Inqilab Logo

ঢাকা শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১, ০৮ মাঘ ১৪২৭, ০৮ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

করমজলে বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ৪৩ কুমির ছানা চুরি

| প্রকাশের সময় : ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

বরখাস্ত ১, তদন্ত কমিটি গঠন
বাগেরহাট জেলা সংবাদদাতা : বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজলে সরকারিভাবে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে একমাত্র বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ৪৩টি কুমিরের বাচ্চা চুরি বা পাচার হয়েছে। কুমির চুরি বা পাচারের ঘটনায় করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে বনকর্মী (লস্কার) মাহাবুব হোসেনকে সাময়িক বরখাস্তÍ করা হয়েছে। এছাড়া জাকির হোসেন নামে এক অস্থায়ী কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করেছে। কুমির প্রজনন কেন্দ্রে ২৭৭টি কুমিরের মধ্যে চুরি বা পাচার হবার পর এখন ২৩৪টি কুমির রয়েছে। এদিকে ঘটনা তদন্তে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মেহেদীজ্জামানকে প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সুন্দরবনের কুমিরের বিলুপ্তপ্র্রায় লবণ পানির প্রজাতির কুমিরের প্রজনন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের জন্য ২০০২ সালে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজলে প্রায় ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয় দেশের একমাত্র এই বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রটি। চুরি বা পাচার হবার পর বর্তমানে করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রে রোমিও নামে ১টি পুরুষ, জুলিয়েট ও পিলপিল নামের ২টি মা কুমির ও ২৩৪টি বাচ্চা কুমির রয়েছে।
সুন্দরবন নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান সেভ দা সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. ফরিদুল ইসলাম এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমরা মনে করি সুন্দরবনের সম্পদ চুরির পিছনে বড় কোন ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। এটা ছোট করে দেখার কোন কারণ নেই। চুরি যাওয়া কুমিরগুলো উদ্ধার করতে হবে। প্রয়োজনে উচ্চ পর্যায়ে কমিটি করে গঠন করে এর সাথে যে সব গডফাদার জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের প্রবণতা কমে আসবে।
সুুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ১ ফেব্রুয়ারী সকালে কুমিরের বাচ্চাগুলো চুরি যাবার বিষয়টি জানতে পেয়ে আমি ওইদিনই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় জড়িত বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের বনকর্মী (লস্কার) মাহাবুব হোসেনকে সাময়িক বরখান্ত করা হয়েছে। এছাড়া জাকির হোসেন নামে এক অস্থায়ী কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ