Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫, ০৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

২০১৬ সালে মৃত্যু হলো যেসব প্রযুক্তি পণ্যের

| প্রকাশের সময় : ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

শওকত আলম পলাশ : ২০১৬ সালে তথ্য প্রযুক্তির নতুনত্ব ও উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধিত হয়েছে। প্রথমবারের মতো ব্রিটেনে বাণিজ্যিকভাবে ড্রোন রপ্তানিতে সফল হয়েছে অ্যামাজন । পিটসবার্গ ও সানফ্রান্সিসকোর পথে যুক্ত হয়েছে উবারের স্বয়ংক্রিয় ট্যাক্সি। তবে অনেক প্রযুক্তি পণ্যের জন্যই বছরটি সুখকর ছিল না, অনেক উত্থান-পতনের ঘটনা ঘটেছে। অনেক হাকডাক দিয়ে বাজারে এসেও বিজলীর মতো হারিয়ে গেছে বেশ কিছু পণ্য। যার মধ্যে হোভারবোর্ড এবং গ্যালাক্সি নোট ৭ অন্যতম।

আইফোনের হেডফোন জ্যাক
গেলো সেপ্টেম্বরে অ্যাপল বাজারে আনে ওয়্যারলেস হেডফোন। এই হেডফোনের বাজার তৈরি করতেই আইফোন ৭ এ কোনো হ্যাডফোন জ্যাক রাখেনি তারা। তবে কোম্পানির এমন আচরণে ক্ষুব্ধ অনেক আইফোন ভক্ত। কারণ  তাদেরকে ১৬০ ডলার ব্যয়ে একজোড়া এয়ারপড কিনতে বাধ্য করেছে অ্যাপল।
স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৭
২০১৬ সালে প্রযুক্তি খাতে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৭ বিস্ফোরণ। এ নিয়ে অনেক ঝক্কি সামলাতে হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়াভিত্তিক এ টেক জায়ান্টকে।হড়ঃব-৭অক্টোবরে ব্যাটারিতে আগুন ধরার অভিযোগে উন্মোচনের কয়েকদিনের মাথায় প্রায় ২৫ লাখ নোট ৭ বাজার থেকে তুলে নেয় কোম্পানিটি। এমনকি বিমানের যাত্রীদের জন্য স্মার্টফোনটি বহন নিষিদ্ধ হয়। অনেক গবেষণা করে দ্বিতীয়বার বাজারে ছেড়েও শেষ রক্ষা হয়নি, গুণতে হয়েছে কয়েকশত কোটি ডলার লোকসান। এছাড়া কোম্পানিটির ৩০ লাখ ওয়াশিং মেশিনও বিস্ফোরণ ঝুঁকির আতঙ্কে বাজার থেকে তুলে নেয়া হয় এ বছর।
হোভারবোর্ড
হোভারবোর্ড ২০১৫ সালেও একটি হলিডে গিফট হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল স্কুটারপ্রেমীদের কাছে। কিন্তু ২০১৬ সাল শেষে স্কুটারটি বাজার থেকে হারিয়ে গেলো। হোভারবোর্ডেও গ্যালাক্সি নোট সেভেনের মতো ব্যাটারিতে বিস্ফোরণের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের কনজুমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন পণ্যটিকে অনিরাপদ ঘোষণা করে। ফলে প্রায় ৫ লাখ হোভারবোর্ড বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
পিবল স্মার্টওয়াচ
২০১৬ সালে প্রযুক্তি পণ্যের বাজার থেকে হারিয়ে যাওয়া আরেকটি পণ্যের নাম হচ্ছে পিবল স্মার্টওয়াচ। ফিটবিট নামের একটি কোম্পানির হাতে এর সফটওয়্যার বিভাগ বিক্রি করে দেয়ার পর হঠাৎ করেই সফটওয়্যার আপডেট বন্ধ হয়ে যায় পিবলের। ফলে অকেজো স্মার্টওয়াচ নিয়ে বিপাকে পড়েন ব্যবহারকারীরা।
মাইক্রোসফট সানরাইজ অ্যাপস
মার্কিন টেক জায়ান্ট ২০১৫ সালের অক্টোবরে একটি জনপ্রিয় ক্যালেন্ডার অ্যাপস চালু করে, যার নাম মাইক্রোসফট সানরাইজ অ্যাপস। কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে আউটলুক ই-মেইল সেবা থেকে এটি বন্ধ করে দেয় মাইক্রোসফট। মূলত সামাজিক ফিচার ও স্লিপ ডিজাইনের জন্য এটি পরিচিত ছিল। বিপরীতে নতুন সংযোজন হচ্ছে আউটলুকের মাধ্যমে সরাসরি স্কাইপেতে কথা বলা।
ফেসবুক পেপার অ্যাপ
ফেসবুক পেপার অ্যাপ চালু হয় ২০১৪ সালে, নিউজ ফিডে চমৎকার সব নকশাসহ আর্টিকেল ও স্ট্যাটাসগুলো প্রদর্শন করতো ফেসবুক পেপার অ্যাপ। অনেকে এটাকে ভবিষ্যৎ নিউজপেপার বলা শুরু করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেনি এটি। ২৯ জুলাই সার্ভিসটি বন্ধ করে দেয়া হয়।
অ্যাপলের বড় মনিটর
চলতি বছর অ্যাপলের বড় মনিটর ব্যবহারকারীদের জন্য আরেকটি দুঃসংবাদ হচ্ছে কোম্পানিটি তাদের ‘থান্ডারবোল্ট ডিসপ্লে’ উৎপাদন থেকে বিরত থাকবে। গ্রাফিক্স ডিজাইনার ও গেমারদের কাছে প্রিয় বাজারে থাকা অ্যাপলের একমাত্র স্ট্যান্ডেলন মনিটর ছিল এটি। কিন্তু ২০১১ সালের পর থেকে আপডেট বন্ধ করে দেয়া হয় এ প্রযুক্তি পণ্যটির। ব্যবহারকারীদের জন্য বড় একটি ধাক্কা এটি। তবে সম্প্রতি অ্যাপল ৪কে ও ৫কে মানের ডিসপ্লে তৈরি করতে এলজির সঙ্গে কাজ করছে। এই মনিটরের দাম একটু বেশি হবে তবে কোয়ালিটি হবে অতি উচ্চমানের।
গুগলের পিকাসা
গত মার্চে গুগল তাদের ফটো শেয়ারিং এবং স্টোরিং সার্ভিস পিকাসা বাজার থেকে তুলে নেয়। তবে বিপরীতে গুগল ফটোস নামে আরেকটি ফটো, ভিডিও এবং স্টোরেজ সেবা চালু করেছে। যদিও দীর্ঘদিন যাবৎ প্রযুক্তিপ্রেমীদের কাছে প্রিয় ছিল পিকাসা।
মটোরোলা
প্রযুক্তি পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মটোরোলাকে হত্যা করলো চীনা প্রতিষ্ঠান লেনেভো। ২০১২ সালের পর এ পর্যন্ত কোম্পানিটি দুইবার বেচাকেনা হয়েছে। প্রথম গুগল এটি কিনে ১২শ ৫০ কোটি ডলারে। এর মাধ্যমেই হার্ডওয়্যার ব্যবসায় পা দেয় সার্চ জায়ান্ট। তবে মটো এক্স স্মার্টফোনে বিক্রি ছিল হতাশাজনক। পরে লেনেভোর কাছে ২৯০ কোটি ডলারে মটোরোলা বিক্রি করে দেয় গুগল। সড়ঃড়ৎড়ষধ-ষড়মড় এখন এর মূল কোম্পানি লেনোভো, তাই ব্র্যান্ড নামটাও থাকছে না, পরিচিত হবে ‘মটো বাই লেনোভো’ নামে। এখন লেনেভোর অধীনে মটোরোলা পণ্যের মধ্যে থাকবে স্মার্টফোন এবং ব্লু টুথ হেডসেট।
ব্ল্যাকবেরি
ফিজিক্যাল কি-বোর্ডের জন্য বিখ্যাত ব্ল্যাকবেরি সেলফোন, বিশেষকরে পেশাদারদের দৃষ্টি কেড়েছিল ফোনটি। কিম কার্দাশিয়ান থেকে বারাক ওবামা এমন বহু মানুষ ছিলেন এর অন্ধ ভক্ত। কিন্তু স্মার্টফোনে বাজারে আর টিকতে পারলো না ফোনটি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।