Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৫ আশ্বিন ১৪২৫, ৯ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ক্রিকেটারদের সংখ্যা কমছে

| প্রকাশের সময় : ২৬ জানুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

শামীম চৌধুরী : বছরের প্রথম দিন থেকে এক বছরের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ক্রিকেটারদের মেয়াদ নবায়ন করা এখন রেওয়াজে পরিণত। এই ধারাবাহিকতা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় দলের অপরিহার্য ক্রিকেটারদের সাথে চুক্তি নবায়ন করার কথা বিসিবি’র। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল নিউজিল্যান্ড সফরে থাকায় এ বছরের জন্য কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বিবেচ্য ক্রিকেটারদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়নি বিসিবি। শুধু নিউজিল্যান্ড সফরের কারণেই নয়, কেন্দ্রীয় চুক্তির নতুন ফর্মুলা তৈরি করতে এই প্রক্রিয়া এবার বিলম্বিত হচ্ছে। ১ জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় চুক্তি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও  নতুন চুক্তিতে ক্রিকেটারদের তালিকা এখনো তৈরি করেনি নির্বাচকম-লী। ইতোপূর্বে যে বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বিবেচ্য হয়েছেন ক্রিকেটাররা, সেই পদ্ধতিতে এ বছর কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ক্রিকেটারদের বিবেচিত হচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।
কেন্দ্রীয় চুক্তিতে বেতনের আওতায় ক্রিকেটারদের সংখ্যা বিগত বছরগুলোতে ১৪ থেকে ১৫ জন হলেও এ বছরে সংখ্যাটা নেমে আসতে পারে অর্ধেকের কাছাকাছি বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধু এক ফরমেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলে এতোদিন যারা কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় থেকেছেন, নুতন ফর্মুলায় কপাল পুঁড়ছে তাদের। এ বছর ১০টি ওয়ানডে এবং ছয়টি টি-২০’র পাশে ৯টি টেস্ট বরাদ্দ বাংলাদেশের। এই হিসাব মাথায় রেখে তিন ফরমেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অপরিহার্যদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেতনের আওতায় রাখার তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচকÑ‘এক ফরমেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেও এর আগে বেতনের আওতায় রাখা গেছে ক্রিকেটারদের। এবার তা পারছি না। যারা তিন ফরমেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছে, তাদেরকে অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে। এই বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বেতনের আওতায় ৮ ক্রিকেটারকে পাচ্ছি আমরা। এ বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ, এই বিষয়টিও রাখতে হচ্ছে মাথায়।’
কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আসছেন না দল থেকে বাদ পড়া নাসির, আল-আমিনের সাথে আরাফাত সানিও। ২০১৬ সালের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা এই তিন ক্রিকেটারের কেউ একটি টেস্ট ম্যাচও খেলেননি। নাসির দুইটি ওয়ানডে ম্যাচ খেললেও অন্য দুইজনের কপালে তা জোটেনি। টি-২০ খেলেছেন সেখানে আল-আমিন ১৪টি, আরাফাত সানি চারটি। বছরে দুই টেস্ট ৯ ওয়ানডে এবং ১৬টি টি-২০ ম্যাচের মধ্যে এতো কম সংখ্যক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েও কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় এই তিন ক্রিকেটারের পেছনে ৩৬ লাখ টাকা বেতন গুনতে হয়েছে বিসিবি’র। ২০১৬ সালে মাত্র দু’টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ‘বি’ গ্রেডের ক্রিকেটার নাসির বছরে বেতনের খাত থেকে উত্তোলন করেছেন ১৮ লাখ টাকা। সেখানে চারটি টি-২০ ম্যাচ খেলে ‘ডি’ গ্রেডের ক্রিকেটার আরাফাত সানি  এই খাতে পেয়েছেন ৯ লাখ এবং ১৪টি টি-২০ ম্যাচ খেলে আল-আমিন তুলেছেন বেতন খাত থেকে সমপরিমাণ অর্থ। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তিন মাস পর কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ‘সি’ গ্রেডে ( বেতন মাসে এক লাখ ১২ হাজার টাকা)  অন্তর্ভূক্ত হওয়া রুবেল হোসেনের সার্ভিস পেয়েছে বাংলাদেশ মাত্র দু’টি ওয়ানডে ম্যাচে! কেন্দ্রীয় চুক্তির বিদ্যমান নিয়মে সংশোধন তাই নির্বাচকম-লীর কাছে জরুরি হয়ে পড়েছে।
দুই ফরমেটের ক্রিকেটে অধিনায়ক হয়েও গত বছর মুশফিকুর, সাকিব, তামীমের চেয়ে কম বেতন পেয়েছেন মাশরাফি। নতুন এই ফর্মুলায় কদর আরো কমছে মাশরাফির। কারণ, এ বছরও টেস্টের বাইরে থাকতে হবে সংক্ষিপ্ত ফরমেটের ক্রিকেটে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফিকে। অন্য দিকে শুধুই টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচনায় থাকায় মুমিনুল এবং তাইজুলের কদরও কমছে।
২০১৩ সালে ক্রিকেটারদের বেতন ৩০ শতাংশ হারে বাড়িয়ে বাহাবা পেয়েছে বিসিবি। মাসে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে বেতন তিন লাখ টাকায় উন্নীত হয়েছে মুশফিকুর রহিমের। শুধু এক বছরেই মাসে বেতন বেড়েছে তার ৬০ হাজার টাকা। গত বছর সেখানে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের বেতন ২৫ শতাংশ হারে বাড়িয়ে দেয়ায় বছরে বেতন খাতে গুনতে হয়েছে বিসিবিকে  কোটি ৭৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। ১৫ ক্রিকেটার হয়েছে সন্তুষ্ট। তবে গত চার বছরের মধ্যে দুইবার মিলিয়ে ৭৫ শতাংশ হারে বেতন বৃদ্ধি করে ক্রিকেটারদের উৎসাহিত করলেও এবার ক্রিকেটারদের বেতন জ্যামিতিক হারে বাড়ানোর পক্ষে নয় বিসিবি। এমনটাই জানিয়েছেন বিসিবি সিইও নিজামুদ্দিন চৌধুরী সুজন- ‘এর আগে দুইবার বেতন বড় অঙ্কে বর্ধিত করা হয়েছে। তাই এবার বিরতি দিতে হচ্ছে। ক্রিকেটারদের বেতন এবারো বাড়বে, তবে তা অপ্রত্যাশিত নয়।’ ক্রিকেটারদের ধার্যকৃত নতুন বেতন এবং বেতনের আওতায় ক্রিকেটারদের তালিকা অনুমোদনের জন্য প্রয়োজন বিসিবি’র পরিচালনা পরিষদের অনুমোদন। তাই আরো কিছুদিন অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ