Inqilab Logo

মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২, ০১ ভাদ্র ১৪২৯, ১৭ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

জিজ্ঞাসার জবাব

| প্রকাশের সময় : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

১। তালুকদার মোহাম্মাদ আবদুল্লাহ ছাফওয়ান, খেজুরবাগ, ঢাকা।
জিজ্ঞাসা : পরকালের পাথেয় বলতে কি বোঝায়?
জবাব : প্রত্যেক মুসলমান পিতা-মাতার কর্তব্য হচ্ছে ছেলেমেয়েদের যথাযথভাবে ধর্ম-কর্ম প্রতিপালনের উপযোগী করে গড়ে তোলা। আল্লাহর খাঁটি বান্দারূপে ইহলৌকিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়ার পথ সুগম করে দেয়া। হাশরের দিন প্রত্যেক মুসলমান পিতা-মাতা বা অভিভাবককে এজন্য জবাবদিহি করতে হবে; যে সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হবে তাকে ভোগ করতে হবে কঠোর শাস্তি। আল্লাহপাকের বিধি-নিষেধের কথা বাতলে দিয়ে সকল মানুষকে স্ব স্ব বিবেক-বুদ্ধি খাটিয়ে পার্থিব জীবনযাপন করার সুযোগ দিয়েছেন। বিপদগামীদেরকে সতর্ক করে দিয়ে আল্লাহতায়ালা বলেছেন : “ওয়া উমলী লাহুম, ইন্না কায়দী মাতিন’’ অর্থাৎ পাপ কাজ করার সুযোগ দিয়ে তাদের জাহান্নামের পথ পরিষ্কার করা হয়, আমার এই কৌশল অব্যর্থ সন্দেহ নেই। (সূরা আরাফ : আয়াত-১৮৩ : পার-৯) পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা মানুষ ও নিরাকার জিন সৃষ্টির সম্পর্কে স্পষ্টাক্ষরে ঘোষণা করেছেন, “ওয়ামা খালাকতুল জিন্না ওয়াল ইনছা ইল্লা লিইয়াবুদুন” অর্থাৎ আমি জিন ও মানুষ সৃষ্টি করেছি আমার এবাদত বন্দেগী করার জন্য। (সূরা যারিয়াত : আয়াত-৫৬ : পারা-২৭)। এই পবিত্র ঘোষণার তাৎপর্য হচ্ছে জিন ও সৃষ্টির মানুষের কর্তব্য হলো আল্লাহ নির্দেশিত পথ ও পন্থায় এবং নূরনবী (দঃ)-এর পথ নির্দেশ ও উপদেশ অনুসারে কাজ করে পার্থিব জীবনযাপন করা। আল্লাহর খাঁটি বান্দা হওয়ার একাধিক স্তর বা পর্যায় রয়েছে প্রথমে কালেমা তায়্যেবা-“লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ” প্রকাশ্যে মুখে বলে এবং আন্তরিকভাবে বিশ^াস করে পবিত্র ইসলাম ধর্মের গ-িভূত তথা মুসলমান হতে হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে আর কয়েকটি কালেমা পড়ে তৎপ্রতি আস্থা স্থাপন তথা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (দঃ)-এর বিধি-নিষেধাদি অনুসারে পার্থিব জীবনযাপনের জন্য অঙ্গীকার করতে হয়। দ্বিতীয় পর্যায় হচ্ছে, ইসলামী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য সচেষ্ট হতে হয়। তৎপরবর্তী পর্যায় হচ্ছে, মুত্তাকী বা পরহেজগার অর্থাৎ খাঁটি বান্দা হওয়ার জন্য তৎপর হওয়া। এ পর্যায়ে উপনিত হওয়ার লক্ষণ হচ্ছে, পবিত্র কোরআন-হাদিসের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিধানাবলী পালনে গাফিলতি করলে বা ব্যর্থ হলে লজ্জা ও অনুশোচনায় অধির হওয়া। আল্লাহর নিকট অঙ্গীকার করে তা যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হওয়ায় আন্তরিকভাবে লজ্জিত ও অনুতপ্ত না হলে-ঈমানের দৃঢ়তা থাকতে পারে না, এমনকি ঈমানহানিও ঘটতে পারে।
হযরত নূরনবী (দঃ) বলেছেন, লজ্জা ঈমানের একটি অঙ্গ, যার লজ্জা নেই তার ঈমান ও নেই। নামাজ মানুষকে পাপ কাজ থেকে দূরে রাখে। কোন পাপ কাজে শামিল হওয়ার প্রশ্ন দেখা দিলে তার মনে বিরাট ভীতির সঞ্চার হয়, যার ফলে তার পক্ষে পাপ কাজ করা সম্ভব হয় না। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হচ্ছে “ইন্না ছালাতা তানহা আনিল ফাহশায়ে ওয়াল মুনকার’’ অর্থাৎ নিশ্চয়ই নামাজ ব্যভিচার ও খারাপকাজ হতে মানুষকে রক্ষা করে। (সূরা আনকাবুত : আয়াত ৪৫ : পারা ২১) পরহেজগার লোকদের মধ্যে কোনো প্রকার অহমিকা-অহংকার, লোভ-লালসা, হীনমন্যতা ও আল্লাহর কোন সৃষ্টির প্রতি অবহেলা-অবজ্ঞা থাকতে পারে না; তারা সেবামূলক কাজ করার জন্য থাকে উদগ্রীব। পরহেজগার বান্দাদের মর্যাদা সম্পর্কে এরশাদ হচ্ছে “ইন্না আকরামাকুম ইনদাল্লাহে আতকাকুম’’। অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিকতর প্রিয়, যে অধিকতর পরহেজগার। (সূরা হুজুরাত : আয়াত-১৩, পারা-২৬) হাদিসে কুদসিতে পরহেজগারদের সৌভাগ্য সম্পর্কে যে আশার বাণী শুনানো হয়েছে তা সত্যই বিস্ময়কর! “তাতে বলা হয়েছে যে, আমি আমার নেক্কার খাঁটি বান্দাদের জন্য এমন সব নেয়ামত তৈরি করে রেখেছি, যা কেউ কখনও চোখেও দেখেনি, কানেও শুনেনি, যা তাদের ধারণা বহির্ভূত। নামকাওয়াস্তে মুসলমান আল্লাহর কাম্য নয়, তিনি চান পুরোপুরি মুসলমান। তিনি সকলের প্রতি উদ্বাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, “হে লোক সকল! তোমরা পুরোপুরিভাবে ইসলাম গ্রহণ কর, শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, কেননা সে তোমাদের ঘোর শত্রু। (সূরা বাকারা : আয়াত-২০৮, পারা-২) এখানে পুরোপুরি মুসলমান বলতে ঈমান, ধর্ম-কর্ম, লেবাস-পোশাক, সুরত, কর্তব্য পরায়নতা ইত্যাদি বুঝানো হয়েছে। নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এরশাদ করেন, “পৃথিবীত যে ধরনের বা যে জাতীয় লেবাস-পোশাক পরিধান করবে, হাশরের দিন তাদেরকে সে জাতীয় লোকদের সঙ্গে উঠানো হবে। অর্থাৎ ইসলামী পোশাক-পরিচ্ছেদ পরিধান করে জিন্দেগী কাটাবে তারা, পাপী-তাপী যাই হোক না কেন, হাশরের দিন মুসলমানদের দলভুক্ত হবে। যে অতীত জীবনের পাপাচারের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করে খাঁটি মুসলমানের মতো জীবনযাপন করবে বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা হয়, পরম করুনাময় আল্লাহতায়ালা শুধু ক্ষমাই নয় তার বিগত জীবনের পাপাচারকে পুণ্যে পরিণত করে দিতেও পারেন। পবিত্র কোরআনে তওবাকারীদেরকে আশার বাণী শুনিয়ে বলা হয়েছে, যারা তওবা করে ঈমান আনে এবং সৎকাজ (ধর্মীয় বিধান অনুসারে) করে, আল্লাহপাক তাদের পাপ-পুণ্যে পরিণত করে দেন। আল্লাহতায়ালা ক্ষমাশীল পরম দয়ালু, তিনি তওবাকারীদের কে অভয় দিয়ে বলেছেন, “আমি অবশ্যই তার প্রতি ক্ষমাশীল হবো যে (খালেছ নিয়তে) তওবা করে, ঈমান আনে সৎ কাজ ধর্মীয় বিধান অনুসারে করে এবং সৎপথে থাকে অবিচলিত। (সূরা-ত্বা-হা, আয়াত-৮২,পারা-১৬) পবিত্র কোরআনে সৎপথে অবস্থানকারীদেরকে অভয় দিয়ে বলা হয়েছে, “যারা সৎপথ অবলম্বন করবে আল্লাহ তাদেরকে সৎপথে চলার শক্তি সামর্থ্য বাড়িয়ে দিবেন এবং তাদেরকে মোত্তাকী হওয়ার সৌভাগ্য দান করবেন। (সূরা-মুহাম্মদ, আয়াত-১৭ : পারা-২৬) প্রসঙ্গত আল্লাহপাক হযরত আদম (আ.)-কে যখন পৃথিবীতে প্রেরণ করেন তখন তিনি বলেছিলেন, পৃথিবীতে না জানি কতই-না দুঃখ- দুর্দশার মধ্যে জীবনযাপন করতে হবে। তদুত্তরে আল্লাহপাক বলেছিলেন, “পাথিব জীবনে যারা আমার প্রদর্শিত সহজ-সরল পথ অনুসরণ করবে, তাদেরকে আমি অভয় দিচ্ছি তারা কখনো দুর্দশাগ্রস্ত হবে না। (সূরা আল বাকারা, আয়াত-৩৮ : পারা-০১) অতএব, নৈরাজ্যে হাবুডুবু না খেয়ে সময় থাকতে সর্বশক্তিমান আল্লাহপাকের শরাণাপন্ন হয়ে পরকালের পাথেয় সংগ্রহে আত্মনিয়োগ করাই বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। (চলবে)
    উত্তর দিচ্ছেন : গাজী মুহাম¥দ জাহাঙ্গীর আলম জাবির



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন