Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ০৪ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরী

লাখো কণ্ঠে আমিন ধ্বনি

বিশ্ব ইজতেমার ১ম পর্বের আখেরী মোনাজাতে বিশ্বশান্তি ও কল্যাণ কামনা

| প্রকাশের সময় : ১৬ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম


দ্বিতীয় পর্ব শুরু ২০ জানুয়ারি
মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. হেদায়েত উল্লাহ : মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও নিজ নিজ গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করার জন্য দুই হাত তুলে মহান আল্লাহর দরবারে রহমত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে রবিবার শেষ হয়েছে তাবলীগ জামাত আয়োজিত ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব।
এর আগে বেলা ১১ টায় ইজতেমা ময়দানে লাখো লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে আখেরী মোনাজাত শুরু হয়। বিশেষ তাৎপর্য ও ফজিলতপূর্ণ আখেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলীগ জামাতের দিল্লির মারকাজের শূরা সদস্য হযরত মাওলানা মুহাম্মদ সা’দ। তিনি আরবি ও উর্দু ভাষায় মোনাজাত করেন।
এ সময় ‘আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন’ ধ্বনিতে মধ্যাহ্নের আকাশ-বাতাস মুখরিত করে মহামহিম ও দয়াময় আল্লহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় লাখো লাখো মুসল্লি আকুতি জানান।
মাওলানা মোহাম্মদ সা’দ মোনাজাতে বলেন, বিশ্ব ইজতেমার উদ্দেশ্য হলো, বিশ্বময় দাওয়াতে তাবলীগের কাজ চালু করা। ইজতেমায় আগত প্রত্যেকের অন্তরে সংকল্প করতে হবে যে, আমি মৃত্যু পর্যন্ত দাওয়াতের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখব। কারণ, এ কাজ ছিলো নবী এবং সাহাবাদের কাজ। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন, এটাই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে বুঝে-সুঝে দাওয়াত দেই, আমি এবং আমার অনুসারীরা। প্রত্যেক নবীই মানুষকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন। কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি আপনার পূর্বে প্রত্যেক রাসূলের নিকট এই মর্মে প্রত্যাদেশ প্রেরণ করেছি যে, আমি ব্যতীত ইবাদতের উপযুক্ত কেউ নেই। সুতরাং তোমরা আমার ইবাদত করো।’ নবীরা কালেমার জিকিরের চেয়ে কালেমার দাওয়াত দিতেন বেশি। কালেমার জিকিরের সময় অন্তরে অন্যকিছুর চিন্তা-ভাবনা আসা অস্বাভাবিক বিষয় নয়। কিন্তু দাওয়াতের বেলায় গায়রুল্লাহ তথা অন্যকিছুর চিন্তা মনে উদয় হয় না। এ জন্য দাওয়াতের কাজ করতেন বেশি বেশি। যুগের পরিবর্তনে দাওয়াতের কাজে কোনো পরিবর্তন সাধিত হবে না। যেমন, মিসওয়াক করা প্রিয় নবীজীর সুন্নত। যুগের পরিবর্তনে তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
অতএব, নবীজী এবং সাহাবায়ে কেরাম যেভাবে দাওয়াত দিয়েছেন, ঠিক সেভাবেই আমাদেরকে দাওয়াত দিতে হবে।
সাহাবায়ে কেরাম দাওয়াতের কাজ নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছিলেন বিশ্বময়। তাদের দাওয়াতের উসিলায় পৃথিবীতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইসলাম তরবারির জোরে নয় বরং দাওয়াত এবং সাহাবাদের উন্নত চরিত্রের বদৌলতে প্রসার লাভ করেছে। সাহাবাদের দাওয়াত ছিল একক পদ্ধতির। সেটা হলো, মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে দাওয়াত প্রদান করা। সাহাবারা নিজেদের জান-মাল ও সময় ব্যয় করে দাওয়াতের কাজ করেছেন। যে কাজে জান-মাল খরচ হয় সে কাজের সঙ্গে ভালোবাসা তৈরি হয়। দাওয়াতের সঙ্গে ছিল সাহাবাদের অসম্ভব ভালোবাসা। তারা ছিলেন দ্বীনের সাহায্যকারী। ফলে আল্লাহতায়ালাও তাদের  জন্য সাহায্যের দরজা উন্মুক্ত রেখেছেন।
রবিবার আখেরী মোনাজাতের আগে তাৎপর্যপূর্ণ হেদায়েতি বয়ানের পর লাখো মানুষের প্রতীক্ষার অবসান ঘটে বেলা ১১টার দিকে। ইজতেমা মাঠের জনসমুদ্রে হঠাৎ নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। যে যেখানে ছিলেন সেখানে দাঁড়িয়ে কিংবা বসে দুই হাত তুলে আল্লাহর দরবারে মোনাজাতে শামিল হন এবং বহু মুসল্লি কান্নায় বুক ভাসান।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ তার পরিবারের সদস্যবর্গ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের নিয়ে বঙ্গভবনের দরবার হলে বসে বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাতে শামিল হন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানী ঢাকায় গণভবনে বিশ্ব ইজতেমার আখেরী মোনাজাতে শরিক হন। বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এমপি তার বাসভবনে এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গুলশানের কার্যালয়ে বসে আখেরী মোনাজাতে অংশ নেন।
শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে স্থাপিত জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোলরুমে বসে আখেরী মোনাজাতে অংশ নেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট আজমত উল্লাহ খান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম আলম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন-অর-রশিদ বিপিএম, পিপিএম (বার) প্রমুখ।
এছাড়া বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনৈতিক মিশনের সদস্য এবং পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাসহ লাখ লাখ মুসল্লি আখেরী মোনাজাতে অংশ নেন।
৩৫ মিনিট স্থায়ী আখেরী মোনাজাতে মাওলানা সা’দ প্রথম ১০ মিনিট মূলত পবিত্র কোরআনে বর্ণিত দোয়ার আয়াতগুলো উচ্চারণ করেন। শেষ ২৫ মিনিট দোয়া করেন উর্দু ভাষায়। মুঠোফোন ও স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের সুবাদে দেশ-বিদেশের আরও অগণিত মানুষ একসঙ্গে হাত তোলেন আল্লাহর দরবারে।
আখেরী মোনাজাত উপলক্ষে টঙ্গী, গাজীপুর, উত্তরাসহ চারপাশের এলাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, মার্কেট, বিপণিবিতান, অফিসসহ সবকিছু ছিল বন্ধ। ৪ দিন বিরতি দিয়ে আগামী ২০ জানুয়ারি শুক্রবার থেকে শুরু হবে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। ২২ জানুয়ারি আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে এ বছরের বিশ্ব ইজতেমা।
রবিবার ভোর থেকে চারদিক থেকে লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি পায়ে হেঁটেই টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা স্থলে পৌঁছান। সকাল ৯টার আগেই ইজতেমা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে মুসল্লিরা মাঠের আশপাশের রাস্তা, অলি-গলি, বিভিন্ন ভবনের ছাদে অবস্থান নেন। ইজতেমাস্থলে পৌঁছাতে না পেরে কয়েক লাখো মানুষ কামারপাড়া সড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিতে দেখা গেছে।
আখেরী মোনাজাতের জন্য পুরানো খবরের কাগজ, পাটি, সিমেন্টের বস্তা ও পলিথিন সিট বিছিয়ে বসে পড়েন মুসল্লিরা। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী বাসা-বাড়ি-কলকারখানা-অফিস- দোকানের ছাদে, যানবাহনের ছাদে ও তুরাগ নদীতে নৌকায়  মুসল্লিরা অবস্থান নেন।
অপরদিকে আখেরী মোনাজাত শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থান থেকে আশা মানুষ নিজ গন্তব্যে পৌঁছার চেষ্টা করেন। আগে যাওয়ার জন্য মুসল্লিরা তাড়াহুড়া করতে শুরু করে। এতে টঙ্গীর কামারপাড়া সড়ক, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কের আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতু ও আশপাশের সড়ক-মহাসড়ক এবং সংযোগ সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ জনজট ও যানজট।
প্রসঙ্গত, গত বছর থেকে শুরু হয় দেশের ৬৪ জেলাকে চার ভাগ করে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন। মোট ৩২টি করে জেলা নিয়ে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয় ইজতেমা।
প্রথম পর্বে অংশ নেয় ঢাকার একাংশসহ ১৬টি জেলার মুসুল্লিরা। স্থান সঙ্কুলান ও নিরাপত্তার কথা ভেবে এ পরিবর্তন আনা হয়। বিশ্ব ইজতেমার শীর্ষ পর্যায়ের মুরুব্বিরা ইজতেমার এ তারিখ নির্ধারণ করেন।
চারদিন বিরতি দিয়ে ২০ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব। দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবে বাকি ১৬ জেলার তাবলীগ অনুসারীরা। তবে বিদেশি মুসল্লিরা প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিতে পারবে। ২২ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমা।
ফিরতি যাত্রায় বিড়ম্বনা ও যানজট : আখেরী মোনাজাত শেষ হওয়ার পর এক সঙ্গে লাখ লাখ মানুষ ফিরতে শুরু করলে সর্বত্র মহাজটের সৃষ্টি হয়। টঙ্গী রেল স্টেশনে ফিরতি যাত্রীদের জন্য অপেক্ষমাণ ট্রেনগুলোতে উঠতে মুসল্লিদের জীবনবাজির লড়াই ছিল উদ্বেগজনক। ট্রেনের ভিতরে জায়গা না পেয়ে ছাদে ও দরজা-জানালায় ঝুলে শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফিরতে দেখা যায়। এক পর্যায়ে মানুষের জন্য ট্রেন দেখা যাচ্ছিল না। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশুলিয়া সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় ফিরতি মুসল্লিদের বিড়ম্বনা ও কষ্টের সীমা ছিল না। চার-পাঁচ দিন ধরে টঙ্গীতে জমায়েত হওয়া মুসল্লিরা যোহরের নামাযের পর এক যোগে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে চাইলে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হন। হাজার হাজার বৃদ্ধ, শিশু-কিশোর ও মহিলা মাইলের পর মাইল হেঁটে মোনাজাতে শরীক হন এবং একইভাবে ফিরেন। বিকেলে সীমিত আকারে যানবাহন চলাচল শুরু হলেও পরিস্থিতির তেমন কোন উন্নতি হয়নি। এতে মুসল্লিরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। দূর-দূরান্তের যাত্রীরা রিকসা-ভ্যান, টেম্পু, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানে চড়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ান দিতে দেখা গেছে।
ইজতেমায় প্রথম পর্বে ৮ মুসল্লির মৃত্যু : গতকাল রবিবার সকালে টঙ্গীর চেরাগআলী মার্কেট এলাকায় রাস্তায় পড়ে অজ্ঞাত পরিচয় (৫৫) এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এনিয়ে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে আগত প্রথম পর্বে ৮ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।
টঙ্গী হাসপাতালে ভর্তি ৮৩ জন মুসল্লি: গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা: আলী হায়দার খান জানান, গত ১২ থেকে ১৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত টঙ্গী হাসপাতাল ও ৪টি অস্থায়ী ক্যাম্পের মাধ্যমে মোট ৮ হাজার ৮৫ জন মুসল্লিকে প্রথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ২২ জন মুসল্লিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টঙ্গী সরকারি হাসপাতাল থেকে ঢাকা বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
অপরদিকে, ইজতেমাস্থলের পার্শ্ববর্তী ফ্রি-মেডিক্যাল ক্যাম্পগুলোতে কয়েক হাজার মুসল্লি বিনামূল্যে বিভিন্ন রোগের ওষুধ সংগ্রহ ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে র‌্যাবের প্রায় ১০ হাজার, হামর্দদ ল্যাবরেটরিজ প্রায় ৯৪ হাজার, ইবনে সিনা ৫ হাজার, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন কেন্দ্রে প্রায় আড়াই হাজার রোগীর চিকিৎসা দিয়েছেন। বেশিরভাগ মুসল্লি ঠান্ডা, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, পেটের পীড়াজনিত কারণে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ইজতেমা ময়দানে মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যা : রবিবার ইজতেমা ময়দান ও টঙ্গী থেকে কোন মোবাইলেই দেশের বিভিন্নস্থানে নেটওয়ার্ক যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। মাঝে মধ্যে লাইন পেলেও মুহূর্তেই কেটে যাচ্ছিল। মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলো নেটওয়ার্ক সুবিধা দিতে ইজতেমা উপলক্ষে ইজতেমার আশপাশ এলাকায় অতিরিক্ত মোবাইল টাওয়ার সংযোগ করেও এ সমস্যার পুরো সমাধান দিতে পারেনি।
পরিত্যক্ত জুতা ও পত্রিকার কাগজ : আখেরী মোনাজাত শেষে হুড়োহুড়ি করে ইজতেমা ময়দান থেকে বের হতে গিয়ে অগণিত জুতা ও সেন্ডেল ফেলেই খালি পায়ে মাঠ ত্যাগ করেন ধর্মপ্রাণ অনেক মুসল্লিরা। এছাড়াও মোনাজাত শেষে ইজতেমা মাঠ ও আশপাশের সড়কগুলোকে বিপুল পরিমাণ পত্রিকার কাগজ, জুতা ও সেন্ডেল পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় কিছু লোক ও টোকাইরা পরিত্যক্ত জুতা ও সেন্ডেল বস্তায় ভরে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
অবৈধ দোকানপাট মুসল্লিদের যাতায়াতে কষ্ট : ময়দানের চারিপাশের রাস্তা, অলি-গলিতে ভাসমান দোকানদাররা হরেক রকমের দোকানের পসরা সাজিয়ে বসায় প্রথম পর্বে আগত মুসল্লিদের ময়দান থেকে বের হতে বেশ কষ্ট হয়েছে। মুসল্লিদের মালামাল কেনার জন্য বিভিন্নভাবে হাঁকডাক করে আহ্বান করছেন ফুটপাত ব্যবসায়ীরা।
দু’সহস্রাধিক জামাত: ইজতেমা আয়োজক কমিটির অন্যতম শীর্ষ মুরুব্বী প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, তাবলীগের শীর্ষ মুরুব্বীদের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী প্রথম পর্বের আখেরী মোনাজাত শেষে দু’সহস্রাধিক জামাত দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছেন। জামাতবন্দী হয়ে দ্বীনের দাওয়াতী মেহনতে দেশ-বিদেশে কাজ করবেন তারা। এসব জামাতবন্দীদের মধ্যে ৪০ দিন, ৩ মাস, ৬ মাস, ১ বছর ও আজীবন চিল্লাধারী মুসল্লিরা রয়েছেন। তারা বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা শহর এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাবলীগের দাওয়াতি কাজ করবেন।
বিদেশি মেহমান ১৫ হাজার : ইজতেমা সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়াসহ কমপক্ষে ৯২টি দেশের তাবলীগ জামাতের প্রায় ১৫ হাজার বিদেশি মেহমান এবারের ইজতেমায় অংশগ্রহণ করেছেন। এদের মধ্যে ভারত, সউদী আরব, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদেশি মেহমান আগমন করেন।
ইজতেমা আয়োজক কমিটির সন্তোষ প্রকাশ : দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মুসল্লিদের আসতে এবং ময়দানের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকায় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সরকারের প্রতি ইজতেমা আয়োজক কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা : গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাহেনুল ইসলাম জানান, ইজতেমা মাঠের আশপাশ এলাকায় হোটেল, রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন দোকানে খাবারের মান ও মেয়াদ যাচাইয়ে প্রতিদিন পালাক্রমে ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ৩ দিনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন খাবার হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে ভোক্তা অধিকার আইনে ১২টি মামলা দায়ের এবং ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।



 

Show all comments
  • সবুর খান ১৬ জানুয়ারি, ২০১৭, ১০:১৬ এএম says : 0
    হে আল্লাহ এই বিশ্ব ইজতেমার উপলক্ষে তুমি আমাদের দেশের সকল বিপদ আপদ দূর করে দাও।
    Total Reply(0) Reply
  • Md Sumon ১৬ জানুয়ারি, ২০১৭, ১:১৭ পিএম says : 0
    amin
    Total Reply(0) Reply
  • Md Abul Bashar ১৬ জানুয়ারি, ২০১৭, ১:১৮ পিএম says : 0
    আমিন
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: বিশ্ব ইজতেমার

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮
২২ জানুয়ারি, ২০১৭
১৬ জানুয়ারি, ২০১৭

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ