Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম

স্বল্প পুঁজিতে রন্ধনশিল্প

| প্রকাশের সময় : ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

বাংলাদেশের মেয়েরা এখন আর অবলা নয়। আজকাল ঘরে ঘরে মেয়েরা বিভিন্ন রকম হাতের কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে। ঘরে বসে যেই কাজ করা যায়, তা এক সময় বাজারজাত করা সম্ভব। শুধু দরকার ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস, আর একটু সাহস। যার কথা বলতে চাচ্ছি তা হলো রন্ধনশিল্প। আগের দিনের মা-খালারা রান্না করতেন শুধু ঘরের লোকদের পেট পুড়ে খাওয়ানোর জন্য। রান্নার মাধ্যমে মেয়েরা স্বাবলম্বী হতে পারে তারা চিন্তাও করতে পারেননি কখনও। আজকাল তাই হচ্ছে। ঘরের মেয়েরা-গৃহিণীরা ঘরে বসে বিভিন্ন ফার্স্টফুড তৈরি করে বা প্যাকেটজাত খাবার বাজারজাত করছে।
এসব ক্ষেত্রে বাড়ির মহিলা বা মেয়েরা হাতে বানানো সমুচা, সিঙ্গাড়া, আলুরচপ, ভেজিটেবল রোল, চিকেন রোল, গরুর গোশত-টিকিয়া ঘরে তৈরি করে প্রথমে এলাকার দোকানে দিতে পারে। স্বল্প পুঁজিতেই এই মহৎ কাজের উদ্যোগ নেয়া যায়।
প্রথমে কীভাবে শুরু করবেন
সবার প্রথমে ভালো করে রন্ধন প্রশিক্ষণ থেকে রান্না শিখতে হবে। তারপর ঘরে প্রতিদিন প্র্যাকটিস করতে হবে। প্রথম প্রথম ঘরের মানুষকে খাইয়ে বুঝতে হবে রান্না ভালো হচ্ছে কিনা। এরপর এলাকার লোকদের জানাতে হবে এখানে হাতের তৈরি খাবার কম মূল্যে বিক্রি হয়। সেখানে যদি সাড়া পাওয়া যায় তবে এলাকার দোকানে দোকানে প্রচার করতে হবে। এ কাজে খুব বেশি খরচ হয় না। ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে ঘরে বসেই মহিলারা মোটামুটি ভালো আয় করতে পারে।
রন্ধন শিল্পের জন্য যা যা লাগবে
প্রথমে ঠিক করে নিতে হবে দোকানে কী কী আইটেম দেয়া হবে। সেই অনুযায়ী প্রত্যেক আইটেম তৈরির জন্য সরঞ্জাম এবং উপকরণ কিনতে হবে।
এক্ষেত্রে সকাল সকাল এলাকার সুপার শপ বা যে কোনো বাজারে চলে যেতে হবে। কেননা খুব সকালে বাজারে টাটকা টাটকা খাদ্যসামগ্রী পাওয়া যায়। যেহেতু খাবার দোকানে দেয়া হবে তাই সব রকম সবজি বা খাবার বানাতে যা যা লাগে সবকিছু তরতাজা হলে ভালো হয়। খাবার তৈরি করতে বিভিন্ন মসলা এবং সস জাতীয় যা কিছু লাগে সেগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ দেয়া আছে কিনা এবং সময় পর্যাপ্ত আছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আরেকটা বিষয় খেয়াল রাখা অতি জরুরিÑ আজকাল দেখা যায় বিভিন্ন সুপার শপে বেকিং পাউডার, কনফ্লাওয়ার সিরকা ও বিভিন্ন সস জাতীয় খাদ্যসামগ্রীর মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ পার হয়ে গেছে তাতে নতুন করে কাগজ বসিয়ে দেয়। এসব জিনিস কেনার সময় একটু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
কীভাবে দেবেন
অবশ্যই খাবারের গুণগতমান ঠিক রাখতে হবে। যেই খাবারই দেওয়া হোক না কেন প্যাকেটে তার মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ লিখে দিতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন প্যাকেট দিতে হবে। এই বাজারে টিকে থাকতে হলে রান্না সুস্বাদু হতে হবে। কারণ বর্তমানে অনেক মহিলাই এই পেশার দিকে ঝুঁকছে।
কতটা আয় সম্ভব
এ ব্যাপারে মিরপুরের বাসিন্দা মিসেস তাসলিমা বেগম ইনকিলাব প্রতিনিধিকে বলেন, তিনি প্রায় ৮ বছর ধরে রান্না পেশার সাথে জড়িত। বিয়ের পরপর শখ করে রান্না শিখেছিল। তারপর ঘরের মানুষকে প্রতিদিনই কোনো না কোনো আইটেম রান্না করে খাওয়াতো। পরে এলাকার ভাবীরা বেড়াতে এলে তাদের খাওয়াতো। এরপর তাদের উৎসাহে এলাকার দোকানে দেয়া শুরু করল। তিনি এলাকার বেশকিছু মহিলাকে রন্ধনবিষয়ক প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তিনি বললেন, আয় ভালো হয়। সব খরচ বাদে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা থাকে। বর্তমানে প্রতিযোগিতার যুগ। যে যত বেশি রান্নায় পারদর্শী হবে সে-ই উন্নতি করতে পারবে। মেয়েরা পড়ালেখার পাশাপাশি এ কাজ চালিয়ে যেতে পারে। অনেক পরিবারের বাবা-মা মেয়েদের পড়ালেখার খরচ দিতে চায় না। সেক্ষেত্রে মেয়েদের এটা সহায়তা করবে।
কোথায় রান্না শেখায়
নারীর অগ্রযাত্রায় সাকসেস মহিলা ট্রেনিং সেন্টার ১৯৯২ সাল হতে প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে। এখানে সকল মহিলা আর মেয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারে।
যোগাযোগ : ওরিয়েন্টাল লটিমী শপিংমল, নিচতলা, ৩২, মিরপুর রোড, ঢাকা।
১ লাবিবা বেলা



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।