Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ০৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

ক্যাম্পাস আড্ডায় শীতের পিঠা

গ ণ বি শ্ব বি দ্যা ল য়

| প্রকাশের সময় : ১৬ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেও সূর্যি মামার দেখা নেই। চারদিক কুয়াশার সাদা চাদরে মোড়া। সারা দিনে একবারের জন্যও উঁকি দেননি তিনি। দেখলেই বোঝা যায় প্রকৃতিতে এসেছে শীত। ছোটবেলাই প্রিয় ঋতু নিয়ে রচনা লেখার সময় সবাই শীতকে প্রিয় ঋতু হিসেবে লিখত। শীতের প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর সজীবতা যার অন্যতম কারণ। ক্যাম্পাস জীবনে শীত আসে শিক্ষার্থীদের মাঝে আনন্দের বার্তা নিয়ে।
অন্যান্য ক্যাম্পাস যখন নগরজীবনের যান্ত্রিকতায় পিষ্ঠ তখন ঢাকা শহর থেকে মাত্র ২৭ কিলোমিটার দূরে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতি ও পরিবেশটা অনেকটাই গ্রামীণ আবহে তৈরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে বংশী নদী। এ কারণে শীতের প্রকোপটা অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারদিকেই রয়েছে গ্রাম। আর তাই গণবিতে শীতের আগমন কোনোভাবেই গ্রাম থেকে আলাদা
শীতের আগমন বুঝা যায় গোধূলির সোনালী সূর্য অস্ত যাওয়ার আগেই ঘন কুয়াশার চাদরে আঁকড়ে ধরা প্রকৃতির দিকে তাকালে। হাড়ে কাঁপন ধরানো হিমেল বাতাসে ক্যাম্পাসের সবার গায়েই এখন শীতের গরম কাপড়। শুধু তাই নয়, বাহারি রংয়ের আর ডিজাইনের গরম কাপড়ের ফ্যাশন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ একাডেমিক ভবনের সামনের খেজুর গাছ তলার নিচে বিক্রি শরীয়তপুরে সিরি বেগম খালার পিঠা। তার সংসার চলে এ পিঠা বিক্রির টাকা দিয়ে। শীতের পিঠা-পুলির উৎসব বলতে পিঠার দোকানকেই বুঝায়। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত দোকানে মিলে শীতের বিভিন্ন রকম পিঠা। আর শীতের এই পিঠার স্বাদ নিতে সারাক্ষণ এই দোকানে ভিড় লেগেই থাকে।
ক্যাম্পাসের ছোট্ট পিঠার দোকানে বন্ধুরা মিলে যখন একসঙ্গে পিঠা খাওয়া হয় তখন নিজের অজান্তেই ক্ষণিকের জন্য মনে পড়ে যায় গ্রামের বাড়িতে চুলার ধারে বসে মায়ের হাতের পিঠা খাওয়ার কথা। তাই তো পরিবার-পরিজন থেকে শত শত মাইল দূরে ক্যাম্পাস যেন আরেকটা পরিবার।
শীতের পিঠা নিয়ে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নিশু বলেন, পিঠা খাওয়ার সাধ সুযোগমতো না হয় ক্যাম্পাসের পিঠা বিক্রেতার কাছ থেকে কিনে খেয়েও মেটানো যাবে। কিন্তু বাড়িতে পিঠা বানিয়ে সবাই একত্রে পিঠা খাওয়ার আয়োজনের আনন্দ তো তাতে মিলবে না। তবে শীতের পিঠা ছাড়া বাংলার শীত পরিপূর্ণ হয় না।
কথায় আছে কারও পৌষমাস আবার কারও সর্বনাশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য শীতকাল অন্যরকম আনন্দবার্তা নিয়ে এলেও খেটে খাওয়া বস্ত্রহীন মানুষের জন্য হয়ে উঠে পীড়াদায়ক। তাই তো শিক্ষার্থীরা মিলে এসব শীতার্ত মানুষগুলোর মুখে হাসি ফোটানোর জন্য শীতবস্ত্র বিতরণ করে থাকে। ভূপেন হাজারিকার ‘মানুষ মানুষের জন্য/জীবন জীবনের জন্য’ গানটির চর্চাটা যেন শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এসব শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই।
ষ মুন্নি আক্তার, ছবি- শাহাদাত রাফি



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।