Inqilab Logo

ঢাকা বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭, ১২ সফর ১৪৪২ হিজরী

খুলনায় ভোটের আগে সমান সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ

প্রকাশের সময় : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

এ.টি.এম রফিক/আশরাফুল ইসলাম নূর, খুলনা থেকে ঃ খুলনাতে মনোনয়নপত্র ছিনতাই, জমা দিতে বাধা দেয়া এবং হামলা ও হুমকি-ধমকির ঘটনার সুরাহা পাচ্ছেন না বিরোধী দল-মতের প্রার্থীরা। হামলা-বাধার কারণে কয়েকজন বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় ইতোমধ্যে পুনঃতফসিলের দাবি জানানো হয়েছে। নির্বাচনপূর্ব পরিবেশ-পরিস্থিতি নিরপেক্ষ হচ্ছে না মন্তব্য করে ভোটের আগেই নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষপাত্বিতের অভিযোগ রয়েছে বিরোধী দল-মতের নেতাকর্মীদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনা জেলার তেরখাদা সদর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফকির অহিদুজ্জামানের ভাই তহিদুজ্জামান ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নান্নু শেখের নেতৃত্বে বিএনপি মনোনীত সদরের প্রার্থী এসএম মহিবুলাহ ও ছাগলাদহ ইউনিয়নের মানজুর হাসান দারুর দলীয় প্রত্যয়নপত্র ও মনোনয়নপত্র ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। বিএনপি সভাপতি কওসার চৌধুরীসহ নেতাকর্মীদের লাঞ্ছিত করে এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য করে তারা। একই দিন ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে রূপসা উপজেলার টিএস বাহিরদিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ জাহাঙ্গীর শেখ তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বিএনপি’র প্রার্থী বিকাশ কুমার মিত্রের ওপর হামলা চালায় এবং তাকে নির্বাচনী প্রচারণা থেকে বিরত থাকার হুমকি দেয়। এসব অভিযোগ উত্থাপন করে খুলনার তেরখাদা উপজেলার সদর ও ছাগলাদহ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবি করেছে বিএনপিবিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র ছিনতাই, সন্ত্রাসী হামলা, হুমকি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এবং রিটার্নিং অফিসারের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা জেলা বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে ইসি ও প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করা হয়। এদিকে, নির্বাচন অনুষ্ঠিতব্য ৬৭টি ইউনিয়নের মধ্যে দাকোপের কামারখোলা, তিলডাঙ্গা, লাউডোব ও কৈলাশগঞ্জ, তেরখাদার সাচিয়াদাহ এবং পাইকগাছার লস্কর এই ৬টি ইউনিয়নে প্রার্থী দিতে পারেনি বিএনপি। দিঘলিয়ার যোগীপোলসহ কয়েকটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতাই থাকছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর আবরণে আওয়ামী লীগ নেতাই। পাইকগাছার লাড়–লী ইউনিয়নের গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে সদস্য পদ প্রার্থী সাধন ঘোষকে বেধড়ক মারপিট করে প্রতিপক্ষরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রার্থীদের অভিযোগ, প্রথমবারের মতো দলীয় মনোনয়নে ও প্রতীকে নির্বাচনের আয়োজন হওয়ায় সরকার সমর্থিত প্রার্থীরাই সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন তাদের পক্ষেই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। এখনি প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা বজায় না রাখলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষা নির্বাচন অসম্ভব।
জেলা বিএনপিসাধারণ সম্পাদক এ্যাড. শফিকুল আলম মনা বলেন, আমাদের প্রার্থী, কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে। তাদের পক্ষে কাজ না করলে ভোটের পরে দেখে নেবার হুমকি দিচ্ছে এখনি। এসব বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশকে জানিয়েছেও রেহাই পাচ্ছেন না নেতাকর্মীরা।
সংবিধান প্রণেতা প্রবীণ আইনজীবী শেখ এনায়েত আলী বলেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক বলে স্বাধীন ও স্বতন্ত্রং প্রতিষ্ঠান। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশে ভোটদানের আয়োজন করাই তাদের কাজ। সে কাজটি যত সুচারুভাবে করতে পারবেন, তারাই যতোখানী সফলতার দাবিদার। বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনার সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক বলেন, ইউপি নির্বাচনে বিভিন্ন স্থানে মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রার্থীদের বাঁধা সৃষ্টি পুরো নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। আর সেই কারণে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার প্রবণতা গণতন্ত্রের জন্যে অশনিসংকেত।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: খুলনায় ভোটের আগে সমান সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ