Inqilab Logo

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১, ০৭ মাঘ ১৪২৭, ০৭ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ওআইসির মন্ত্রীপর্যায়ে জরুরি বৈঠক পরশু

| প্রকাশের সময় : ১৭ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সংস্থা অর্গানাইজেশন অব দ্য ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মন্ত্রী পর্যায়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মন্ত্রীদের বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) মালয়েশিয়ার কুয়ালা লামপুরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোীর অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। কুয়েতের বার্তা সংস্থা কুনা জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার উদ্যোগেই এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে গুরুত্ব সহকারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের সংকটের বিষয়ে ওআইসির পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। ওআইসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমার যাতে করে রাখাইন প্রদেশে মানবিক সহযোগিতা পাঠানোর অনুমতি দেয় সেজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ নেয়া উচিত। এছাড়া বৈঠকে রাখাইন ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে মিয়ানমারের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা ও সংলাপের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করার কথা।
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর মাসের ৯ তারিখে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ এলাকায় সন্ত্রাসীদের সমন্বিত হামলায় ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার পর তার দায় চাপানো হয় রোহিঙ্গাদের ওপর। আর তখন থেকেই শুরু হয় সেনাবাহিনীর দমন প্রক্রিয়া। জাতিসংঘের মতে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মানবতাবিরোধী কর্মকা-ের রাখাইন রাজ্যে মৃতের সংখ্যা ৮৬ জন। এখন পর্যন্ত ঘরহারা হয়েছেন ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ। পালাতে গিয়েও গুলি খেয়ে মরতে হচ্ছে তাদের। মিয়ানমারে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাস করে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধরা তাদেরকে দেশটির নাগরিক হিসেবে স্বীকার তো করেই না বরং এসব রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে দাবি করে থাকে। রাখাইন রাজ্যে এমন উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টির পরেও চলমান দমন প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিজেদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করে দায় এড়াতে চাইছে দেশটির সরকার। রোহিঙ্গারা নিজেরাই নিজেদের বাড়িঘর পোড়াচ্ছে বলেও দাবি করছে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিশ্চিত করেই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক হিসেবেই চেনে। জাতিসংঘের অবস্থানও আলাদা নয়। শুরু থেকেই নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে দেশটির ডি-ফ্যাক্টো ক্ষমতার প্রতিনিধি অং সান সু চির সরকার ও সেনাবাহিনী। জাতিসংঘ রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং জাতিগত নির্মূল প্রক্রিয়া পরিচালনার অভিযোগ তুললেও ক্ষমতাসীন সরকারের রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চি সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। সু চির দাবি, মিয়ানমারে যা ঘটছে তা নিয়ে অতিরঞ্জন হচ্ছে। মিয়ানমার সরকারের দাবি, রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনী আইন মেনেই কাজ করছে। কুনা, ওয়েবসাইট।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: রোহিঙ্গা

৫ জানুয়ারি, ২০২১

আরও
আরও পড়ুন