Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

নারী : সমাজ মানস ও দৃষ্টিভঙ্গি

| প্রকাশের সময় : ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

বেগম জাহান আরা : নারীর চার ভূমিকার কথা আমরা বলি। যেমন- কন্যা, ভগিনি, জায়া ও জননী। এই চার ভূমিকার জন্য আমাদের পূর্বপুরুষ তিনটি আশ্রয়ের কথা বলেছেন। তা হলো শৈশবে মা-বাবার আশ্রয়, বিবাহিত জীবনে স্বামীর আশ্রয়, বার্ধক্যে পুত্রের আশ্রয়। বোনের আশ্রয় কোথায়, তার উল্লেখ নেই। কারণ ধরেই নেয়া হয় মেয়ে শিশু থাকতেই স্বামীর বাড়ি যাবে। কিন্তু বোন যদি প্রতিবন্ধী হয়, বিধবা হয় বা তালাকপ্রাপ্ত হয়? তখন মা-বাবাই ভরসা। ভাইদের কোনো দায়িত্বের কথা কেউ উচ্চারণ করে না। তাই বলে ভাইরা যে বোনদের জন্য কিছু করে না, এটা সর্বাংশে ঠিক নয়। যদি কেউ পরিসংখ্যান পেতে চান তবে হতাশ হবেন। এটাও বাস্তব।
মানবিক সম্পর্ক আবার বহুমাত্রিক। একজনের জায়া বা কন্যা অন্যজনের ভগ্নি হতে পারে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে আশ্রয়ের কনসেপ্টও অন্যরকম। বিবাহিত মহিলা বা শিক্ষিত কন্যারা অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ম্ভর হওয়াতে কারো আশ্রয়কেই অনিবার্য মনে করে না। কারণ আশ্রয়ের প্রসঙ্গে নিরাশ্রয় শব্দটাও এসে যায়। অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন তাই বস্তুগত দৃষ্টিকোণ থেকে মেয়েদের কিছুটা প্রত্যয়ী করেছে। এমনকি গ্রামীণ মহিলারাও যদি আয়মুখী কোনো কাজ করে তাহলেও পরিবর্তন আসে তাদের মন-মানসিকতায়। স্বামীর বাড়ি বা স্বামী পরিত্যক্ত অবস্থায় বাবা বা ভাইয়ের বাড়িই যে শেষ আশ্রয় এমন কনসেপ্টে তারাও আর বিশ্বাসী নয়। তারা কাজ চায়, তা সে মাটি কাটা বা ইট ভাঙা বা রাস্তা ঝাড়– দেয়া, যে কোনো রকম কাজ হোক না, আপত্তি নেই। সমাজও এখন নারীর শ্রমদানকে আর ছোটো করে দেখছে না। কর্মী নারী এখন আর অবহেলার পাত্র নয়। শহরে গ্রামে সর্বত্রই কম বেশি এই সমাজ মনস্কতা এখন গড়ে উঠেছে। সমাজ তাদের কন্যার পথে ফুল বিছিয়ে দেয়নি। মেয়েরাই আদায় করে নিয়েছে শ্রমের মর্যাদা। পাথর কেটে কেটে নিজেদের পথ নির্মাণ করেছে তারাই। তবে পারিবারিক সহযোগিতা হয়তো কারো কারো ভাগ্যে জোটে, সেটাকেও মূল্য দিই আমরা।  মেয়েদের লেখাপড়ার দিকটাই ধরা যাক। পঞ্চাশের দশকে ম্যাট্রিক পরীক্ষার (তখন এসএসসি বলা হতো না) জন্য ফরম পূরণ করার সময় মেয়েদের বয়স লিখতে হতো না। অথচ মেলেরা লিখত। তখন ধরেই নেয়া হতো যে মেয়েরা তো আর চাকরি করবে না, বয়স দিয়ে কী হবে? বিয়ের ব্যাপারে ১২-১৪ বছর আদর্শ বয়স মনে করা হতো। ওই বয়স পার হয়ে ২০ বছর বয়স হলেও অনায়াসে বাবা-মা মেয়েদের বয়স চৌদ্দ বছর বলে চালিয়ে দিতেন। আজকাল এসব কথা আমাদের বর্তমান প্রজন্ম ভাবতেই পারে না। মনে করে রূপকথার গল্প শোনানো হচ্ছে। শিক্ষার আলো ক্রমে ক্রমে এই সামাজিক অন্ধকার দূর করেছে। এখন চৌদ্দ বছরের মেয়েকে তো শিশু বলা হয়ই, আঠারো বছরেও অনেক মেয়েকে বিয়ে দিতে চায় না বাবা-মা। প্রথম দিকে এই সিদ্ধান্তগুলো এসেছে বাবা-মা-অভিভাবকদের তরফ থেকে। এখন মেয়েরাও সচেতন হয়েছে। লেখাপড়ার মাঝখানে তারাও বিয়ে করতে চায় না। রাখঢাক বা লজ্জা শরমসহ নয়, মুক্ত মনেই বিয়েতে ঘোর আপত্তি জানায় তারা। সমাজ তাও মেনে নিচ্ছে।  প্রশ্ন হলো, এমন আলোকিত সমাজের বাসিন্দা কতজন? নগর বা শহরের বাইরে গেলেই অন্য চিত্র। গ্রামীণ সমাজে এখনও যথেষ্ট সংস্কার আছে। আছে সামাজিক প্রতিরোধ। আর সার্বিকভাবে, কি শহর কি গ্রামে, আছে মেয়েদের জন্য অনিরাপত্তা। অন্যদিকে প্রান্তিক গ্রামগুলোর কোথাও কোথাও আছে কঠোর ফতোয়ার অভিশাপ। আগে ওসব কথা জানাও যেত না। বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তির বদৌলতে কিছু কিছু জানা যায়। এ ছাড়া এখন মেয়েরা নির্যাতনের কথা প্রকাশ্যে বলছে। বিচারের আশায় নালিশ জানাচ্ছে, যা দুই তিন দশক আগেও কল্পনা করা যায়নি। নিঃসন্দেহে এটা ব্যক্তিসত্তার সচেতনতা। সাহস এবং প্রতিবাদের স্বাভাবিক প্রকাশ। সমাজবাসী চাক বা নাই চাক, এই অন্ধকারাগার ভেঙেছে মেয়েরাই। একেবারেই গ্রামীণ মেয়েরা। বুকে যাদের একদিকে চাপ চাপ অন্ধকারের দংশন, অন্যদিকে জীবনসত্তা প্রকাশের জন্য আকণ্ঠ আলোর তৃষ্ণা। শুধু সমাজের সামনে নয়, প্রকাশ্য আদালতে দাঁড়িয়ে লাঞ্ছনার বর্ণনা দেয় নারী নির্ভীক উচ্চারণে। সমাজকে তা দেখতে এবং শুনতে হয়। হজমও করতে হয়। এরপর কোথাও সে নারীর আশ্রয় না হওয়ারই কথা। কন্যা জায়া জননীর মর্যাদা তো ঠুনকো। মহান মুক্তিযুদ্ধে লাঞ্ছিত মা-বোনদের ইতিহাস তো কালের পাতায় লেখাই আছে। বাকি রইল ভগ্নির ভূমিকা। কিন্তু সেই সম্মান কি তারা পায়? শুরু হয় জীবন সংগ্রাম।  বস্তুতপক্ষে আশ্রয়চ্যুত মেয়েরা এই সমাজের চোখে শরীরসর্বস্ব বস্তু। তবু তারা মাথানত করে না। বাড়ি বাড়ি কাজ করে। বিয়ে করে, সংসার করে। ছেলেমেয়ে হয়। স্বামী ছেড়ে যায়। আবার বিয়ে করে। কোনো সময় কেউ শরীর বেঁচে আয় করতে বাধ্য হয়। তবু বাঁচতে চায়। সমাজই ওদের এমন সাহসী করেছে। কারণ দেহ বিক্রির খরিদ্দার তো সমাজের পুরুষরাই। তাদের গোপন একটা সমর্থন তো থাকেই।
আমাদের সমাজে পতিতাদের জন্য লোকের মায়াদয়া তো নেই-ই, করুণাও নেই। কিন্তু পতিতারা সবাই ধোয়া তুলসীপাতা। কিছু মানবাধিকার সংস্থা এখন নিগৃহীত মহিলাদের জন্য ন্যূনতম অধিকারের প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে মহিলাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, কামনা কালীয় দহে যে নিষ্পাপ শিশুদের জন্ম, তাদের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে জনসচেতনতামূলক আলাপ-আলোচনার সূচনা করেছে। সম্প্রতি ‘এশিয়ান কোর্ট অব উইমেন’ অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের নিগৃহীত লাঞ্ছিত মেয়েরা সর্বসমক্ষে তাদের কষ্টের কথা বলেছে। কেঁদেছে, বহু নরনারীকেও কাঁদিয়েছে। ওদের জন্যও যে মানুষ কাঁদে, সেই প্রথম দেখলাম। দারিদ্র্য এবং প্রতারণার শিকার হয়ে তারা যে যন্ত্রণার জীবনাবর্তে হাবুডুবু খাচ্ছে, এর জন্য যে তারা দায়ী না হয়েও কষ্ট পাচ্ছে এবং ওদের এই কষ্ট যে মানবতার দুয়ারে এসে বেদনাবিহ্বল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারল, তা দেখে অভিভূত হয়েছেন অনেকে। সভ্য সমাজ দেখল, প্রতারক, পাচারকারীর চেহারা, দেখল পরিস্থিতির শিকার অসহায় মেয়েদের বিষাদমগ্ন বিপন্ন জীবনের কষ্ট। ওরা কারো কন্যা, জায়া বা জননী নয়। তবু মানুষ তো! সমাজের এই উপলব্ধি দিনে দিনে বাড়–ক। আর কমে যাক ওদের জীবন যন্ত্রণা, শোষণ, বঞ্চনা আর নির্যাতন। এদের জন্য মানবাধিকার সংস্থাসহ অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সেবা কার্যক্রম আরও অনেক অনেক বেশি ও ব্যাপক হোক, এটাই আমরা চাই।
নাগরিক জীবনের আলোকিত মানুষেরা সবাই জানেন যে, আঠারো বছর বয়সের আগে মেয়ের বিয়ে দেয়া বেআইনি। তা সত্ত্বেও বেশকটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দেখলাম যে কনের বয়স সতেরো পূর্ণ হয়েছে বা হয়নি। তাদের অভিভাবকদের বক্তব্য হলো, ভালো পাত্র হাতছাড়া করতে চাইনি। প্রশ্ন হলো, আলোকিত মানুষদের জ্ঞান দান করবে কে? যারা সমাজকে অধিকতর আলোর ঠুলি এঁটে বেআইনি কাজ করেন। আত্মজদের দেহ মন বুদ্ধির পরিপক্বতা নিয়ে মাথা ঘামান না। মুক্তবুদ্ধির সমাজ মানসে কা-জ্ঞান রহিত কতিপয় আলোকিত মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি সাধারণ মানুষের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে সে বিতর্কে কাজ নেই আমাদের। আমরা চাই সুস্থ বুদ্ধির সমাজ মানস। মানুষের দৃষ্টিতে যেখানে মেয়ে শুধু মেয়ে নয়, সন্তান। মানবসন্তান। কারণ মানবাধিকারের কনসেপ্টে নারী পুরুষ উভয়েই অন্তর্ভুক্ত। মেয়েকে আলাদা দৃষ্টিতে বিচারের কোনো ক্লজ নেই সেখানে। আগেই বলেছি, বিয়ে ভেঙে গেলে মেয়েরা প্রথাসিদ্ধ আশ্রয় থেকে ছিটকে পড়ে। আর তখন তার যদি সন্তান থাকে, তাহলে জটিলতা বৃদ্ধি পায় বহুগুণ। মা-বাবা হয়তো আইনি লড়াই করতে পারেন, জিতেও যেতে পারেন যে কোনো পক্ষ। তাতেও সমস্যার সমাধান হয় না। মায়ের কাছে সন্তান থাকলে বাবা খরচ দিতেও পারেন, নাও পারেন। এসব টানা-হেঁচড়ায় কষ্ট পায় শিশুটি। আর শিশুটি যদি পুত্র হয়, তাহলে মায়ের বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সমাজের এই দৃষ্টিভঙ্গি নারীবাদী কর্মীদের কাছে খুব নিন্দার। মায়ের কাছে পুত্র বা কন্যার জন্ম দেয়ার কষ্ট একই রকম। সন্তান মানেই মায়ের বুকের নিধি। পুত্র-কন্যার প্রতি এমন বৈষম্যমূলক আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গি সন্তানের জন্যই অশুভ। এসব কথা এখন আলোকিত মানুষেরা বোঝেন। কিন্তু তাদের সংখ্যা খুব কম।
মধ্যবিত্ত পরিবারে ঘরে কাজের লোক তো থাকেই। আজকাল ছোটো সংসারের গৃহিণীরা কাজের বুয়া বা মেয়েই পছন্দ করেন। তাদের সঙ্গে একটু মানবিক ব্যবহার করতে কোনো বাড়তি অর্থ ব্যয় হয় না। তবু দেখা যায়, গৃহিণীদের কেউ কেউ কাজের মেয়ের প্রতি সামান্য কারণে দুর্ব্যবহার করেন। নির্যাতন করেন। এমনকি কোনো কোনো বাসাতে পুরুষ সদস্যরা তার সম্ভ্রমও বিপদগ্রস্ত করে তোলেন। এসব ক্ষেত্রে আইনের চেয়ে ব্যাপক সামাজিক সচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। সবচেয়ে বড় কথা, কাজের লোককে নির্যাতন করলে বাড়ির পরিবেশ খারাপ হয়। সন্তান-সন্ততি সেগুলো শেখে এবং ভবিষ্যৎ জীবনে খুব স্বাভাবিকভাবেই সেগুলো রিপ্লে করে।
নারী হলো মায়ের জাত। আমরা বলি, ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা, সব শিশুদের অন্তরে। এই শিশু এবং পিতা শব্দ দুটি বুঝিয়ে দেয় যে আমরা পুত্রসন্তানের কথাই বলতে চেয়েছি। পাশাপাশি তাহলে বলা উচিত, ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর মাতা, সব মায়েরই অন্তরে’। এক কন্যারই তো চার রূপ। পরিবার পরিকল্পনার বরাতে এখন ছোটো ছোটো পরিবারে নানী-দাদিদেরও একটা ভূমিকা দেখা যায়।
সেটা অর্থবহ এবং সম্মানের। যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ার পর এটা আবার গড়ে উঠছে শিশুদের কল্যাণেই। কাজেই দেখা যায় মেয়েদের কোনো ভূমিকাই কিন্তু ছোটো নয়। তাই মায়ের জাতকে সম্মান ও গুরুত্বের সঙ্গে গড়ে তুলতে হবে আমাদের। সেজন্য চাই ব্যাপক এবং জীবনঘনিষ্ঠ নারী শিক্ষা। সর্বস্তরের নাগরিক তথা মানুষের মধ্যে নারীশিক্ষা প্রসারের সচেতনতা জাগাতে হবে। শিক্ষিত নারীকেও ভাবতে হবে যে, পুরুষ পক্ষ তার সম্পূরক, প্রতিপক্ষ নয়।
বেগম রোকেয়া এক শতাব্দী আগে বলেছেন, নারী শিক্ষা এবং নারী মুক্তি ছাড়া সামাজের কল্যাণ সম্ভব নয়। গৃহ থেকেও শুরু হয় সন্তানের শিক্ষা।
জীবনের নানাবিধ আচরণিক শিক্ষা। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিত মায়ের বিকল্প শিক্ষক নেই। আর নারী শিক্ষার সুফল তো সবচেয়ে বেশি পায় পরিবার। এসব দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি বোনদের জন্য সমাজের নারী-পুরুষ উভয়কেই মমতা ও সম্মানের মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। পথেঘাটে বোনের চলাচলে নিরাপত্তা দিতে হবে।
কর্মী বোনদের জন্য পোষণ করতে হবে সহযোগিতা এবং সহমর্মিতা। হিং¯্রতা কিংবা রিপুবশ আচরণে সমাজের সার্বিক ক্ষতিই হয়। নারীকে তাই মানুষের ভূমিকায় প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তাহলে আমরা পাব স্বস্তি এবং শান্তির জীবন। এই কাজ কারো একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। এমন সামাজিক মন মানসিকতা গড়ে তোলার জন্য চাই আমার, আপনার সবার আন্তরিক সহযোগিতা। চাই সকলের সংস্কারমুক্ত সুস্থ মনের সবল সমর্থন।
বেগম জাহান আরা/কামরুন নাহার/হোসেন
(পিআইডি-ইউনিসেফ ফিচার)



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ