Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ০১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী

দলাদলিতে আ’লীগের নেতাকর্মী নিহতের সংখ্যা বাড়ছে

| প্রকাশের সময় : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

মুহাম্মদ রেজাউর রহমান : আট বছর যাবৎ একটানা দেশের শাসন ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। এর আগে ১৯৮২ থেকে ১৯৯০-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ধারণা করা যায়, তার ক্ষমতায় থাকার দীর্ঘ আট বছরের রেকর্ডও ভাঙবে আওয়ামী লীগ। কারণ দেশে সাধারণ নির্বাচন হবে আরো দুই বছর পরে। বিশেষ কোনো দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে যেসব ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি ওই দলের সমর্থক তারা নিজেদের ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অধিকতর লাভ ও সুযোগ-সুবিধা আদায় করে শত কোটি টাকা এমন কি হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যান। শিল্প কারখানা স্থাপনের প্রকল্প তৈরি করে ব্যাংক বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা ঋণ নিয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যান। গত আট বছর আওয়ামী লীগ শাসনামলসহ সকল দলের ক্ষমতায় থাকার সময়েই দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও দল সমর্থক শীর্ষ ব্যবসায়ীগণ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে সেসব ঋণের টাকা বিনিয়োগ করেননি। দারিদ্র্যপীড়িত এই দেশটিতে তাই ধনী-দরিদ্র বৈষম্য আকাশচুম্বী। দেশের অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে (গত ৬ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছেন, দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৩ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। আর এই ঋণ নিয়েছেন মাত্র ২ লাখ সাড়ে ১৩ হাজার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান।
এ অবস্থার পাশাপাশি থাকে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যম স্তরের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের স্থানীয় সম্পদ ও সম্পত্তি লুটপাট করে রাতারাতি ধনী হওয়ার উৎকট প্রতিযোগিতা। সরকারি খাস জমি দখল, ভুয়া দলিল তৈরি করে দুর্বল ব্যক্তিদের সম্পত্তি দখল, জেলা বা স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি উন্নয়ন ও নির্মাণ কাজের টেন্ডার নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসা, যানবাহন ও পরিবহন থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজি, স্থানীয় শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, এলাকার মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, স্থানীয় হাট-বাজার, জলমহাল ইজারা নেয়া ইত্যাদি অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া নিয়ে নিজ দলেরই প্রতিপক্ষ নেতাকর্মীদের সাথে সংঘাত-সংঘর্ষ এমন কি জখম ও হত্যা করার মতো অপরাধের সাথে জড়িত হয়ে পড়ছে আওয়ামী লীগের জেলা, শহর, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। গত কয়েক বছরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অন্তর্বিরোধ, অন্তর্দ্বন্দ্ব মুখোমুখি সশস্ত্র সংঘর্ষ, হত্যা ও জখম হওয়া সম্পর্কিত অসংখ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় সংবাদপত্রসমূহ এবং টেলিভিশনের পর্দায়। এসব অন্তর্কলহ ও সহিংসতার ফলে শুধু গত দুই মাস সময়ের মধ্যে নিহত হয়েছে অন্তত ২৫ জন নেতাকর্মী।
সর্বশেষ যে আন্তঃদলীয় কোন্দলে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সহিংস ঘটনায় গুলিবর্ষণের ফলে দেশব্যাপী আলোড়নের সৃষ্টি হয়, তা হচ্ছে ঘটনাস্থলে দৈনিক সমকালের শাহজাদপুরের প্রতিনিধি আবদুল হাকিম শিমুলের গুলিবিদ্ধ হওয়া ও পরে মারা যাওয়া। ২ ফেব্রুয়ারি দ্বিপ্রহরে পৌর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ভিপি রহিমের কর্মী-সমর্থকরা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর বাড়ি আক্রমণ করে। একপর্যায়ে আক্রান্ত ও আক্রমণকারীদের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হলে সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুল মাথায় গুলিবিদ্ধ হন ও পরে মারা যান। এ ছাড়া উভয়পক্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন।
কুষ্টিয়া আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এমন এক সহিংস রূপ ধারণ করেছেÑ যার ফলে প্রায় প্রতি মাসেই সেখানে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েক সপ্তাহে সেখানে চারজন নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত ৪ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মঠপাড়া গ্রামে আওয়ামী লীগের দুই উপদলের সশস্ত্র সংঘর্ষে ইদরিস আলী নামে এক কর্মী নিহত হন।
২ ফেব্রুয়ারি রাতে হত্যা করা হয় নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রভাষ রায়কে। তার স্ত্রীর অভিযোগ, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর বিরোধের জের ধরেই তার স্বামীকে হত্যা করা হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাতে শেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান মডেল কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম হাসান খানকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে আহত করেছে নিজ দলীয় প্রতিপক্ষ। এর আগে ১৭ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার একটি জলমহালের ইজারা ও দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই বিবদমান পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত হয় তিনজন ও আহত হয় ২২ জন। গত ১১ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও পল্লী চিকিৎসক লুৎফুর রহমান সাবুকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। ডিসেম্বর (২০১৬) ও জানুয়ারি (২০১৭) দুই মাসে আওয়ামী লীগের উপ-দলীয় কোন্দলে নিহত হয় ২৫ জন। ১৭ জানুয়ারি সাতক্ষীরায় উদ্ধার করা হয় ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক হাসিবুল হাসান ইমনের লাশ। ১ ফেব্রুয়ারি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে বড় মাছুয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কাইউম হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তার প্রতিপক্ষ।
৩১ ডিসেম্বর খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড এ মাহমুদকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে নিহত হন পথচারী এক নারী। ৯ জানুয়ারি শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের রঞ্চন ছৈয়ালকান্দি গ্রামে দুই আওয়ামী লীগ নেতার সমর্থকদের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংঘর্ষে হোসেন খান নামে একজন নিহত ও অন্য ছয়জন আহত হন। চাঁদাবাজি, দখলদারি ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ধন ও সম্পদ-সম্পত্তির মালিক হওয়ার উদগ্র বাসনায় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের মাঝেও প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে আন্তঃউপদলীয় কলহ ও পরিণতিতে হত্যার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেয়ার অশুভ প্রচেষ্টাও লক্ষণীয়। গত বছরের ১৯ নভেম্বর ছাত্রলীগ কর্মীদের দ্বারা লাঞ্ছিত হন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ। পর দিন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয় তার নিজ বাসা থেকে। হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। এসব দলীয় নেতৃবৃন্দকে হত্যা করার পেছনে রয়েছে স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্ব ও সংঘাত। সরকারি দলের প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি, দখলদারি, টেন্ডারবাজি, বালুমহাল, জলমহাল, হাটবাজার ইজারা, পরিবহন ও যানবাহন থেকে অর্থ আদায় করা চলছে ফ্রি স্টাইলে। নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগির অঙ্ক মনঃপূত না হলে যে বিরোধের সূত্রপাত হয়, সেটাই পরিণত হয় প্রতিপক্ষকে চিরতরে সরিয়ে দেয়ার পৈশাচিক আকাক্সক্ষায়।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলীয় কোন্দল ও হানাহানির ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুলের গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনার পর অভিযুক্ত শাহজাদপুর পৌর মেয়রকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত মামলায় তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। এখানে স্মরণ রাখা দরকার যে, শাহজাদপুর আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ভিপি রহিমের কর্মী-সমর্থকরা আগে পৌর মেয়রের বাড়িতে আক্রমণ চালিয়েছিল। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জন্য প্রতিপক্ষ একই দলের নির্বাচিত মেয়রের বাড়ি আক্রমণের জন্য একবার বহিষ্কৃত নেতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজনÑ সুবিচারের স্বার্থে।
প্রকৃতপক্ষেই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের জন্য এসব ঘটনা অবশ্যই বিব্রতকর। ডিসেম্বর-জানুয়ারি দুই মাসে নিজেদের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ, হানাহানি, দলবেঁধে হত্যা, গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছে অন্তত ২৫ জন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ কর্মী। আর গত দুই বছরে নিহত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর সংখ্যা অন্তত দেড়শত। এরা কেউ জামায়াত-শিবির বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের হাতে খুন বা আহত হননি। ক্ষমতায় থাকার পরেও আওয়ামী লীগ এসব হত্যাকা-কে বিরোধী দলের দ্বারা সংঘটিত এ কথা প্রচার বা প্রমাণ করতে পারেনি।
প্রথমবারের মতো দলীয় মনোনয়নে দলীয় প্রতীক ব্যবহার করে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও দলের অভ্যন্তরে সৃষ্টি করেছে উপ-দলীয় সংঘাত, বিরোধ ও রেষারেষি। বহু বছর যাবৎ দলীয় কর্মী সদস্য হিসেবে যারা কাজ করে আসছেন- ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তারা যিনি মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। আবার দলের অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভ করে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বড় দল হিসেবে এবার দীর্ঘ আট বছর যাবৎ ক্ষমতায় থাকার পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের জেলা উপজেলা ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অঢেল অর্থ উপার্জন ও ক্ষমতা প্রয়োগ করার প্রয়োজনে পদ ও পদবির প্রতি যে আকর্ষণ সৃষ্টি হয়েছেÑ তাতে বাঁধ সাধতে পারে এরকম সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে হত্যার মাধ্যমে চিরতরে সরিয়ে দেয়ার মানসিকতাই হচ্ছে এই বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীদের মৃত্যুর কারণ।
নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলা এ ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা বড় দৃষ্টান্ত। একসাথে একজন নির্বাচিত কাউন্সিলর, তার সহকর্মী অন্য তিনজন ও গাড়ির চালকসহ পাঁচজনকে যখন অপহরণ করা হচ্ছিল, ঘটনাচক্রে তা প্রত্যক্ষ করে মোবাইলে ভিডিও করে রাখছিলেন আইনজীবী চন্দন সরকার। র‌্যাবের ভাড়াটিয়া পুরো ইউনিট তখন চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালককেও তুলে নেয়। তাদের সাতজনের একই মর্মান্তিক পরিণতির কথা কখনও কোনো দিন কারো চোখের সামনেই ভেসে উঠত না- যদি ঘটনার দুই দিন পর ছয়জনের লাশ ও তার পরের দিন অবশিষ্ট একজনের লাশ শীতলক্ষ্যায় ভেসে না উঠত। ঘটনার প্রধান লক্ষ্য নিহত নজরুল ইসলাম ছাত্রজীবন থেকে ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা। ঘটনার পরপরই নজরুল ইসলামের শ্বশুর অভিযোগ করেছিলেন যে, একই এলাকার পাশাপাশি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন ছয় কোটি টাকা র‌্যাব-১১ কে ঘুষ দিয়ে খুনের ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটিয়েছেন। যার বিরুদ্ধে ছয় কোটি টাকা দেয়ার অভিযোগ, তিনি বিভিন্নভাবে প্রতিদিন উপার্জন করতেন ২৫ লাখ টাকা। এ সম্পর্কেও সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সাত খুনের মামলার রায়ে ২৬ জনকে মৃত্যুদ-ে দ-িত করা হয়েছে ও অন্যান্য দশজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- দেয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের মনোনীত ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যেও কারো কারো মনে রয়েছে প্রতিপক্ষ একই দলের অন্য নেতাকে হত্যার মাধ্যমে চিরতরে সরিয়ে দেয়ার প্রবণতা। টাঙ্গাইল-৩ আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান প্রায় পাঁচ মাস যাবৎ কারাগারে অন্তরীণ। টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমদকে হত্যার অভিযোগপত্রভুক্ত একজন আসামি সংসদ সদস্য আমানুর। একই মামলায় তার অন্য তিনভাই আসামি ও পলাতক। চার ভাই-ই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে পদ ও পদবি ব্যবহার করে প্রভূত ক্ষমতা ও অর্থবিত্তের মালিক। ১৩ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, সংসদ সদস্য আমানুর জেলে বসেই পরিকল্পনা করেন, ঘাটাইল ব্রাহ্মশাসন গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি ছাত্রলীগ নেতা আবু সাইদ রুবেলকে যাতে তার নিয়োজিত অস্ত্রধারীরা হত্যা করে। গত বছরের ৯ নভেম্বর রাতে অস্ত্রধারীরা আবু সাইদের ওপর হামলা চালায়। আবু সাইদ প্রাণে বেঁচে গেলেও এখন পঙ্গু।
আওয়ামী লীগের মতো বড় একটি দলের দেশব্যাপী নেতাকর্মীদের আচরণ ও কর্মকা-ের ওপর নজরদারি করা ও তাদের আইনসম্মতভাবে নিজেদের বিরোধ মীমাংসায় উপনীত হতে বাধ্য করা একটি কঠিন কাজ। কিন্তু সুশাসনের অন্যতম শর্ত হলো সকলের প্রতি সুবিচার। দলীয় নেতাকর্মীদের দেশের সম্পদ অবাধে দখল ও লুটপাট করার সুযোগ দেয়ার পরিণতিতে সৃষ্টি হয় হিংসা-বিদ্বেষ, সহিংসতা। এ পর্যন্ত গত দুই বছরে প্রায় ২০০ আওয়ামী লীগ কর্মী-নেতা নিহত হয়েছেন নিজদলীয় সশস্ত্র প্রতিপক্ষের হাতে। ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাদের অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শন গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রচার হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই ক্ষমতাসীনদের জন্য সুসংবাদ বয়ে আনবে না। তাই এসব নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া বাঞ্ছণীয়। অন্যথায়, এই দলীয় কোন্দল ও হানাহানির মাত্রা বেড়ে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
লেখক : গবেষক ও প্রাবন্ধিক



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।