Inqilab Logo

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২১, ১২ মাঘ ১৪২৭, ১২ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

বাহুবলে চার শিশু হত্যা মামলায় ২ আসামির মোট ১২ দিনের রিমান্ড

প্রকাশের সময় : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

হবিগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা : হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের তালুকদার পঞ্চায়েতের চার শিশু হত্যা মামলায় আসামি আরজু মিয়ার (২৭) সাত দিন এবং বশির আহমেদের (২২) পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মুক্তাদির আলম আজ সোমবার দুপুরে এ দুই আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আরজুর সাত দিন ও বশিরের পাঁচ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহম্মদ খোন্দকার। হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদুর রহমান মনি এসব তথ্য জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের মো. ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), তার চাচাত ভাই আব্দুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০) ও আবদাল মিয়ার ছেলে মনির মিয়া (৭) এবং তাদের প্রতিবেশী আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাঈল হোসেন (১০) নিখোঁজ হয়। ওই দিন বিকেলে তারা উত্তর ভাদেশ্বর গ্রামে ফুটবল খেলা দেখতে গিয়েছিল।
এ ব্যাপারে পর দিন ১৩ ফেব্রুয়ারি ওয়াহিদ মিয়া বাহুবল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বাহুবল মডেল থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেন নিখোঁজ এক শিশুর বাবা। এই ঘটনার পর পুলিশের একাধিক টিম ও র‌্যাব মাঠে নামে ওই শিশুদের অনুসন্ধানে। ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান দাতাকে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করা হয়।
এর পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকালে সুন্দ্রাটিকি গ্রামের দিন মজুর কাজল মিয়া প্রতিদিনের ন্যায় বাড়ি থেকে বেড় হয়ে নদীর পাশে মাটি কাটতে গিয়ে মাটি চাপা অবস্থায় ৪ শিশুর লাশ দেখতে পান। পরে লাশগুলো উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত শেষে ওই দিন রাতে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আব্দুল আলী বাঘাল, তার ছেলে জুয়েল মিয়া ও রুবেল মিয়া, আজিজুর রহমান আরজু, সালেহ আহমেদ ও বশির মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদের মধ্যে আব্দুল আলী ও তার ছেলে জুয়েল মিয়ার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে অন্য তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডেরও আবেদন করা হয়। সোমবার রিমান্ডের শুনানি হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহমেদ খোন্দকারের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিকালে আসামি রুবেল মিয়া হত্যার দায় স্বীকার করে। পরে ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে একই আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে রুবেলের ভাই জুয়েল। রুবেলের স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, সুন্দ্রাটিকি গ্রামে বাঘাল পঞ্চায়েত এবং তালুকদার পঞ্চায়েতের বিরোধকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকান্ড ঘটে। এক মাস আগে বাঘাল ও তালুকদার পঞ্চায়েতের মাঝে সীমানায় থাকা একটি বড়ই গাছ কাটা নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তি করা হলেও সিএনজি চালক বাচ্চু মিয়া ও গ্রেফতারকৃত আরজু ভীষণভাবে সামাজিক হেয় প্রতিপন্ন হয়। এর পর থেকেই তারা পরিকল্পনা করে তালুকদার পঞ্চায়েতের শিশুদেরকে ফেলে হত্যা করবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ