Inqilab Logo

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৫ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

হত্যা মামলায় রায়ের সময় আপিল বিভাগ যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাবাস

| প্রকাশের সময় : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : সাভারের এক হত্যা মামলায় আপিলের রায়ের সময় ‘যাবজ্জীবন কারাদন্ড মানে আমৃত্যু কারাবাস’ বলে মন্তব্য করেছেন আপিল বিভাগ। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। তবে অন্যান্য মামলার আসামির ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে কি-না, সে বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, সকলের ক্ষেত্রে এ রায় প্রযোজ্য হবে কি-না, সেটি পূর্ণাঙ্গ রায় না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না। আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন খন্দকার মাহবুব হোসেন ও মনসুরুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। পরে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ২০০১ সালে সাভারে জামান নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২০০৩ সালে তিনজনকে মৃত্যুদন্ড দেন দ্রুত বিচার আদালত। হাইকোর্টে আপিলের পর বিচারিক আদালতের দন্ড বহাল থাকে। এরপর আপিলের পর মঙ্গলবার আসামিদের মৃত্যুদন্ড মওকুফ করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন সর্বোচ্চ আদালত।
এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু (ন্যাচারাল লাইফ) কারাবাস। তখন আমি এর প্রতিবাদ করেছি।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমি বলেছি, দন্ডবিধির ৫৭ ধারায় যাবজ্জীবন কারাদন্ডের অর্থ ৩০ বছর। এছাড়া যাবজ্জীবনের আসামিরা কারাগারে রেয়াত পেয়ে দন্ড আরও কমে আসে। যদি আমৃত্যু কারাদন্ডই হয়ে থাকে, তাহলে তাদের রেয়াতের কি হবে? আমি আরও বলেছি, প্রধান বিচারপতির এ মন্তব্য যেন মূল রায়ে না থাকে’। তবে যদি থাকে, তাহলে সব আসামির ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে’।
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাভারের একটি হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ড মওকুফ করে যাবজ্জীবন দন্ড দেন আপিল বিভাগ। তবে আদেশে বলেছেন, যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছর নয়, আমৃত্যু কারাদন্ড। তখন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছর। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, মূল রায়ে এটির ব্যাখ্যা থাকবে। তবে অ্যাটর্নি জেনারেলে মতে, এখনি এটা বলা যাবে না যে, যাবজ্জীবন মানে আমৃত্যু কারাদন্ড। মূল রায় আসারডিএনসিসির পুড়ে যাওয়া মার্কেট অস্থায়ীভাবে নির্মাণ
আবার বেচাকেনা শুরু
স্টাফ রিপোর্টার : গুলশান-১ এর ডিএনসিসির পুড়ে যাওয়া কাঁচা মার্কেটে অস্থায়ীভাবে ব্যবসা শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টায় ক্ষতিগ্রস্ত ২৯১ দোকান মালিককে অস্থায়ীভাবে নির্মিত দোকানগুলো বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। মেয়র আনিসুল হক উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েকজনের কাছে দোকানগুলো হস্তান্তর করেছেন। এরপর তিনি অস্থায়ী মার্কেটটি ঘুরে দেখেন।
এসময় ডিএনসিসি মেয়র জবর-দখলসহ যে কোনো অনিয়ম দেখলে সরাসরি তার মোবাইলে এসএমএস করতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একটা এসএমএস করবেন যে অমুক আইসা টাকা চাইছে। একটা এসএমএস করবেন যে অমুক জোর করে এটা করতেছে। দেখবেন পরের দিন সকালেই ইনশাল্লাহ কাজ শুরু হয়ে যাবে।
আনিসুল হক বলেন, কেউ যদি আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করে, আপনাদের বহু লোকের কাছে আমার ফোন নম্বর আছে, কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য সবার ফোন নম্বর আছে। একটা এসএমএস করবেন এর বেশি কিছু নয়। অর্থাৎ তিনি নিজের মোবাইল নম্বর ছাড়াও সংশ্লিষ্টদেরও এসএমএস করার কথা বলেন। বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের উদ্দেশ্যে আনিসুল হক বলেন, নেতাদের সম্পর্কে অনেক রকমের কথা শোনা যায়। আপনারা নেতা হয়েছেন কারণ লোক আপনাদের পছন্দ করে। আপনারা সৌহার্দ্যশীল থাকুন। এক্সপ্লয়েড করবেন না দয়া করে।
অনিয়মের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, স্পষ্ট বাংলা কথা, কোনো অনিয়ম হতে দেবে না সিটি কর্পোরেশন। কোনো পলিটিকস হতে দেবে না সিটি কর্পোরেশন। আমরা কারও শত্রæ না। আমরা সবার বন্ধু হয়ে কাজ করতে চাই। আমরা চাই শৃঙ্খলা মতো কাজ হোক।
মেয়র বলেন, আপনারা আমাদের ভোট দিয়েছেন আপনাদের সহযোগিতা করার জন্য। ঢাকা শহরের যেখানে যান দেখেন আমরা কীভাবে কাজ করছি। দেখেন সিটি কর্পোরেশন কতো বদলে গেছে আগের তুলনায়। আপনাদের সঙ্গে আমরা কতো বন্ধু ভাবাপন্ন হচ্ছি।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে আনিসুল হক বলেন, আপনাদের যদি কোনো কিছু বলার থাকে, কোনো কিছু চাওয়ার থাকে, কোনো দাবি থাকে আসেন সিটি কর্পোরেশনে, আপনাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি আছেন। আসুন আলোচনার মাধ্যমে আমরা পরস্পরের সাহায্য করি।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের বিশেষ উন্নয়ন খাত থেকে ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ইটের ফ্লোর, বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে ওই ৩টি অস্থায়ী শেড নির্মাণ করা হয়। অস্থায়ী শেডের এ ব্লকে ৬৪টি, বি বøকে ১৮টি এবং সি বøকে ২২৪টি দোকান নির্মাণ করা হয়। অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ২৯১ ব্যবসায়ীকে এসব দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
বহুতল মার্কেট নির্মাণ পর্যন্ত অস্থায়ী শেডে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবেন বলে জানান মেয়র।
প্রতীকী হিসেবে কয়েকজন ব্যবসায়ীর হাতে বরাদ্দের কাগজ তুলে দেয়ার পর মার্কেট ঘুরে দেখেন আনিসুল হক। অনুষ্ঠানে ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মফিজুর রহমানসহ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বোঝা যাবে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: হত্যা


আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ