Inqilab Logo

সোমবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৩ মাঘ ১৪২৮, ১৩ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

ডিএসইতে ধারাবাহিকভাবে লেনদেন কমছে

| প্রকাশের সময় : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : ধারাবাহিকভাবে শেয়ারবাজারে আর্থিক লেনদেন কমে যাচ্ছে। এরই আলোকে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শেষ সাত কার্যদিবসের ব্যবধানে ৬০ শতাংশ লেনদেন কমেছে। সাত কার্যদিবস আগে ২৩ জানুয়ারি ডিএসইতে ২ হাজার ১৮০ কোটি ৭৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছিল। যা ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে গকাল বুধবার ৮৮২ কোটি ৫৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ হিসাবে লেনদেন কমে গেছে ১ হাজার ২৯৮ কোটি ২৩ লাখ টাকার বা ৫৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
এর আগে ২৪ জানুয়ারি লেনদেন হয় ২ হাজার ১৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকার। যা ২৫ জানুয়ারি কমে হয় ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯৪ লাখ টাকা, ২৬ জানুয়ারি ১ হাজার ২৬৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা, ২৯ জানুয়ারি ১ হাজার ১৩৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা, ৩০ জানুয়ারি ১ হাজার ৭৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা ও ৩১ জানুয়ারি ৯৫৬ কোটি ৭২ লাখ টাকার লেনদেন হয়।
এদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গত কার্যদিবসের চেয়ে  সূচক বেড়ে শেষ হয়েছে এ দিনের লেনদেন কার্যক্রম। তবে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কমলেও বেড়েছে সিএসইতে এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট এবং সিএসইতে প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ৩ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বেড়েছে।
উভয় পুঁজিবাজারে মোট লেনদেন হয়েছে ৯৩৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড। গত কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল এক হাজার ৬ কোটি ৩০ লাখ। ডিএসইতে টাকার অঙ্কে মোট লেনদেন হয়েছে ৮৮২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। গত মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ৯৫৬ কোটি ৭২ লাখ টাকা। সুতরাং এক কার্যদিবসের ব্যবধানে ডিএসইতে লেনদেন কমেছে ৯৮ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।
ডিএসইতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৭৩ পয়েন্টে, ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ৪ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ২৭২ পয়েন্টে এবং ০ দশমিক ৪৯ পয়েন্ট বেড়ে ডিএসই-৩০ সূচক দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৯৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩২৭টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৮৩টির, কমেছে ১১২টির এবং কোনো পরিবর্তন হয়নি ৩২টি কোম্পানির শেয়ার দর।
এছাড়া টাকার অঙ্কে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো- ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো লিমিটেড, কনফিডেন্স সিমেন্ট, আরএসআরএম স্টিল, লংকা-বাংলা ফাইন্যান্স, সাইফ পাওয়ার, বারাকা পাওয়ার, ইবনে সিনা, ওরিয়ন ফার্মা এবং অ্যাপোলো ইস্পাত।
বৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি- জেনারেশন নেক্সট, ফার্মা এইড, গোল্ডেন সন, অ্যাপোলো ইস্পাত, স্টাইল ক্র্যাফট, ফ্যামিলি টেক্স, এমারেল্ড অয়েল, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ন্যাশনাল ফীডস ও রহিম টেক্সটাইল। অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কো¤পানি- ১ম প্রাইম ফাইন্যান্স, সাভার রিফ্রেক্টরীজ, ফনিক্স ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, তাক্কাফুল ইন্সুরেন্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ইসলামি ব্যাংক, ওরিয়ন ইনফিউশন, ইসলামিক ফাইন্যান্স ও প্রগ্রেসিভ লাইফ।
অন্যদিকে সিএসইতে মোট শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ৫০ কোটি ৮১ লাখ টাকা। গত মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ৪৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা টাকার শেয়ার। সুতরাং সিএসইতে গত কার্যদিবসের থেকে শেয়ার লেনেদেন বেড়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার বেশি।
সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ৩ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বেড়ে ১০ হাজার ২৭৬ পয়েন্টে, সিএএসপিআই সূচক ৭ দশমিক ৮২ পয়েন্ট বেড়ে ১৬ হাজার ৯৪৫ পয়েন্টে, সিএসই-৫০ সূচক ২ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৪৬ পয়েন্টে এবং সিএসই-৩০ সূচক ৩ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৭৭১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫৬টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩২টির, কমেছে ১০০টির এবং কোনো পরিবর্তন হয়নি ২৪টি কোম্পানির শেয়ার দর। টাকার অঙ্কে এদিন সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো- বেক্সিমকো লিমিটেড, ইসলামী ব্যাংক, জেনারেশন নেক্সট, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, ন্যাশনাল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, সাইফ পাওয়ার, কনফিডেন্স সিমেন্ট এবং বিএসআরএম স্টিল।
এছাড়া দেশের শেয়ারবাজারে নতুন উচ্চতায় উঠে এসেছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন। সদ্য সমাপ্ত জানুয়ারি মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার লেনদেন করেছে ১ হাজার ৩৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকার। দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে এর আগে কখনো এক মাসে এতো টাকার শেয়ার লেনদেন করেনি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা।
জানুয়ারি মাসে বিদেশিরা শেয়ারবাজার থেকে ৬১১ কোটি ২৫ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয় করে। এর বিপরীতে বিক্রয় করে ৪২৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাসটিতে বিদেশিদের শেয়ার বিক্রয় থেকে ক্রয় বেশি হয়েছে ১৮৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এর আগে গত ডিসেম্বর মাসজুড়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার লেনদেন করে ৯৭৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার।
এদিকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বছরভিত্তিক শেয়ার লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০১৬ সালজুড়ে বিদেশিরা ৮ হাজার ৭৭৩ কোটি ২৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে। দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে এটিও নতুন রেকর্ড ছিল।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ