হয় মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের নবীন ছাত্র তালিব, আইন বিভাগের মাসুম, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জিহান ও জনপ্রশাসনের ছাত্র নোমানের সঙ্গে। তারা প্রথম দিনের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, আমরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরে সত্যিই অনেক আনন্দিত। কেননা বিশ্ববিদ্যালয়টি রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। আবাসিক হলের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য সমস্যা হবে। তবুও এই ঐতিয্যবাহী প্রতিষ্ঠানের অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত। গত ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের উদ্যোগে ‘নবীনদের পরিচিতি-পর্ব ও বরণ অনুষ্ঠান-২০১৬’ বিভাগীয় কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ছিলেন ভিসি অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম এবং সঞ্চালনা করেন প্রভাষক মো. শরীফুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ড. আরজুমন্দ আরা বানু। ভিসি স্যার নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠান শেষে বিভাগীয় ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আইন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সরকার আলী আককাস নবীনদের অভিনন্দন জানিয়ে ইনকিলাবকে বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান হয় সেমিস্টার সিস্টেমে। আর সেমিস্টার সিস্টেমে শিক্ষার্থীদের ফাঁকি দেয়ার সুযোগ খুব কম। শিক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে আশা করব ছাত্রছাত্রীরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মীজানুর রহমান ভর্তিযুদ্ধে জয়ী নবীনদের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রতিযোগিতার যুগে সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। নতুন ক্যাম্পাসে নতুন শিক্ষার্থী হিসেবে সবাইকে ক্যাম্পাস গড়ার কাজেও অংশীদার হতে হবে। সবার সহযোগিতা, আন্তরিকতা ও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বিকাশের মাধ্যমেই এ বিশ্ববিদ্যালয় একদিন দেশ-বিদেশে সুনাম ছড়িয়ে দেবে। তিনি আরো বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটছে। ফলে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের মাঝে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দের জন্য শীর্ষে রয়েছে। সাহিত্য বোধহীন মানুষ মৃত মানুষের তুল্য। বিভিন্ন আড্ডা চক্রের মাধ্যমে পৃথিবীর সকল সাহিত্য হতে শিক্ষা নিতে হবে। বর্তমান কারিকুলাম পরিবর্তনের মাধ্যমে একাডেমিক শিক্ষা ব্যবস্থার আরো উন্নতি সাধন করতে হবে।
উল্লেখ, প্রতিষ্ঠালগ্নে মাত্র ৪৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও আজ প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে দেড়শ’ বছরের পুরনো এ বিদ্যাপীঠটিতে। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রার পর হাঁটি হাঁটি পা পা করে ১১ বছরে পদার্পণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদের অধীনে ৩২টি বিভাগ রয়েছে। বর্তমানে শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ১ হাজার। ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে সকল বিভাগে সেমিস্টার পদ্ধতিতে পাঠদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের প্রাণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ