Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৯ আশ্বিন ১৪২৬, ২৪ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

নির্বাচন কমিশন গঠনে প্রেসিডেন্টের আন্তরিক প্রয়াস

| প্রকাশের সময় : ২১ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:৫৪ এএম

মুহাম্মদ রেজাউর রহমান : নির্বাচন কমিশনের পাঁচ বছর স্থায়ী মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচন কমিশন গঠন সম্পর্কিত আইন না থাকায় আরো একবার প্রেসিডেন্টের ওপর দায়িত্ব বর্তেছে নতুন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার। বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছিলে ২০১২ সালে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান ২৩টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সহিত সংলাপের পর নির্বাচন কমিশন গঠন চূড়ান্ত করেছিলেন পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদও মাসব্যাপী অন্তত ৩১টি রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনায় বসেন- তাদের বক্তব্য, পরামর্শ ও মতামত ধৈর্য্যসহকারে শোনেন এবং গত ২০১২ সালের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে একটি সার্চ বা অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন বলে জানা যায়। অনুসন্ধান কমিটি কাদের নিয়ে গঠিত হবে- তা হয়তো আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জানা যাবে- তবে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান এবং কম্পট্রোলার ও অডিটর জেনারেল অনুসন্ধান কমিটিতে স্থান পেতে পারেন। অনুসন্ধান কমিটি কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত আমলা, শিক্ষাবিদ, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, কূটনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি প্রমুখ সমন্বয়ে আট থেকে দশজনের একটি তালিকা প্রেসিডেন্টের নিকট দাখিল করলে প্রেসিডেন্ট তাদের মধ্য থেকে একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সর্বাধিক চারজনকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দান করবেন। এসবই আগামী ৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের নাম ঘোষণার পর রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া কী হবে- তা নিয়ে সংশয়ের অবকাশ রয়েছে। বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্টের সাথে সংলাপে যে ৩১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে তারা ছাড়াও আরো রাজনৈতিক দল রয়েছে।
তাদের মধ্যে অনেক দলই হয়তো গঠিতব্য নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের দক্ষতা, যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠাবেন। প্রেসিডেন্টের সাথে সংলাপে যারা নিজেদের প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার প্রমাণ-স্বরূপ বিভিন্ন প্রকার প্রস্তাব রেখে সর্বশেষে প্রেসিডেন্ট যা করবেন- তা মেনে নেয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন- তারাও হয়তো আরো একবার নিজেদের রাজনৈতিক জ্ঞানের উৎকর্ষতা প্রমাণের জন্য সমালোচনামুখর হবেন। বাংলাদেশে সকল দল ও মতের সমন্বয় ঘটিয়ে সকল দলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা অত্যন্ত দুরূহ একটি কাজ। এখানে চলছে যত মত, তত পথের সংস্কৃতি। তাই রাজনৈতিক দলের অভাব নেই। সরকারী দলের মহাজোটেই রয়েছে চৌদ্দটি রাজনৈতিক দল। তাদের লেজুড়বৃত্তি করছে হু মু এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। বিএনপি জোটে রয়েছে ২০টি দল। এই দুই জোটের অন্তর্ভুক্ত ৩৪টি রাজনৈতিক দল ছাড়াও রয়েছে আরো অনেক দল।
এক মাস যাবৎ তাই প্রেসিডেন্ট নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন সম্পর্কে সংলাপে ডেকেছিলেন ৩১টি দলকে। এই ৩১টি দলের মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি দেশের ক্ষমতায় ছিল সর্বমোট ৪৪ বছর। নির্বাচন কমিশন কীভাবে গঠন করা হবে- সেই আইনটি যদি দীর্ঘ ৪৪ বছরের মধ্যে করা না হয়ে থাকে তাহলে যিনিই দেশের প্রেসিডেন্ট থাকুন না কেন- তাকে বৃদ্ধ বয়সে দৈনন্দিন বিশ্রামের সময়টিতে দেশের ৩০/৩১টি রাজনৈতিক দলের প্রায় ছয়শত প্রতিনিধির সাথে সংলাপে বসে ধৈর্য ধরে তাদের প্রস্তাব শুনতে হবে এবং এসব দীর্ঘ কথামালার শেষে প্রেসিডেন্ট যে ব্যবস্থা নেবেন তা হয়তো সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অবশ্য বলেছেন, প্রেসিডেন্ট যা করবেন, যেভাবে করবেন, যাদের নিয়েই কমিশনক গঠন করবেন- তা তারা মেনে নেবেন, ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক যা বলেছেন- তাতে চমৎকৃত হওয়ার কিছু নেই। এটা বলারও প্রয়োজন ছিল না।
প্রেসিডেন্টের গৃহীত ব্যবস্থা ও প্রেসিডেন্ট কর্তৃক নিয়োজিত নির্বাচন কমিশন ক্ষমতাসীন দল কর্তৃক প্রত্যাখ্যান করার কোনো সুযোগই থাকতে পারে না। বস্তুত কোনো পক্ষেরই সে সুযোগ নেই। সংবিধানে নির্বাচন কমিশন গঠন করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকেই দেয়া হয়েছে। কেবল কীভাবে প্রেসিডেন্ট তা করবেন সেই আইনটি করা হয়নি। এ বছরেও এ সংক্রান্ত আইনটি জাতীয় সংসদে তোলা ও পাস করার পর্যাপ্ত সময় নেই। প্রেসিডেন্ট আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন। বর্তমান কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৯ ফেব্রুয়ারি। কাজেই আইনের খসড়া প্রণয়ন করে আইন মন্ত্রণালয় জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের পূর্বে মন্ত্রিসভায় তা উত্থাপন করে মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিলেও জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটিতে যাচাই-বাছাইয়ের পর তা পুনরায় সংসদে আলোচনার জন্য উত্থাপিত হওয়ার পর পাস হওয়া পর্যন্ত যে সময়ের প্রয়োজন, তা না থাকায় এবারেও নির্বাচন কমিশন গঠন সম্পর্কিত আইন করা যাচ্ছে না।
২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান ও ২০১৬-১৭ সালে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ সে কারণেই এক দীর্ঘ সংলাপের বোঝা বহনের ধৈর্য ও সদিচ্ছার প্রমাণ দিয়েছেন। বর্তমান প্রেসিডেন্টের সময়োচিত উদ্যোগ সফল হোক- শুভবুদ্ধির সম্পন্ন সকল নাগরিক তাই চাইবেন। নির্বাচন কমিশন গঠিত হওয়া প্রশ্নবিদ্ধ না হলেও নির্বাচনে ঢালাও কারচুপি, প্রতিপক্ষ বা বিরোধী দলের প্রার্থীদের নির্বাচনী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া, ভোট কেন্দ্র দখলে নিয়ে সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষে ইচ্ছা মতো সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা, ভোটারদের ভোট দেয়ার জন্য ভোট কেন্দ্রে না আসার জন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভোট কেন্দ্রের বাইরে সংগঠিত পেশিশক্তি প্রদর্শন ইত্যাদি যত প্রকার উপায় দ্বারা নির্বাচন প্রভাবিত করার যে বলপূর্বক ব্যবস্থা দেশে গড়ে উঠেছে- তা থেকে মুক্তি পেয়ে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর পুনরায় আস্থা নির্মাণ করার একমাত্র উপায় হচ্ছে শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশন দ্বারা নিরপেক্ষ, অবাধ ও স্বাধীন ভোটগ্রহণ নয় বরং সকল প্রকার অবৈধ কারচুপি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার মৌলিক প্রশ্নে সরকারী দলের আন্তরিক সদিচ্ছা ও নিজেদের দলীয় উচ্ছৃঙ্খল কর্মী বাহিনীকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু বাস্তবে আমরা দেখেছি যে ছাত্রলীগের কর্মী ও নেতাদের অন্তর্দ্বন্দ্ব, স্বার্থের সংঘাত, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ইত্যাদি অনিভিপ্রেত কর্মকা- বন্ধের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চূড়ান্ত ব্যর্থতা।
সাধারণত নির্বাচনে সরকারী দলের প্রার্থীর পক্ষেই কারচুপির আশ্রয় নেওয়া হয়। তবে সকল রাজনৈতিক দলই প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার সময় মনোনীত প্রার্থীর কাছ থেকে এই মর্মে একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর নিয়ে রাখতে পারে যে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য কোনো প্রকার কারচুপির পন্থা অবলম্বন করা হবে না। এখানেও পথিকৃতের ভূমিকা পালন করতে হবে সরকারী দলকে। সরকারী দল বা অন্য যে কোনো দলের সমর্থক বা অর্থ ও অন্যান্য সুবিধার বিনিময়ে নিয়োজিত কর্মী বাহিনী নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করে ক্ষমতাসীন সরকার, নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যদি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন না চান তাহলে তাদের মনোনীত নির্বাচন প্রার্থীর ওপর কারচুপির আশ্রয় গ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ কঠোরভাবে পালন করতে হবে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, আরো একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন তিনি চাইছেন না। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি। ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন চৌদ্দদলীয় জোট ছাড়া শুধু হু মু এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনে ১৫৩টি আসনে প্রার্থীগণ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন। অবশিষ্ট ১৪৭টি আসনেও অনুষ্ঠিত হয় একতরফা নির্বাচন। আওয়ামী লীগ নেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী দেশ ও বিদেশের মূল্যায়নকে পরোক্ষভাবে স্বীকার করেই মন্তব্য করেছেন যে, প্রশ্নবিদ্ধ কোনো নির্বাচন আর নয়। অতি সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী আরো মনে করেন যে, পরবর্তী নির্বাচনে সকল দলই অংশগ্রহণ করবে।
নির্বাচন কমিশন নতুনভাবে গঠিত হলে ২০১৯ সালের প্রথম দিকে অথবা ২০১৮ সালের শেষ দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব তাদেরকেই পালন করতে হবে। প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ৩১টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি দলেল সাথে তার মাসব্যাপী সংলাপের শেষে দেশের সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ২/৩ জনকে অন্তর্ভুক্ত করে ৫/৭ জন সদস্যবিশিষ্ট সার্চ কমিটি গঠন করে যে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন- তারা যত নিরপেক্ষভাবেই হোক একটি অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানের চেষ্টা করুন না কেন, মূলত সরকারী দলের প্রার্থীদের নির্বাচন সংক্রান্ত বিধিমালা লঙ্ঘন করে পেশিশক্তি ব্যবহার করে নানা প্রকার কারচুপির আশ্রয় গ্রহণ করে জয়লাভ করলে স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন এক ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয় এবং শেষ পর্যন্ত এক প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের কালিমা মুখে নিয়ে সরকারকে দেশ ও বিদেশে বিব্রত হতে হয়।
নির্বাচন স্বচ্ছ ও কারচুপিরমুক্ত করা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে যে কর্তব্যনিষ্ঠা, নির্ভীক ভূমিকা ও পক্ষপাতহীন ব্যবস্থা অনুসরণ করতে হয়, প্রায় ক্ষেত্রেই তা দেখা যায় না। ফলে কমিশন গঠিত হবার পরে সরকারবিরোধী রাজনৈেিতক দলগুলো কমিশন মেনে নিলেও কার্যক্ষেত্রে কমিশনের মেরুদ-হীন নীতি ও সরকারের তোষামুদী ভূমিকার জন্য নির্বাচন কমিশনের ওপর সরকারী দল ছাড়া অন্য সকল দলের আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণেরও আস্থা নষ্ট হয়। নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারগণ সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য যে শপথ গ্রহণ করেন- জনগণ তাদের কাজের মাঝে তার প্রতিফলন দেখতে চায়। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে এই যে, দেশের সরকারী ও বিরোধী দলসমূহের নেতৃবৃন্দ যেমন জনগণকে হতাশ করে চলেছেন তেমন করেই দেশের অন্যতম সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাগণও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের নতজানু নীতি, পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের ব্যর্থতা, ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাদের অনীহা ইত্যাদি কারণে গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জনগণের হতাশা বৃদ্ধি করে চলেছেন। দেশের নির্বাচন কমিশনে এ পর্যন্ত ১১ জন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ২৩ জন নির্বাচন কমিশনার তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। দেখা গেছে প্রায় কোনো নির্বাচন কমিশনই প্রয়োজনীয় নিরপেক্ষতা বজায় রেখে তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতা যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি।
প্রধানমন্ত্রী যখন ভবিষ্যতে আর কোনো নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হোক তা চাইছেন না- তখন ধরে নেয়া যায় যে নতুন নির্বাচন কমিশনকে বর্তমান সরকার স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেবে। নির্বাচন ব্যবস্থার যে ক্ষতি সাধিত হয়েছে, নতুন নির্বাচন কমিশন সে সম্বন্ধে সজাগ হয়ে সরকারের সহযোগিতায় সকল দলের অংশগ্রহণে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও অন্যান্য নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করে সকল দল ও মতের আস্থাভাজন হবেন- সকলে এটাই আশা করে। তাহলেই প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের পরিশ্রম সার্থক হবে। সর্বশেষ খবরে জানা যায় যে, প্রেসিডেন্ট সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, আলোচনা বা সংলাপ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য কমাতে পারে আর এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার উদ্যোগ নিতে হবে। প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে বাস্তব সত্যটি তুলে ধরেছেন- কিন্তু ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য গত কয়েক বছর যারা নিয়মিতভাবে সংলাপ অনুষ্ঠানের বিরোধিতায় প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও সোচ্চার। যাহোক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট তার ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করেছেন- এ কথা জোর দিয়েই বলা যায়।
লেখক : গবেষক ও প্রাবন্ধিক



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: নির্বাচন কমিশন

১৬ নভেম্বর, ২০১৬

আরও
আরও পড়ুন