Inqilab Logo

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯, ১২ মুহাররম ১৪৪৪
শিরোনাম

আদর্শের মূর্তপ্রতীক হযরত মুহাম্মদ (সা.)

পথ নির্দেশ

| প্রকাশের সময় : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

এইচ এম আব্দুর রহিম : সমাজ ও সংঘবদ্ধ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়ার কারণেই অন্যান্য প্রাণী থেকে মানুষ ভিন্ন প্রকৃতির। সামাজিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে ভূষিত করেছে। এজন্য সামাজিকতা শেখা আমাদের জন্য অপরিহার্য। কারণ সমাজই আমাদের জীবনের প্রথম বিচরণ ক্ষেত্র। সমাজ সংগঠনের মাধ্যমেই জীবনের প্রকৃত বিকাশ। ব্যক্তির সামাজিক সম্পর্ক ও আচরণ যত উন্নত হবে, সামাজিক মর্যাদাও ততবেশি বিকশিত হবে। এজন্য ইসলাম মানুষকে সমাজবদ্ধ জীবনযাপনে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত শিখিয়েছেন। ইসলামের নবী মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) একজন মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আদর্শের বাতিঘর। মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে নিয়ে তার সামাজিকতা ও পারস্পরিক আচরণ কেমন হবে, সবই শিক্ষা দিয়েছেন তিনি। সিরাতুন্নবী (সা.)-এর পরতে পরতে রয়েছে মানুষের চলার পাথেয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।’ নবীজির গোটা জীবন ছিল আদর্শের প্রতীক। সামাজিক সম্পর্ক উন্নততর এবং সমাজ জীবনে অপার শান্তি-কল্যাণ চাইলে তার আদর্শের কাছে বার বার ফিরে যেতে হবে। ব্যক্তিগত সংশোধন ও পরিশুদ্ধির ব্যাপারে রাসূল (সা.) সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। মূলত : ব্যক্তি চরিত্রই সমাজ কল্যাণের প্রথম সোপান। মানব চরিত্র সুষ্ঠু ও সত্যনিষ্ঠভাবে বিকশিত করতে হলে ব্যক্তিগত পরিশুদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এ জন্য রাসূল (সা.) নিজ হাতে কিছু মানুষ তৈরি করেছিলেন। তার হাতে গড়া মানুষ এযাবতকালের সেরা। রাসূলের হাতেগড়া সাহাবায়ে কেরামের মতো সেরা মানুষ পৃথিবীতে আসেনি, আর কখন আসবেও না। সংখ্যায় কম হয়েও আদর্শের বলে তারা গোটা বিশ্বজয় করতে সক্ষম হয়ে ছিলেন। রাসূল (সা.) তাদের বাস্তব শিক্ষা ও অনুশীলনের মাধ্যমে গড়ে তুলে ছিলেন মনের মতো করে। একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের করণীয় এবং তার প্রতিটি মুহূর্ত কীভাবে কাটাবে এর সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিল রাসূলের শিক্ষায়। হযরত সালমান ফার্সি গর্ব করে বলেছিলেন, ‘আমরা এমন এক নবীর সান্নিধ্য পেয়েছি। যিনি হাতেকলমে সব কিছু শিক্ষা দিয়েছেন। এমনকি আমরা কীভাবে প্রাকৃতিক প্রয়োজনাদী সম্পন্ন করব সে শিক্ষা তিনি আমাদের দিয়েছেন।’ মূলত : রাসূল (সা.) ছিলেন সামাজিক আন্দোলনের সিপাহসালার। তার বিদ্যা ও বোধ শক্তি ছিল শ্রেষ্ঠ সমাজপতির মতো। তিনি মানুষকে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা এবং সামাজিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার জন্য নিরলসভাবে শ্রম দিয়েছেন। তিনি তার জাতিকে সামাজিক ন্যায়নীতি, আদর্শ ও নীতিবোধ বলীয়ান হয়ে অব্যাহত সংগ্রাম চালিয়েছেন। সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে আচার ব্যবহারে ভদ্রতা, নম্রতা, শিষ্ঠতা ও নমনীয়তার শিক্ষা রাসূল (সা.) দিয়েছেন। মানুষের সাথে ভদ্রোচিত আচরণ করা তিনি শিক্ষা দিয়েছেন, কারো সঙ্গে অবজ্ঞা না করা বিদ্রƒপ না করার শিক্ষা পাই তার আদর্শে। কারো মানসম্মানে খেয়ানত করতে তিনি কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। মাপে কম দেয়া, ঠকানো জালিয়াতি, মিথ্যাচার, কুতসা নেতিবাচক কর্মকা- থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখতে সদাচারণ, নম্রব্যবহার, সম্মান প্রদর্শন, পরনিন্দা পরিহার, সালাম, মেসাফাহা, সেবা শত পরামর্শ এবং পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা মহানুভবতা ইত্যাদি শত গুণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছেন। মহানবী ছিলেন সামাজিক জাগরণের অগ্র পথিক। তার প্রতিটি কথায় সামাজিক ঐক্য, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন এবং অগ্রগতির এ জন্য তিনি অধঃপতনের বেলাভূমিতে থাকা আরব সমাজকে জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। একটি সমাজ ব্যবস্থার উত্তরণ এবং বিকাশে আদর্শিক যে প্রেরণা দরকার, এর সবই আছে সিরাতুন্নবীতে। নবী জীবনের বাঁকে বাঁকে পাওয়া যায় অবলম্ব^নযোগ্য নানা পাথেয়। সমাজ বিজ্ঞানীরা এ কথা স্বীকার করেছেন। মহানবী (সা.)-এর মতো সমাজ নির্মাতা সমাজের আদর্শ কারিগর পৃথিবীর ইতিহাসে আর নেই। যত বড় নেতা হোক না কেন শতভাগ নিরপেক্ষ থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু আদর্শের আলোকবর্তিকা মোহাম্মদ (সা.) জীবন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম তার প্রতিটি কাজ অনুসরণযোগ্য। জীবনের প্রতিটি প্রান্ত, স্বচ্ছতা ও নিষ্কলুষতার বারিধারায় পরিশুদ্ধ। তাকে যারা আদর্শের মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করেছেন তারা সফলকাম। তার আদর্শের ধারক বাহকরা পৃথিবীকে দিয়েছেন শ্রেষ্ঠ সমাজ ব্যবস্থা। নবীর আদর্শের আদলে সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে আজও অস্থিরতা ও অশান্তির অবসান ঘটবে। দুনিয়া ফিরে পাবে জান্নাতি আবহ, শান্তিময় সমাজের সন্ধান।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ