Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

বড় মানুষ : কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত

| প্রকাশের সময় : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কেশবপুরের অন্তর্গত কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামের বিখ্যাত দত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা রাজনারায়ণ দত্ত। মা জাহ্নবী দেবী। লেখাপড়ার হাতেখড়ি মায়ের কাছে। সাগরদাঁড়ি পাঠশালায় পাঠ শেষ করে ১৮৩৩ সালে কলকাতায় হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। মেধাবী ও কৃতী ছাত্র হিসেবে তার বেশ সুনাম ছিল। কলেজে অধ্যয়নকালে নারীশিক্ষা বিষয়ে প্রবন্ধ লিখে স্বর্ণপদক লাভ করেছিলেন। ইংরেজি ভাষা সাহিত্যের প্রতি তার গভীর অনুরাগ ছিল।
১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত হন। এরপর নামের শুরুতে যোগ করেন ‘মাইকেল’। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর বাবার রোষানলে পড়ে ত্যাজ্যপুত্র হন। কলেজ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এ সময় তিনি নিদারুণ অর্থ সংকটে ভোগেন।
জীবিকার অন্বেষণে তাকে বিচিত্র পেশা গ্রহণ করতে হয়। মাদ্রাজের অনাথ আশ্রমে সামান্য বেতনে শিক্ষকতা। পুলিশ আদালতের করণিক। দোভাষীরূপে চাকরি। ‘হিন্দু প্যাট্রিয়ট’ পত্রিকার সম্পাদনা। কলকতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসা। ১৯৪৮ সালের ৩১ জুলাই বিয়ে করেন রেবেকা ম্যাকটা ভিশকে। রেবেকা ছিলেন শ্বেতাঙ্গিনী। তার দুই ছেলে মিলটন ও আলবার্ট। এক মেয়ে শর্মিষ্ঠা।
পাশ্চাত্য জীবনযাপনের প্রবল ইচ্ছা, ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনায় উদ্বুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে জীবনের বিচিত্র কষ্টকর অভিজ্ঞতায় তার এ ভুল ভেঙে যায়। মূলত বাংলা ভাষায় কাব্য রচনার মধ্য দিয়ে তার কবি প্রতিভার বিকাশ ঘটে। আধুনিক বাংলা সাহিত্যে মাইকেল মধুসূদন দত্তকে রেনেসাঁ যুগের প্রবাদপুরুষ হিসেবে অভিহিত করা হয়। বাংলা কাব্যে অমিতাক্ষর ছন্দ এবং সনেট প্রবর্তন করে তিনি বাংলা সাহিত্যে যোগ করেছেন এক নতুন মাত্রা। সনেট প্রবর্তন করে তার নাম দেন ‘চতুর্দশপদী’।
উনিশশতকের নব জাগরণের অন্যতম পুরোধা মধুসূদন তার বহুমুখী প্রতিভা দ্বারা বাংলা ভাষার যে উৎকর্ষ সাধন করে গেছেন। সেজন্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ‘মেঘনাদ বধ’ (১৮৬১ খ্রি.) মহাকাব্য তার অমর কীর্তি। অন্যান্য কাব্য গ্রন্থের মধ্যে তিলোত্তমা সম্ভব (১৮৬০ খ্রি.), ব্রজাঙ্গনা কাব্য (১৮৬১খ্রি.), বীরাঙ্গনা কাব্য (১৮৬২খ্রি.) চতুর্দশপদী কবিতাবলী (১৮৬৬ খ্রি.), হেক্টর বধ (গদ্য কাব্য ১৮৭১খ্রি.) অন্যতম।
মধুসূদন নাট্যকার হিসেবেই বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করেন।তার নাটকগুলো হলো শর্মিষ্ঠা (১৮৫৯খ্রি.), একেই কি বলে সভ্যতা (১৮৬০খ্রি.). বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ (১৮৬০খ্রি.) পদ্মাবতী (১৮৬০খ্রি.), কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১খ্রি.), সর্বশেষ নাটক মায়াকানন (১৮৭২খ্রি.) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
বাংলা সাহিত্যের যুগ প্রবর্তক এই কবির শেষ জীবন চরম দুঃখ ও দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত ছিল। ঋণের দায়, অর্থাভাব, চিকিৎসাহীনতা ইত্যাদি কারণে তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন রোববার বেলা ২টার সময় আলীপুর জেনারেল হাসপাতালে কপর্দকহীন অবস্থায় পরলোকগমন করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৯ বছর।
ষ জাকারিয়া হারুন



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ