Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১ কার্তিক ১৪২৬, ১৬ সফর ১৪৪১ হিজরী
শিরোনাম

ছাতকে লাফার্জের সিমেন্ট খোলা আকাশের নিচে

| প্রকাশের সময় : ২১ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ছাতক (সুনামগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা : সুনামগঞ্জের ছাতকে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেডের বিরুদ্ধে খোলা আকাশের নিচে সিমেন্ট ডাম্পিং করার অভিযোগ উঠেছে। এসব সিমেন্ট মাসের পর মাস খোলা আকাশের নিচে থাকায় সিমেন্টের গুণগতমান নষ্ট হচ্ছে বলে জানা গেছে। ফলে এসব সিমেন্ট ক্রয় করে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা। জানা যায়, ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যভাগ থেকে এযাবত দীর্ঘ দু’মাসের অধিক সময় থেকে শহরের পৌরসভা কার্যালয় সংলগ্ন সুরমা নদীর পারে দেড় লক্ষাধিক বস্তা সিমেন্ট ডাম্পিং করে রাখা হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে বৃষ্টি হলে ডাম্পিং সাইটের কিছু সিমেন্ট পানিতে ভিজে নষ্ট হওয়ার আশংকা দেখা দেয়। এছাড়া সিমেন্টের বস্তার নিচে দেয়া হয়েছে হালকা একটি পলিথিন। আবার কোথাও পলিথিন ছাড়াই সিমেন্ট মাটিতে রাখা হয়েছে। এভাবে খোলা আকাশের নিচে সিমেন্ট রাখায় বাতাস, ঘনকুয়াশা ও বৃষ্টির পানিতে ভিজে সিমেন্টের গুনগতমান নষ্ট হচ্ছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করছে। এখান থেকে প্রতিদিন ভারী যানবাহন দিয়ে এসব সিমেন্ট সিলেট বিভাগসহ সারা দেশে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। আর ক্রেতারা এসব ড্যামিজ সিমেন্ট দিয়ে দালান-বিল্ডিং নির্মাণ করে যাচ্ছেন। এতে অবকাঠামোর স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন ভবন মালিকরা। একটি সূত্রে জানা যায়, সিমেন্ট উৎপাদনের পর গুণগতমান ঠিক রাখতে নিচে কাঠ অথবা ইট দিয়ে সিমেন্ট গুদামজাত করতে হয়। কিন্তু এখানে খোলা আকাশের নিচে সামান্য পলিথিন দিয়ে ডাম্পিং করে রাখায় এসব সিমেন্ট ড্যামিজ হওয়ার আশংকা করছেন অনেকেই। নির্মাণ ত্রæটির অন্যতম একটি দিক হতে পারে এসব ড্যামিজ সিমেন্ট। এ সিমেন্ট সুরক্ষিত রাখার জন্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ সবাইকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। ভূতাত্তি¡করা বলে থাকেন, সারাদেশের মধ্যে বৃহত্তর সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রাম অত্যন্ত ভূমিকম্প প্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এসব এলাকায় ড্যামিজ সিমেন্ট দিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে। অবকাঠামো পরিবেশবান্ধব তখনই হতে পারে, যখন টেকসই নির্মাণ পদ্ধতির পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রীও টেকসই হবে। এজন্য টেকসই উন্নয়নে দরকার সঠিক পরিকল্পনা ও সিমেন্টের গুণগতমান। এব্যাপারে সিমেন্ট ডাম্পিং সাইডের লোড-আনলোডিংয়ের লেবার সর্দার পিন্টু জানান, এখানে দেড় লক্ষাধিক বস্তা সিমেন্ট ডাম্পিং করে রাখা হয়েছে। তেরপাল দিয়ে সব সিমেন্ট ঢাকা সম্ভব হয়নি। কয়েক দিন আগে দেয়া বৃষ্টিতে ভিজে কিছু সিমেন্টের ক্ষতি ও খোলা আকাশের নিচে থাকায় পলিথিনের ভেতর বাতাস প্রবেশ করে সিমেন্ট ড্যামিজ হতে পারে। ডাম্পিং সাইডের যেদিকে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করেছে সেদিকের বস্তা সরানোর কাজ এখনো শুরু হয়নি বলে তিনি জানান। লাফার্জের (টিএসএম) তানভীর রহমান খোলা আকাশের নিচে সিমেন্ট ডাম্পিং করে রাখার কথা স্বীকার করে বলেন, সংশ্লিষ্ট ডিলারের সাথে কথা বলে এব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে। উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সমরেন্দ্র তালুকদার জানান, খোলা আকাশের নিচে পলিথিন দিয়ে ডাম্পিং করে সিমেন্ট রাখলে এসব সিমেন্ট ড্যাম্প হতে পারে। এভাবে রাখলে সিমেন্টের ক্ষতি হবার সম্ভাবনাই বেশী। লাফার্জের কমিউনিটি রিলেশন্স অফিসার সাব্বির হোসেন বলেন, সুরম নদীর পারে সিমেন্ট ডাম্পিংয়ের ব্যাপারে তার জানা নেই। তবে এগুলো ডিলারের কাছে তাদের বিক্রিত সিমেন্ট হতে পারে। তিনি সংশ্লিষ্টদের সাথ যোগাযোগ করে এসব সিমেন্টের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: আকাশ

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮
১৬ নভেম্বর, ২০১৮

আরও
আরও পড়ুন