Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৩ কার্তিক ১৪২৬, ১৯ সফর ১৪৪১ হিজরী

হকার উচ্ছেদে ইঁদুর-বিড়াল খেলা

প্রকাশের সময় : ২০ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

সায়ীদ আবদুল মালিক : রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ নিয়ে চলছে ইঁদুর-বিড়াল খেলা। সকালে উচ্ছেদ হলে বিকেলে দখল আবার বিকেলে উচ্ছেদ হলে সকালে দখল। উচ্ছেদ অভিযান শেষ করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে ফেরার আগেই আবার দখল হয়ে যাচ্ছে। গত দুই মাস ধরে এই পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাতে। কোনো কোনো এলাকার রাস্তায় এখনো হকাররা বসছে নিয়মিতই। ক্ষমতাসীন দলের কিছু প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় লাইনম্যান নামধারী চাঁদাবাজ, কর্পোরেশনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী, পুলিশের কিছু অসাধু সদস্য উচ্ছেদের পরক্ষণেই আবার হকারদের বসিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো এলাকা থেকে স্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদের পর তা আবার কয়েকদিনের মধ্যে পুনর্নির্মাণ হয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ খালিদ আহম্মেদ ইনকিলাবকে বলেন, গত দুই মাসে আমরা ঢাকা মেডিকেলের সামনে থেকে ৭ বার ও গুলিস্তান থেকে ৬ বার ফুটপাত ও সড়ক থেকে হকার এবং অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করেছি। কিন্তু তা করে কি হবে। আমরা উচ্ছেদ অভিযান কাজ শেষ করে স্থান ত্যাগ করার সাথে সাথেই আবার দখল হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালানোর মত আমাদের তেমন কোন লোকবল ও পুলিশ প্রটেকশন না থাকলেও আমরা এ কাজটি চালিয়ে যাওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টা করে যাচ্ছি। তার পরও দফায় দফায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে অবৈধ দখলদারদের সাথে পেরে উঠছি না।
প্রশাসনের অবারিত ক্ষমতা থাকার পরও অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে বাধা কোথায় এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, প্রশাসন চালানো আর রাজনীতি এক কথা নয়। উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে আমাদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। ফুটপাতের হকারের চকিতে নাড়া দিলে সে নাড়া অনেক দূর পর্যন্ত যায়। তবে এটাকে আমলে নিচ্ছি না।
তিনি বলেন, আমরা এক জায়গায় বারবার উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছি, মূলত তাদেরকে অস্থির করে রাখার জন্য। তারা একদিন বাধ্য হবে অবৈধ দখলদারিত্ব ও সরকারি রাস্তা এবং ফুটপাত থেকে সরে যেতে। অবৈধ দখলদার ও সরকারি জায়গা থেকে হকার হচ্ছেদ করতে যতদিন সময় লাগে লাগুক আমরা তাদেরকে উচ্ছেদ করেই ছাড়বো।
জানা গেছে, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ১৬৩ কিলোমিটার ফুটপাতের হাজার হাজার দোকান থেকে দৈনিক কমপক্ষে ৩০০ কোটি টাকা চাঁদা আদায় হয়ে থাকে। পুলিশ, স্থানীয় মাস্তান, ক্ষমতাসীন দলের আঞ্চলিক নেতাকর্মী এবং কয়েকটি হকার সমিতি এই বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। ব্যবসায়ীরা জানান, ফুটপাতে ব্যবসা করতে হলে চাঁদার টাকা দিতেই হয়।
সূত্র জানায়, ঢাকা শহরের ফুটপাতগুলোতে চাঁদা আদায়ের জন্য ৪৫০ থেকে ৫০০ লাইনম্যান কাজ করে। দুই ঈদের সময় ছাড়া বাকি সময় রাজধানীর ফুটপাতে প্রায় আড়াই লাখের মতো হকার থাকে। কিন্তু রমজান মাস ও ঈদ এবং কোরবানির ঈদে এ সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এরা বিভিন্নভাবে প্রতিদিনই বিভিন্ন অংকের চাঁদা দিতে বাধ্য হয়। পুলিশ, স্থানীয় মাস্তান, ক্ষমতাসীন দলের আঞ্চলিক নেতাকর্মী এবং কয়েকটি হকার সমিতি এই বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। স্বাভাবিক সময়ে ফুটপাতের হকারদের দৈনিক এক থেকে দেড়শ’ টাকা চাঁদা গুণতে হয়। কিন্তু রমজানের শুরুতে এ চাঁদা বেড়ে দাঁড়ায় দৈনিক ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়।
বাংলাদেশ হকার ফেডারেশনের সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করে লাইনম্যানরা। লাইনম্যান নামক চাঁদাবাজরাই হকার বসায়। একজন হকার বেশি বসাতে পারলেই লাইনম্যানের দিনে ৫০-১০০ টাকা উপার্জন। তিনি বলেন, ফুটপাতে চাঁদাবাজির ঘটনা নতুন কোন বিষয় নয়। এ চাঁদার পরিমাণ রমজান মাসে দ্বিগুণ হয়ে যায়। তার মতে, বছরে ৬০০ কোটি টাকা রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজি হয়ে থাকে। এটা নিয়ন্ত্রণে আসুক এবং রাস্তার হকার উচ্ছেদ করা নিয়ে আমাদের তেমন কোনো আপত্তিও নেই। তবে মেয়র সাঈদ খোকন ঘোষিত হকারদের পুনর্বাসন কার্যক্রমের দ্রুত বাস্তবায়ন করলে আমাদের অনেক সমস্যাই সমাধান হয়ে যাবে। তাই আমি মেয়র ঘোষিত ওই কর্মসূচির দ্রুত বাস্তবায়ন দাবি করছি।
দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী মিজিস্ট্রেট ও ভারপ্রাপ্ত সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ ইনকিলাবকে বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন ফুটপাত থেকে অবৈধ দখলদার ও হকার উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, আজ (গতকাল মঙ্গলবার) ঢাকা মেডিকেলের সামনে থেকে এ ৭ম বারের মত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে আসলাম। এর পর নিউমার্কেটের আশপাশের এলাকা থেকেও অবৈধ দখলদার ও হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ সময় প্রায় ৪৫০টি দোকান উচ্ছেদ মালামাল জব্দ ও ৬ হাজার টাকা নগদ জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা অভিযান চালিয়ে চলে আসার পরপরই আবার বেদখল হয়ে যাচ্ছে ফুটপাত।
গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ফুটপাতে পা ফেলার জায়গা নেই। কোনো কোনো এলাকায় ফুটপাত ছাড়িয়ে রাস্তায় বসছেন হকাররা। বিশেষ করে রাজধানীর গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম, জিপিও, ক্রীড়াভবন, দৈনিক বাংলা, স্টেডিয়াম, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, কাপ্তানবাজার, দিলকুশা, মতিঝিল, ফকিরাপুল, টিকাটুলি, সদরঘাট, বঙ্গবাজার, নীলক্ষেত, নিউমার্কেট, ঢাকা কলেজ, গাউছিয়া, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, জুরাইন, শাহবাগ, মালিবাগ-মৌচাক, ফার্মগেট, মহাখালী, মিরপুর ১০ নম্বর, গাবতলীসহ রাজধানীর ব্যস্ততম এমন কোনো এলাকা নেই যেসব এলাকার ফুটপাত ফাঁকা আছে। কোনো কোনো এলাকায় ফুটপাতে জায়গা না পেয়ে এখন হকার বসানো হয়েছে রাস্তার ওপর। এতে বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি আইন শৃংখলাসহ নানা কারণে ঢাকা শহরের যে সমস্ত স্থানগুলো স্পর্শকাতর স্থান হিসেবে পরিচিত সে স্থানগুলোর ফুটপাতও দখল হয়ে গেছে।
বঙ্গভবনের পাশে দিলকুশাজুড়ে গড়ে উঠেছে বিশাল বাজার। এখানে মাছ-গোশত থেকে শুরু করে এমন কিছু নেই যা পাওয়া যায় না। একই অবস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সোনালী ব্যাংকের সামনেও। এখানে গভীর রাত পর্যন্ত চলে কেনাকাটা। স্পর্শকাতর ও সুরক্ষিত এলাকা হলেও হকারদের জন্য কোনো বিধিনিষেধ নেই।
সংশ্লি­ষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় থেকে ২ মাস ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার হকার উচ্ছেদ চলছে। তাদেরকে পুনর্বাসনের জন্য তালিকাও হচ্ছে। গুলিস্তান এলাকাতেই প্রায় ২ হাজার হকারকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে পুনর্বাসনের জন্য। গুলিস্তানসহ রাজধানীর অনেক এলাকাতেই পাকা স্থাপনা তৈরি করে ভাড়া দেয়া হয়েছিল হকারদের কাছে। এমনকি এসব পাকা স্থাপনার জন্য অগ্রিমও নেয়া হয় হকারদের কাছ থেকে। কিন্তু এসব পাকা স্থাপনার অনেকগুলোই ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে। কিন্তু হকাররা তাদের অগ্রিম দেয়া টাকা ফেরত পাননি। উচ্ছেদকৃত ওই স্থানেই আবারো নতুন করে বসানো হয়েছে হকার।
সংশ্লি­ষ্ট সূত্র জানায়, হকারদের নিয়ন্ত্রণ করছে লাইনম্যান নামধারী চাঁদাবাজরা। আর লাইনম্যানদের নিয়ন্ত্রণ করছে কিছু অসৎ পুলিশ সদস্য ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। এ কারণেই রাস্তা ও ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের উদ্যোগ বারবার ভেস্তে যাচ্ছে বলে অনেকের ধারণা।
হকারদের একটি সূত্র জানায়, রাজধানীর পল্টন এলাকার ফুটপাতের লাইনম্যানদের সর্দার হচ্ছেন জনৈক বাবুল। ক্যাশিয়ার হলেন দুলাল এবং আমিন। পল্টনের বঙ্গবন্ধু এভিনিউর হামদর্দের সামনে চাঁদা আদায় করছেন সাবেক সরদার সালাম। সুন্দরবন স্কোয়ার মার্কেটের উত্তর পাশে জজ মিয়া ও ভোলা, ঢাকা ট্রেড সেন্টারের সামনে বিমল বাবু, আল মনসুরের পূর্ব পাশে খোরশেদ ওরফে বড় মিয়া, শহীদ ও তার ভাই হাসান, রেলওয়ে মার্কেটের পশ্চিম পাশে সুলতান, লিপু, রমনা ভবনের পশ্চিম ও উত্তর পাশে মনির ও তৌহিদ, রাজধানী হোটেল ও সিঙ্গারের সামনে শ্রী বাবুল, রব, আহাদ পুলিশ বক্সের উত্তর পাশে লম্বা হারুন, পশ্চিম পাশে কানা সিরাজ, কাপ্তানবাজার এলাকায় জয়নাল, ভাসানী স্টেডিয়ামের পশ্চিম পাশে আব্দুল আলী, বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে আব্দুল কাদের ও খলিল, পশ্চিম পাশে কোটন, স্বর্ণ মার্কেটের সামনে চাটগাইয়া হারুন ও জাহাঙ্গীর, উত্তর পাশে সাজু, জিপিওর দক্ষিণ পাশে দাড়িওয়ালা সালাম, বাসসের সামনে আবুল হাশেম কবির, ক্রীড়া ভবনের সামনে নুরু, হাউজ বিল্ডিংয়ের সামনে দুলাল, আলম, বঙ্গবন্ধু এভিনিউর বেল্টের গলিতে কালা নবী এবং পূর্ণিমার সামনে আক্তার ও জাহাঙ্গীর, চাঁদা তুলছেন।
মতিঝিল এলাকায় ৩০টি ফুটের নিয়ন্ত্রণ নাসির ওরফে ফেন্সি নাসির বাহিনীর হাতে বলে হকাররা জানান। এই এলাকার সর্দার আজাদ, ক্যাশিয়ার কালা কাশেম। আলিকো অফিসের সামনে চাঁদা আদায় করছেন সাদেক, সোনালী ব্যাংকের সামনে মকবুল, রূপালী ব্যাংকের সামনে তাজু ও তার ছেলে, সেনা কল্যাণের সামনে গাঞ্জুটি হারুন, ফারুক, বলাকার সামনে নুরুল ইসলাম নুরু, আইডিয়ালের সামনে সাইফুল, মোল্লা নাসির শাহজাহান ও মোহর আলী। কোতোয়ালি এলাকার সর্দার কন্ডু। ওয়াইজঘাট এলাকায় চাঁদা নিচ্ছেন নুরু মোল্লা, পাখি ও কালু, কোর্টকাচারী এলাকায় সফিক, নয়াবাজারে মন্টু, কালু, সফি ও আজম।
সূত্রাপুর এলাকার কাপ্তানবাজারে চাঁদা তুলছেন সেকেন্দার, হাই, সাজু ও বিষু। যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকার সর্দার সোনা মিয়া। আরো আছেন তোরাব আলী, জুলমাত, আবুল কালাম ও মান্নান। কদমতলী ও শ্যামপুর এলাকার সর্দার হচ্ছেন সিরাজ তালুকদার। আরো রয়েছেন নুরুল ইসলাম, তার ছেলে বাবু, হালিম, জাহাঙ্গীর, ফটিক, রহমান সরদার, ফারুক ও রহিম। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুই গেটে চাঁদা তুলছেন রফিক। শাহবাগসহ এই এলাকার বিভিন্ন স্থানে চাঁদা তুলছেন সোহেল, হেদায়েত, ফজর আলী, কামাল, সোহেল, ওবায়েদ, হানিফ, বাবুল ওরফে গাইরা, দেলু ও শাজাহান। সূত্র জানায়, এরাই হকার উচ্ছেদে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
ফুটপাতের পার্কিং উদ্ধারে রাজউকের দ্বিতীয় দিনের অভিযান
রাজধানীর কয়েকটি আবাসিক এলাকায় অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালাচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। গত সোমবার বেলা ১১টা থেকে দিনের উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সোমবার থেকে ধানমন্ডি, কলাবাগান, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুর, গুলশান, বারিধারা, বনানী, মহাখালী ও উত্তরার বিভিন্ন সেক্টরে ১৪ দিনব্যাপী এই অভিযান শুরু হয়েছে।
রাজউকের জোন ৫ এর অথরাইজড অফিসার শাফিউল হান্নান সাংবাদিকদের বলেন, বেলা ১১টার দিকে গ্রিনরোড ও সেন্ট্রাল রোডের সংযোগ সড়কে ল্যাবএইড হাসপাতালের পূর্বপাশ থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এই সড়কের ফুটপাতের অবৈধ র‌্যাম্প ও আবাসিক এলাকার ভেতরে থাকা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ভবনের বেইজমেন্টে পার্কিংয়ের অনুমোদন নিয়ে তা অন্য প্রয়োজনে ব্যবহার করলে তা উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় দিনের অভিযানে গত মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশান এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রম একই সময়ে গুলশান আবাসিক এলাকায় ৪ নম্বর সড়ক থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয় বলে জানান জোন-৪ এর অথরাইজড অফিসার আদিলুজ্জামান। তিনি জানান, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সব মহল থেকে সবুজ সঙ্কেত পেয়েছেন তারা। কোনো ধরনের তদবির তাদের অভিযান থামাতে পারবে না। এর আগে ঢাকার আবাসিক এলাকার ফুটপাত ও গাড়ি রাখার স্থান দখলমুক্ত করতে একযোগে রাজউকের আওতাধীন তিনটি অঞ্চলে সোমবার প্রথম দিনের অভিযান শুরু হয়।
প্রথম দিনের অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ফুটপাতের র‌্যাম্পসহ বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনাও সরানো হয়। নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করায় বেশ কয়েকজন ভবন মালিকের কাছ থেকে মুচলেকাও নিয়েছে রাজউক।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ