Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থায় রেলের গুরুত্ব

| প্রকাশের সময় : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন : যেকোনো দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা দীর্ঘস্থায়ী এবং নিরাপদ যাতায়াতের ক্ষেত্রে রেলের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি সাশ্রয়ী নিরাপদ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে রেল একটি জনপ্রিয় পরিবহন। আমাদের সীমিত সম্পদ, জনসংখ্যার আধিক্য, নিম্ন আয় ও কৃষিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থায় রেলের গুরুত্ব ব্যাপক। যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে, বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান, পণ্য পরিবহনে, অর্থনৈতিক কর্মযজ্ঞের ব্যাপক প্রসার এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে রেলকে আধুনিকায়ন ও জনপ্রিয় করে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
প্রাচীনকাল থেকেই বাংলাদেশে বিশেষ করে ভারত উপমহাদেশে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নদী পথের গুরুত্ব থাকলেও কালক্রমে রেলপথের আবির্ভাব গোটা উপমহাদেশে ঘটিয়েছে অভাবিত উন্নয়ন। রেল ব্যবস্থাকে ভারত উপমহাদেশের ক্ষেত্রে বলা হয় আধুনিকতার পথে প্রথম পদক্ষেপ। শিল্পায়ন, নগরায়ন, জ্ঞান, বিজ্ঞান ও এ দেশের আর্থ-সামাজিক অচলায়তনের ধারা ভেঙে পুঁজি ও শিল্পনির্ভর সমাজ ব্যবস্থা বিনির্মাণে রেলওয়ে পালন করেছে অভূতপূর্ব ভূমিকা। অর্থাৎ পুরো সমাজ জীবনে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে রেলপথের সুবাদেই। সেই ধারাবাহিকতায়ই ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার দর্শনা জগতী সেকশনে ৫৩ কিলোমিটার রেললাইন স্থাপনের মধ্যদিয়ে উপমহাদেশের এ অঞ্চলে রেলের গোড়াপত্তন। শুরু থেকেই রেল এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে পালন করছে যুগান্তকারী ভূমিকা।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দু’শ বছরের শাসনকাল থেকে যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে রেলপথ ছিল কেন্দ্রীয় ভূমিকায়। এরই মাঝে ঘটেছে শিল্পায়ন, নগরায়ণ, বেড়েছে জনসংখ্যা। তার সাথে সঙ্গতি রেখে বেড়েছে জনগণের চাহিদা, সড়ক পথের ঘটেছে অভূতপূর্ব বিস্তার। একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে আমাদের শহর জীবন হয়েছে জনাকীর্ণ, অতি যান্ত্রিকতায় পূর্ণ এবং এখানে জনসংখ্যা বেড়েছে অতি মাত্রায়। ফলে সড়ক পথের উপর পড়ছে অতিরিক্ত চাপ, প্রাইভেট গাড়ির আধিক্যও কম নয়। গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে ঠিক কিন্তু দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে তালে তাল মিলিয়ে।
এ দেশের ৫০ শতাংশ মানুষ বাস করে দারিদ্র্যসীমার নিচে। যাদের অধিকাংশের কাছে ‘স্কাইরেল’, ‘পাতালরেল’, ‘ম্যাগনেটিভ ট্রেন’ দুঃস্বপ্ন। এই দরিদ্র মানুষগুলোর যোগাযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করাও অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। অন্যদিকে আজকের বৈশ্বিক বাস্তবতায় চলছে জ্বালানি সংকট। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেখে জ্বালানি একটি বড় সমস্যা এবং তা শুধুমাত্র বর্তমানের জন্য নয়, ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতেও প্রভাব বিস্তার করবে। দেশের জ্বালানির একটা বড় অংশ ব্যয় হচ্ছে সড়ক পথে চালিত পরিবহনে। উপরন্তু অতিরিক্ত পরিবহন ব্যবহারের কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। যা শস্য উৎপাদনে ফেলছে নেতিবাচক প্রভাব।
খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় ভূমির পরিমিত ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। দেশে প্রতিবছর কৃষি জমি কমছে। পরিকল্পনাহীন সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণের অন্যতম কারণ। অতিমাত্রায় সড়ক পথের উপর নির্ভরশীল হওয়ার কারণে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটছে অগণিত প্রাণহানী, যা একদিকে মানব সম্পদের অপচয় এবং হৃদয় বিদারকও বটে। অন্যদিকে রেলে তুলনামূলক হারে দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম এবং মালামাল পরিবহনের মাধ্যমে দেশের শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশ্বের অনেক দেশে বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে রেলকে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বাহন হিসেবে সম্প্রসারণ করছে। সেই ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিবেশ, যানজট সমস্যা, নিরাপত্তা, ভূমির পরিমিত ব্যবহার, জ্বালানি সমস্যা ও বেশি পরিমাণ পণ্য পরিবহনের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে রেলকে আধুনিকায়ন ও যুগপোযোগী করে তোলা আবশ্যক।
প্রাচীন এই যোগাযোগ মাধ্যমটিকে ব্যাপক দরিদ্র জনগোষ্ঠী, শিল্পায়ণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে কীভাবে টিকিয়ে রাখা যায় এবং আধুনিক ও যুগপোযোগী করা যায় সেই লক্ষ্যে ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ প্রত্যেকের নিজস্ব অবস্থান থেকে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি এবং এই দাবির পক্ষে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর সমর্থন তৈরি আজকের সময়ের প্রথম দাবি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশে দেশে সড়ক পথের অভূতপূর্ব বিস্তার ঘটেছে। বাংলাদেশেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। কিন্তু রেলওয়ের মাধ্যমে একসাথে বেশি পরিমাণ মালামাল পরিবহনের সুবিধা, যানজট সমস্যা না থাকায়, ভূমির পরিমিত ব্যবহার, জ্বালানি খরচ সাশ্রয়, নিরাপদ যাতায়াত এবং অপেক্ষাকৃত কম পরিবেশ দূষণ করার কারণে পৃথিবীজুড়ে সকল দেশেই রেলকে আবার গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নেয়া শুরু হয়েছে। অথচ আমাদের দেশে এই খাতটি এখনও পর্যন্ত চরম অবহেলার মধ্যে রয়েছে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের শেষে এ দেশে কেবলমাত্র ৬০০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ছিল তা বেড়ে এখন প্রায় ৪৯,৫০০ কিলোমিটার হয়েছে যার মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ১৩,০০০ কিলোমিটার এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের ৩৬,৫০০ কিলোমিটার। অন্যদিকে রেলওয়ে নেটওয়ার্ক ১৯৪৭ সালের ২,৮০০ কিলোমিটার থেকে ২,৭০০ কিলোমিটারে নেমে গিয়েছিল। সম্প্রতি পার্বতীপুর হতে মধ্যপাড়া কঠিন শিলা ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি পর্যন্ত এবং যমুনা সেতু রেল লিংক প্রকল্পের আওতায় জামতৈল হতে জয়দেবপুর পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণের ফলে বর্তমানে রেলপথের দৈর্ঘ্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়ে ২,৮৪৮ কিলোমিটার হয়েছে। এর ব্যপ্তি আরো বাড়ানো প্রয়োজন। যে সব জেলা অথবা থানা রেল নেটওয়ার্কের আওতায় নেই, সেসব জেলা ও থানাগুলোকেও রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে অন্যতম প্রধান পরিবহন রেল। রেল এর সাহায্যে ধান, গম, চাউল, পাট, তামাক, আখ ইত্যাদি কৃষিজাত পণ্য এবং সার-কীটনাশক, কৃষি সরঞ্জাম এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আনা-নেওয়া করা হয়। তাছাড়া এতে করে পরিবহন করা হয় শিল্পজাত পণ্য এবং নদী বন্দরের সাহায্যে যে সমস্ত পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করা হয় তারও একটা অংশ রেলওয়ের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। এতে পরিবহন খরচ কম থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যও মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা সম্ভব।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি তা হলো, দেশের অধিকাংশ মানুষ স্বল্প আয়ের। এই স্বল্প আয়ের মানুষগুলো যাতায়াত সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশ রেলওয়েতে অর্থের মাপকাঠি এবং সুবিধা প্রদানের বিচারে তিন ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কামরা। এখানে যারা বিলাসবহুল জীবনে অভ্যস্ত এবং আর্থিকভাবে যারা অনেক বেশি সচ্ছল তারা যাতায়াত করে থাকেন। প্রথম শ্রেণিতেও যারা অপেক্ষাকৃত আরামে বা একটু পয়সা বেশি দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে যেতে চান তারা যাতায়াত করে থাকেন। অপরটি দ্বিতীয় শ্রেণি। এই কামরায় সাধারণত কম পয়সাওয়ালা অর্থাৎ দরিদ্র শ্রেণির যাত্রীরা যাতায়াত করে থাকেন।
আমরা যদি বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহনের চিত্রটি অবলোকন করি তাহলে দেখতে পাব এই দরিদ্র শ্রেণির মানুষ রেলে বেশি যাতায়াত করে থাকে। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী ৯৮.৬% যাত্রী দ্বিতীয় শ্রেণিতে, ১.৩৬% প্রথম শ্রেণিতে এবং ০.০৫% যাত্রী শীততাপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় যাতায়াত করে থাকে। এর প্রধানতম কারণ রেলওয়ে খুব স্বল্প খরচে যাতায়াত সুবিধা প্রদান করে থাকে।
সমগ্র বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট ক্রমান্বয়ে ঘনীভূত হয়ে আসছে। জ্বালানির যে পরিমাণ মজুদ আছে তা আগামী ২০৫০ সাল পর্যন্ত বিশ্বের মানুষের চাহিদা মেটাতে পারবে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। বাংলাদেশে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে তা আগামী ২০২৫ সাল পর্যন্ত দেশের চাহিদা মেটাতে পারে। এমনিতেই আমরা জ্বালানির জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল। গ্যাস সম্পদ শেষ হওয়ার পর এই নির্ভরশীলতা আরো বেশি বৃদ্ধি পাবে।
জ্বালানির মজুদ কমার সাথে সাথে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এ প্রতিযোগিতায় তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর টিকে থাকা দুষ্কর। সুতরাং জ্বালানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নজর দেওয়া খুবই জরুরি।
পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও নিরাপদ পরিবহন মাধ্যম হিসেবে এবং টেকসই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে রেলওয়ের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় পরিবহন মাধ্যম। রেলওয়ের মাধ্যমে একসাথে অনেক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা যায়। ফলে পরিবেশ দূষণ, জ্বালানি খরচ ও ভূমির ব্যবহার কম হয়।
দেশের একটা বড় সংখ্যাক জনগোষ্ঠী কর্মহীন অবস্থায় রয়েছে। এদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে রেল পরিচালন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে এর রক্ষণাবেক্ষণের সাথে যেমন অনেকগুলো মানুষ যুক্ত থাকে তেমনি এর যে সমস্ত স্টপেজগুলো আছে তার আশপাশের এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠে বাজার। যেখানে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়ে থাকে। আবার দেশীয় শিল্প বিকাশের ক্ষেত্রেও রেলওয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
আমরা যদি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাব তাদের কলকারখানা থেকে শুরু করে সমস্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে রেল স্টেশনগুলোকে কেন্দ্র করে। আজকে আমাদের দেশেও যে সমস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের শিল্প গড়ে উঠেছে তার বিকাশ ঘটাতে হলে রেলওয়েকে আরো বেশি শক্তিশালী করা প্রয়োজন। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের জনগণের পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে এই খাতটিকে যে পরিমাণ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন ছিল তা দেয়া হয়নি।
সড়কপথে যাতায়াতের চেয়ে রেলপথে যাতায়াত অনেক বেশি আরামদায়ক। রেলওয়েতে যাত্রীরা অনেক আরামে বসে যেতে পারেন এবং এর কামরাগুলোতে যে সিট রয়েছে সেখানে দু সারির মধ্যে অনেক জায়গা থাকায় যারা দাঁড়িয়ে যান তারাও স্বাচ্ছন্দ্যে দাঁড়িয়ে যেতে পারেন। সিটে বসে প্রয়োজনে ঘুমাতে বা পড়ালেখা করতে পারেন।
ট্রেন লাইনে সাধারণত কোনো যানজট থাকে না। সুতরাং নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো যায়। কিন্তু আমাদের দেশে সড়ক পথে অধিকাংশ সময় যানজট লেগে থাকে। যে কারণে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। ট্রেন একটি আরামদায়ক পরিবহন ব্যবস্থা। এর লাইনগুলো সাধারণত মসৃণ। যে কারণে যাতায়াতে ঝাঁকি কম লাগে। একটি স্টেশনে এসে নির্দিষ্ট পরিমাণ সময় অপেক্ষা করে যাত্রী এবং মালামাল ওঠানামা করার জন্য। যে কারণে বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, শিশু, মহিলাসহ সর্বস্তরের মানুষ নির্বিঘেœ যাতায়াত করতে পারে। অন্যদিকে বাসগুলো স্টপেজে স্থিরভাবে দাঁড়ায় না। সে কারণে গাড়িতে ওঠা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রেন যোগাযোগে দুর্ঘটনা, মৃত্যু এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম। সুতরাং জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্নেরও ট্রেন যোগাযোগে গুরুত্ব প্রদান করা হয়। কারণ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু মানেই কিছু স্বপ্নের মৃত্যু ঘটা।
দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং শিল্পায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। একে লাভজনক একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি এর সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। রেল পরিচালনার ক্ষেত্রে যে ব্যয় হচ্ছে তা পূরণ করে এটিকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা যেমন জরুরি ঠিক তেমনিভাবে দেশের মানুষের যাতায়াত ও পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। যা একটি রাষ্ট্রের জনগণের সাংবিধানিক অধিকার।
পরিবহনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে কিছু সামাজিক দায়-দায়িত্বও পালন করতে হয়। যা রেলওয়ে ছাড়া আর কোন মাধ্যমে এত সহজে করা সম্ভব নয়। যেমন রেলওয়েকে রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্য এবং যাত্রীকে অতি স্বল্প মূল্যে পরিবহনে সাহায্য করতে হয়। অনেক সময় লাভজনক নয় এমন লাইন চালু রাখতে হয় দেশের জনগণের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, সাইক্লোনসহ যে কোন দুর্যোগ কবলিত এলাকার মানুষদের সাহায্যার্থে ত্রাণ ও পুনর্বাসনসামগ্রী নামমাত্র মূল্যে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হয়। কখনো কখনো বিনামূল্যেও সরবরাহ করা প্রয়োজন হয়। প্রয়োজন হয় সামরিক বাহিনীর মালামাল সাধারণ মূল্য অপেক্ষা কম মূল্যে আনা নেয়া করা। যে সুবিধা অন্য কোন মাধ্যম থেকে পেতে হলে আরো অনেক বেশি অর্থ লগ্নি করা প্রয়োজন হবে। তারপরও রেলওয়ের মত সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে না।
রেলওয়ে দেশের সেবা খাতগুলোতে যে সুবিধা প্রদান করছে তার যদি একটি আর্থিক মূল্যায়ণ আমরা দাঁড় করাই তাহলে দেখা যাবে যে, রেল কোনদিনই অলাভজনক কোন প্রতিষ্ঠান ছিল না। রেলের একটি কামরায় অনেক মানুষ যাতায়াত করতে পারে। এখানে পরিবারের সবাই মিলে একসাথে একটি আন্তরিক পরিবেশে যাতায়াত করা যায়। আবার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষও একই কামরায় থাকে। তাদের মধ্যে ভাব বিনিময় হয়, আদান-প্রদান হয় সংস্কৃতির। গড়ে ওঠে পারস্পরিক সখ্যতা এবং পারস্পরিক সহমর্মিতাবোধ। যা একটি মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন জাতি গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। সুতরাং দেশের জনগণের স্বার্থে এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই রেলওয়েকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
রেলওয়ের সমস্যা অনেক, একদিকে সময় বেশি লাগে, সাটার লাগে না, বাথরুম অপরিষ্কার, সিটগুলো ময়লা, ছেঁড়া, ফাটা, জানালা নেই, পরিবেশ নোংরা। এসব হয়েছে দীর্ঘদিনের অবহেলার কারণে, বড় বড় কর্তারা লুটপাট করে এর ব্যবসা নষ্ট করে দিচ্ছে। তারা ঠিকমত দায়িত্ব পালন করে না, টিকেট চেক করে না, কোথায় কি প্রয়োজন সেসব খেয়াল রাখে না। ফলে জনগণের এই বাহনটি ক্রমশ অ-জনপ্রিয় একটি বাহনে পরিণত হচ্ছে। দুর্নীতি কমাতে হবে, ব্যবস্থাপনা ভালো করতে হবে, ট্রেনের সংখ্যা ও ইঞ্জিন বাড়াতে হবে, সময়মত ট্রেন ছাড়তে এবং স্টেশনে পৌঁছাতে হবে। সর্বোপরি পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে ট্রেনকে উন্নত করতে হবে। যদি এটি করা যায় তাহলে ট্রেনই হবে যোগাযোগের সবচেয়ে উন্নত বাহন। এছাড়াও রেলওয়েতে দক্ষ জনবল দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। কোনো কোনো সেকশনে মাত্র একজন লোক দিয়ে পুরো স্টেশন পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে গাড়ির সংবাদ, যাত্রীদের নিরাপত্তার দিকসহ আরো অন্যান্য যাত্রী সেবা প্রদান করা সম্ভব হয় না।
রেলওয়ে সরকারি একটি সেবা খাত। জনসাধারণের যোগাযোগ সুবিধার জন্য এর চেয়ে ভালো বাহন আর কিছু হতে পারে না। কিন্তু দুর্নীতি আষ্টেপিষ্টে জেঁকে বসেছে রেলওয়েতে। অধিকাংশ সময় যাত্রী টিকেট কিনতে গিয়ে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কিনতে পারে না। তাকে কালোবাজারীদের কাছ থেকে টিকেট সংগ্রহ করতে হয়। একাধিকবার যে যাত্রী কালোবাজারীদের মুখোমুখি হয় স্বাভাবিক কারণে সে রেল যাত্রায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। রেলের স্টোরকৃত মালের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। তেল-ডিজেল যা দরকার তার থেকে দু-তিনগুণ বেশি কেনা-বেচা হয়। প্রতিদিন বিভিন্ন রেল স্টেশনে চলাচলকারী রেলের ইঞ্জিন থেকে শ’ শ’ লিটার ডিজেল চুরি করে বিক্রি করা হচ্ছে। চুরি হচ্ছে বিদ্যুৎ। রেল স্টেশন চত্বরে দোকানগুলোতে ও রেলের পরিত্যক্ত বাসায় অবৈধ বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ দেয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ। যা রেলওয়ের শক্তিকে সঙ্কুচিত করে ফেলছে।
রেলের যে সম্পদ ও সম্পত্তি আছে তা রক্ষণাবেক্ষণে নেই কোনো ব্যবস্থা। প্রতিনিয়ত দখল হয়ে যাচ্ছে রেলওয়ের জমি ও সম্পদ। এগুলো দিনের পর দিন স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে। রেলের ক্রাপ, রেলপাত, ভাঙা লোহা অবাধে পাচার হচ্ছে। একটি সঙ্ঘবদ্ধচক্র কাজগুলো করছে প্রকাশ্যে। কিন্তু দেখার কেউ নেই। অথচ এই সম্পদের চুরি ঠেকিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারলে এবং এ সকল অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরূদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে রেলের কোটি কোটি টাকার সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব।
দেশের ক্রমবর্ধিত জনসংখ্যার যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে, বিশেষ করে ঢাকার ওপর যে অব্যাহত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার লক্ষ্যে ঢাকার আশপাশের শহরগুলোর সাথে রেল নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করা এবং তার সঠিক ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেক্ষেত্রে রয়েছে প্রচুর সীমাবদ্ধতা। সীমাবদ্ধাতা কাটিয়ে আশপাশের জেলাগুলোর সাথে ঢাকাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসলে ঢাকা থেকে ধীরে ধীরে মানুষজন আশপাশের জেলাগুলোতে বসতি স্থাপন করবে। তাতে ঢাকার ওপর চাপ কমে আসবে। এবং যানজট থেকেও ঢাকা অনেকটা মুক্তি পাবে।
এছাড়া যেটি বলা দরকার তা হলো, ঢাকার আশপাশজুড়ে রেলওয়ের যে নেটওয়ার্ক রয়েছে তার সময় ব্যবস্থাপনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ যাত্রী সাধারণের কখন বেশি যাতায়াত করা প্রয়োজন সে অনুযায়ী ট্রেনের সময়সূচি নির্ধারণ করা প্রয়োজন। যেমন ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলো থেকে যে ট্রেন ঢাকায় আসে এই ট্রেনটি যদি অফিস সময়ের মধ্যে ঢাকা এসে পৌঁছায় এবং অফিস শেষ হওয়ার পরপরই যদি কোন ট্রেন ঢাকার আশপাশের এলাকাগুলোর অভিমুখে যাত্রা করে তাহলে এ অঞ্চলের মানুষ ঢাকায় এসে ভিড় করবে না এবং ট্রেনও পর্যাপ্ত যাত্রী পাবে।
রেলওয়ের সীমাবদ্ধতাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো এর কামরাগুলো খুবই অপরিচ্ছন্ন থাকে, সিটগুলো ভাঙ্গা এবং সময় বেশি লাগে। সময় বেশি লাগার কারণ ট্রেনকে অনেক ঘুরে যাতায়াত করতে হয় এবং জংশনগুলোতে লাইন পরিষ্কার না থাকার কারণে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে আসনের বিপরীতে ৫-৬ গুণ টিকিট বিক্রি হয় ইত্যাদি।
রেলওয়ে ব্যবস্থায় অনুন্নয়নের পেছনে রাজনৈতিক অর্থনীতিও দায়ী। সেটি হলো এই যে, সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে বর্তমানে সড়ক পথে চালু হয়েছে বিলাসবহুল গাড়ি। আর এই গাড়ি ব্যবসার সাথে জড়িত হয়েছে রাজনৈতিক নেতা ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের স্বার্থ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিজেরাও এই ব্যবসার সাথে জড়িত। ফলে নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থেই কাঠামোগতভাবে দুর্বল করে দেয়া হচ্ছে রেল ব্যবস্থা। সুতরাং বর্তমানের এই রাজনৈতিক সংস্কৃতির কারণেও এই ক্ষেত্রটি বিকশিত হতে পারছে না।
বলাবাহুল্য, রেলওয়ের যে ভূ-সম্পত্তি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে তার বর্তমান বাজার মূল্য আনুমানিক কয়েক হাজার কোটি টাকা। এই পরিত্যক্ত সম্পত্তি বিক্রয় অথবা দীর্ঘমেয়াদি লিজ দিয়ে গঠন করা যেতে পারে রেলওয়ের নিজস্ব তহবিল। রেলওয়ের টাকা দিয়েই রেলকে আধুনিক ও যুগপোযোগী করা সম্ভব। দরকার শুধু সদিচ্ছা, উদ্যোগ, কর্মদক্ষতা, সততা ও দেশপ্রেম। বাংলাদেশ রেলওয়ের ইতিহাস অনেক পুরনো। এখানে অনেক যোগ্য প্রকৌশলীরা আছেন যারা বদলে দিতে পারেন রেলের চেহারা। আমদানি না করে দেশেই তৈরি করতে পারেন রেলের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ। রেলকে করে তুলতে পারেন মানুষের কাছে একবিংশ শতাব্দীর জনপ্রিয় যাতায়াত মাধ্যম।
আজকের যে বৈশ্বিক বাস্তবতা সেখানে বিশ্বের উন্নত ও অনুন্নত দেশসমূহে ব্যাপক জনগোষ্ঠীর যোগাযোগ সুবিধা প্রদানের জন্য সেবা খাত হিসেবে রেলওয়েকে চিহ্নিত করা হয় এবং এর উন্নয়নের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করছে প্রতিনিয়তই। সেখানে আমাদের দেশে রেল ব্যবস্থাকে বেসরকারিকরণের চিন্তাভাবনা চলছে। অথচ রেলযাত্রীর ৯৮ ভাগ স্বল্প আয়ের মানুষ। শুধু তাই নয়, এই ব্যবস্থাটি দরিদ্র মানুষদের জীবিকার্জনের মাধ্যমও বটে। এরকম বাস্তবতায় রেলওয়েকে বেসরকারিকরণ ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে সেবা থেকে বঞ্চিত করার জন্য এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছাড়া আর কিছু নয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ের আর একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো এর অধিকাংশ যন্ত্রাংশ এখনো বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। এমনকি এই যন্ত্রাংশগুলো নষ্ট হলে মেরামতের জন্যেও বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হয়। রেলওয়ের প্রত্যেকটি যন্ত্রাংশই দামি। এগুলো যদি বারবার পরিবর্তন করতে হয় বা মেরামতের জন্য বাইরের দেশের প্রতি নির্ভরশীল হতে হয় কিংবা আমাদের সীমিত সংখ্যক ট্রেনের মধ্য থেকে কোনো ট্রেন বন্ধ রাখতে হয় তাহলে এর বিস্তার কোনক্রমেই সম্ভব নয়। অথচ আমাদের বিশাল জনবল থাকা সত্ত্বেও ধীরে ধীরে নিজস্ব প্রযুক্তি গড়ে তোলার যে প্রচেষ্টা সেখানে রয়েছে ঔদাসীন্য।
সবশেষে যে বিষয়টি বলা দরকার তা হলো রেলওয়ের যে আন্তঃবিভাগগুলো (যেমন, ম্যাকানিক্যাল, সিভিল, ট্রাফিক, সিগনাল, স্টোর) রয়েছে তার মধ্যে সমন্বয়হীনতা বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয়। যা রেলওয়ে বিকাশের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা।
নোবেল বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতে, “আধুনিক উন্নয়ন চিন্তার কেন্দ্রীয় বিষয়গুলো হলো দীর্ঘস্থায়ী ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা।” ইতোমধ্যে পৃথিবীজুড়ে রেলওয়ে এক শক্তিশালী ও সম্ভাবনাময় পরিবহন মাধ্যম হিসাবে স্থান করে নিয়েছে। আমাদের দেশেও এর ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে জাতীয় স্বার্থেই সত্যি করে তুলতে হবে। তার জন্যে বাজেটে রেল এর জন্য বরাদ্দ বাড়ানো, দক্ষতার সাথে ট্রেনের সময় ব্যবস্থাপনা করা, সেবার মান বৃদ্ধি করা, সর্বোস্তরের দুর্নীতি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া ও টিকিট চেকের ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন করা, দক্ষ লোকবল বৃদ্ধি করা, পর্যায়ক্রমে ঢাকার কাছাকাছি জেলাগুলোতে ট্রেনের যোগাযোগ সম্প্রসারিত করা, মিটিং, সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক, টিভি টকশো, মতবিনিময় সভা ইত্যাদির মাধ্যমে এর অপরিহার্যতার বিষয়টি সরকার ও নীতি নির্ধারকদের দৃষ্টিগোচর করা এবং গণদাবিতে পরিণত করা, গণমাধ্যমগুলোতে রেল ব্যবস্থাপনার অসঙ্গতি এবং সম্ভাবনার জায়গাগুলো সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা ইত্যাদি।
উপরের সব উদাহরণ টেনে এক কথায় যদি বলি, দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত এবং জ্বালানি সংকট নিরসনে রেল ব্যবস্থার উন্নয়ন খুবই জরুরি। রেল ব্যবস্থাকে গুরুত্ব প্রদান করা হলে আপামর জনসাধারণের যাতায়াত ব্যবস্থা আরো সর্বজনীনতা অর্জন করবে। রেল সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষিজাত, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে উৎপাদিত পণ্য কম খরচে ও সহজে বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের সার্বিক যাতায়াতের ক্ষেত্রে রেল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহন হিসেবে গণ্য হবে। ফলে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু ও পরিবেশ দূষণ কমে আসবে। রেল ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীেিত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গ্রাম এবং শহরের সাথে চমৎকার সমন্বয় সাধিত হবে। আমরা রেলকে পাব যোগাযোগের একটি সুন্দর মাধ্যম হিসেবে এবং আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা হবে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়।
লেখক : কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশেষক
belaYet_1@yahoo.com



 

Show all comments
  • babul ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:১৭ এএম says : 0
    good write up
    Total Reply(0) Reply
  • mojibur rahman ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:১৮ এএম says : 0
    সময়োপযোগী লেখা
    Total Reply(0) Reply
  • liton ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:১৯ এএম says : 0
    আমরাও রেলের উন্নতি চাই
    Total Reply(0) Reply
  • belayet ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:২০ এএম says : 0
    লেখাটি প্রকাশ করার জন্য দৈনিক ইনকিলাবকে ধন্যবাদ
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।