Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২, ২৩ আষাঢ় ১৪২৯, ০৭ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীসহ ৩ জনের মৃত্যুদ- আপিলে বহাল

| প্রকাশের সময় : ২৫ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীসহ তিনজনের ফাঁসির রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। আসামিদের করা আপিল আবেদন খারিজ করে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। তানিয়া ইয়াসমিনের স্বামী মোহম্মদ জাহিদ হোসেন জুয়েল, গাড়িচালক মোহম্মদ শাহিন আলম ও ভাড়াটিয়া খুনি মোহম্মদ মিজানুর রহমান। তিন আসামিই বর্তমানে কারাগারে আছেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোন্দকার দিলীরুজ্জামান। অপরদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।  খোন্দকার দিলীরুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুযায়ী আসামিরা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করতে পারবেন।
জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৭ জানুয়ারি জাহিদ স্ত্রী তানিয়া ইয়াসমিনকে নিয়ে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যান। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা কুয়াকাটার একটি হোটেলে ওঠে। ৩০ জানুয়ারি কুয়াকাটা থেকে ফেরার পথে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার রাজপাড়া নামক স্থানে গাড়িতে স্বামী জাহিদের সাজানো ছিনতাইয়ের কবলে পরে। ছিনতাইকারী সেজে ভাড়াটে খুনি মিজান, স্বামী জাহিদ ও গাড়ির চালক শাহিন গাড়ির ভেতরে তানিয়াকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ১০ মাসের শিশুসন্তানসহ তানিয়াকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যায় আসামিরা। ঘটনাস্থলে তারা কাশেম নামের একজনের ভুয়া পরিচয়পত্র ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তানিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় পরের দিনই তানিয়ার ভাই রায়হান গফুর বাদী হয়ে জাহিদ ও কাশেমের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দু’জনকে আসামি করে কলাপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
আসামিরা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। বিচার শেষে পটুয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ আদালত তিন আসামিকে মৃত্যুদ-াদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১২ সালের ৮ জুলাই তিনজনের বিরুদ্ধে বিচারিক আদালতের মৃত্যুদ-াদেশই বহাল রাখে। পরে আসামিরা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যান। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ তাদের আপিল খারিজ করে রায় দেন। ফলে তাদের মৃত্যুদ-ই বহাল রইল।
বেচুমিয়ার ফাঁসি হাইকোর্টে বহাল : কুমিল্লার নাঙ্গলকোর্টের কিশোরী শাহেনা আক্তার হত্যা মামলায় পলাতক মীর হোসেন ওরফে বেচু মিয়ার মৃত্যুদ- বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এই মামলায় বিচারিক আদালত থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আব্দুল ওয়াহাব মজুমদারকে খালাস দিয়েছেন আদালত। বিচারপতি আবু বরক সিদ্দিকী এবং বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান রুবেল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী বজলুল রশিদ ও দেলোয়ারা বেগম বেলা। মীর হোসেনের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আশরাফুল ইসলাম। আব্দুল ওয়াহাব মজুমদারের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আব্দুল মতিন খসরু।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ