Inqilab Logo

সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ০৪ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী শীতের পিঠার ব্যবসা সরগরম

| প্রকাশের সময় : ২৩ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

আইয়ুব আলী : শীতকাল মানে পিঠা খাওয়ার উৎসব। শীত এলে নগরে ও গ্রামে পিঠা খাওয়ার ধূম পড়ে। শীত পিঠা গ্রামীণ ঐতিহ্য। শীত মওসুমে গ্রামীণ বধূরা রকমারী পিঠা তৈরি করেন। শীত পিঠার মধ্যে ভাপা পিঠা (ধুপি পিঠা) একটি অন্যতম পিঠা। ভাপা পিঠা আবার হরেক রকম পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়। কখনো মিষ্টি ভাপা, কখনো ঝাল ভাপা। খেজুর রস দিয়ে ভাপা পিঠা খেতে বড়ই সুস্বাদু ও মুগ্ধকর। 

ঐতিহ্যবাহী ফুল পিঠা, তালের পিঠা, মুড়ির মোয়া, চিড়ার মোয়া, পাটিসাপটা, চিতল পিঠা, চুটকি পিঠা, পাকন পিঠা, গুরা পিঠা, হাঁড়ি পিঠা, পাতা পিঠা, রস পিঠাসহ আরো হরেক রকমের পিঠা রয়েছে। শীতকালেই পিঠার উৎসব শুরু হয়। এ সময় প্রতিটি ঘরে ঘরে নানা রকম পিঠা তৈরি করা হয়। গ্রামের বাড়িতে চলে পিঠার উৎসব। শুরু হয় আত্মীয়-স্বজনের মিলন মেলা।
গ্রামীণ হাটবাজারে নানা রকম পিঠা বিক্রি করা হয়। বিশেষ করে ভাপা পিঠা, তেলের পিঠা ও চিতল পিঠা। এসব পিঠার সমাদর সবখানেই সমানভাবে রয়েছে। শীত বাড়ার সাথে সাথে নগরীর ফুটপাতে শীত পিঠার ব্যবসা জমে উঠেছে। এগুলোর মধ্যে কিছু ভালোমানের এবং কিছু নিম্নমানের রয়েছে। ফুটপাতে পিঠা তৈরির সময় অনেক সময় ধুলোবালি মিশে যায়। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
শীতকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর অলিগলিতে রাস্তার আশপাশে পিঠাপুলির দোকান বসে। এসব দোকানে কিশোর থেকে শুরু করে বয়ষ্ক লোকেরা পিঠা তৈরি করে ক্রেতার কাছে বিক্রি করে। তারা পিঠা বিক্রি করে সংসার চালায়।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিজাত দোকানে রকমারি পিঠা বিক্রি করা হচ্ছে। বড় লোক থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষ পিঠার দোকান থেকে পিঠা কিনে খাচ্ছেন। অনেকে পিঠা কিনে বাসাবাড়িতে পরিবারের সদস্যদের জন্য নিয়ে যান। বাসাবাড়িতে সকাল-বিকাল পিঠা দিয়ে নাস্তা করেন। পরিবারের সদস্যরা পিঠা নাস্তা হিসেবে খেতে পছন্দ করেন।
ভাপা পিঠাতে গুড় দিয়ে জমজমাট ব্যবসা চলছে। এতে ক্রেতাদের খাবার স্বাদ বাড়িয়ে দিচ্ছে। শহরে অভিজাত দোকানে কিংবা পিঠা ঘরে পিঠা খাওয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, বিভিন্ন ক্লাব ও এনজিও কর্মীরা এসব পিঠা খেয়ে রসনা তৃপ্ত করেন। এ ছাড়া প্রতিবছর নগরীতে বসে পিঠার মেলা। এসব পিঠা মেলায় লোকজনের প্রচুর ভিড় থাকে।
হরেক রকমের পিঠা পুলি আমাদের প্রাচীন ঐতিহ্য। মায়ের হাতে তৈরি পিঠার মজাই আলাদা। পিঠা তৈরির মাধ্যমে একদিকে যেমন বাঙালি নারীর শিল্পগুণের পরিচয় ফুটে উঠে, তেমনি পিঠা যদি বাণিজ্যিকভাবে তৈরি করা হয়Ñ তা থেকে অর্থনৈতিক মুক্তি আসতে পারে। পিঠার ব্যবসা করে দেশের বিপুল সংখ্যক গরিব, বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে।
নগরীর এনায়েত বাজার মোাড়ে প্রতিবছর শীত মওসুমে ভাপা পিঠা বিক্রি করেন বৃদ্ধ আলী আজম। ৮৫ বছর বয়সী লাকসামের বাসিন্দা আলী আজম জানান, তিনি এ জায়গায় ১৪ বছর ধরে পিঠা বিক্রি করে আসছেন। পিঠা বিক্রি করে বেশ লাভবান হচ্ছেন জানিয়ে আলী আজম বলেন, প্রতিবছর অপেক্ষা করি কখন শীত মওসুম আসবে।
শীতের পিঠার অন্যতম উপাদান খেজুর গুড়। চট্টগ্রাম অঞ্চলে খেজুরের রস এখন অনেকটা দুষ্প্রাপ্য। ইটভাটায় হজম হয়ে গেছে বেশির ভাগ খেজুর গাছ। এরপরও কয়েকটি উপজেলায় এখনো খেজুরের রস পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি যশোর অঞ্চল থেকে খেজুরের গুড় ও রস (রাফ) আসছে ব্যাপকহারে। নগরীর হাটবাজারগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকমের খেজুরের গুড়। অনেকে বাসাবাড়িতেও হরেক রকমের পিঠা তৈরি করছে। পিঠার আরেক উপাদান নারিকেলেরও চাহিদা বেড়ে গেছে। সেইসাথে বেড়েছে দামও। একটি নারিকেল বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা।
শীতের পিঠার পাশাপাশি চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিন্নি ভাত খাওয়ার ধূম পড়ে। গ্রামের পাশাপাশি শহরেও এ বিন্নি ভাত রান্না হচ্ছে। হরেক রকমের বিন্নি চালও মিলছে বাজারে। ক্ষুদে বিক্রেতারা নগরীর অলিগলিতে ঘুরে এসব চাল বিক্রি করছে। চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়িসহ বিভিন্ন উপজেলায় ভালো মানের বিন্নি ধানের চাষ হয়।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: চট্টগ্রাম


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ