Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

এ সপ্তাহর পদাবলী

এ সপ্তাহর পদাবলী

প্রকাশের সময় : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

বার বার শুনলে
কাজী রকিবুল ইসলাম

স্বপ্নের সোনার বাংলা রহস্যে ভরা
হাওয়ায় মিলিয়ে যায় খুনিরা
বাবার আর্তনাদ দেখে কারা?
এমন হয় না যেন রহস্য উপন্যাস ছাড়া

কান্না আর কষ্টের পাহাড়ে জীবন ঘেরা
লাল গাড়ী, কালো গাড়ী চড়ে কারা?
অপহরণ, গুম, হত্যার বীজ রোপণ করে কি তারা?
প্রহরীর পোশাক থাকে- কোতয়ালের হাতকড়া
অকর্মা প্রতারকদের হাতে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা!
দক্ষ ঈমানদার দিয়ে গড়ো ডিজিটাল বেড়া

সব পাপ সৃষ্টিকর্তা করবে মাফ
একথা তে অপরাধীরা মেলায় খাপে খাপ
মুচকি হাসে যেন বলে করো পাপ!
সব অপরাধ একদিন তো হবে মাফ।

আসল কথা শোনে না- শোনায় না কেউ

সব কিছুর উপরে প্রথম শর্ত প্রতিপলে
হালাল রুজি, রিজিক না হলে
সকল কর্মই যাবে বিফলে।
উপাসনালয়ে যে কথা বার বার শোনালে
কিছুটা কাজ করবে দিলে।



সব ভাষার সেরা ভাষা
জাফর পাঠান

আমার মা আমাকে দিয়েছিলো সর্বপ্রথম স্বাদ
কি যে শ্রুতিমধুর- খাদ ছাড়া একদম নিখাদ,
এ দেহের প্রতিটি কোষে প্রাণের যত উপস্থিতি

ঠিক ততটি কোষ গেয়ে চলেছে মার ভাষাগীতি।

আজ দাদা নেই-বাবা নেই, নেই আমার মামনি
শহীদ রফিকের মার ডাকের- শুনি প্রতিধ্বনি,
ধরণীর বুকে কতই আছে- দেশের পর দেশ

মার মুখের বাংলা ভাষাই চরাচরে শিরোদেশ।

ভাষার জন্য কোনো মাকে ভবে খেতে হয়নি গুলি
বাংলার মার রক্তাক্ত বুকেই- মাথা রাখে বুলবুলি,
কেঁদেছে আকাশ-বাতাস-মাটি, কেঁদেছে নদীগুলি

আজো তারা কাঁদে, সালাম-বরকতের কথা বলি।

সীমান্তরা তুলে বেড়িয়ার- ভাঙ্গে বন্ধন তালার
সব ভাষার সেরা ভাষা- শুধুই আমার বাংলার।



পতিতার পতিত হওয়া
আল-আমিন পলাশ

আমি কেবলই পতিত হই
সমাজের নিচু থেকে আরো নিচুতে
অতলতায় তলিয়ে যাই মুহূর্তে
শতটন পাথরের মতো দুরন্ত গতি নিয়ে
হাজির হই সুশীল সমাজের তলদেশে;
সেখানে অসংখ্য পতিতার সাথে ঘর করি,
মানুষ আমার সম্মান কেড়ে নেয়
পথচলায় আড়চোখে দেখে নিন্দুকেরা।
গভীর রাতে পৃথিবীর কোলাহল থামলে
অসংখ্য সতর্ক শৃগালের পায়ের শব্দ শুনি
আমার ঘরের দাওয়ায়;
কামনার লোলুপ দৃষ্টি নিয়ে
আমার চোখে চোখ রাখে সমাজপতি
সামান্য অর্থের বিনিময়ে যৌবন ফেরি করি,
তবু সমাজপতি পতিত হয় না
সমাজের প্রথম থেকে দ্বিতীয় সিঁড়িতে।
সমাজ আমায় পতিতা করে প্রতি মুহূর্তে
আমার যৌবন লুণ্ঠিত হয় পাঁচতলার চিলেকোঠায়
গার্মেন্টসের অফিস কক্ষে
তারপর আমি হই ভিখারী
শূন্য পেয়ালা হাতে সওদা করি শহরের অলিগলি
সমাজপতি শিল্পপতির ভিড় জমে রাতের আঁধারে,
ভা-ার শূন্য করে দান করি
তবু অসমাপ্ত যৌবন শেষ হয় না;
যুগ যুগ ধরে আমার সওদা কিনে
সামাজিক জীব পতিত হয় না
অথচ আমি পতিত হই অসংখ্য বার
সমাজের নিচ থেকে অনেক নিচুতে।



রংচটা স্মৃতির খিড়কি খুলে দাও
আশফাক আল মানসুফ

তোমাকে ছোঁয়ার বোবা আকুতিগুলো ঢের দিন ধরে
প্রিয় কিতাবের মত যতেœর আতর ছিটিয়ে
তুলে রেখেছি মনের তাকে।
স্মৃতির খিড়কি খুলে চলো, সাবেকি আমলের ঘুণেখাওয়া
সে ভগ্নপ্রায় দিনগুলো গোছগাছ করে ছোটখাটো
একখানা পাঠচক্রের আয়োজন করে ফেলি।
চলো, আমাদের রংচটা স্মৃতির পচে নরম হওয়া
ভুড়ভুড়ে ঝোপ-ঝাড় উপড়ে ফেলি,
প্রেম অধ্যুষিত নিঃশ্বাস ছুঁই ছুঁই উৎকণ্ঠায়
জো আনা জমিনে লাগিয়ে দেই সরস ঘৃতকুমারী।
চলো আমাদের সেকেলে দাঙ্গামাঙ্গা আজই চুকেবুকে নিই,
বিলের বাঁধাই জলে পোনা ছাঁকার মত বিশ্বাসের ঠেলাজালি ঠেলি
ছেঁকে তুলি চলো দুজনের মাঝে চর হয়ে জেগে ওঠা
যতসব অনাস্থার থকথকে বর্জ্য।
রাত্রির কুৎসিত কোলে সমর্পিত হই চলো, ফুঁক দিয়ে
নিভিয়ে দিই নিমনিমে জ্বলা সলতের রোগাটে আগুনটাও। ততক্ষণে
ডোম-ঘরের মত আমাদের দিল-ঘরেও
বুক চিরে নেমে আসুক রিদ্মিক ধুকপুকুনি।
পঞ্জিকা ঘেঁটে চলো ফালি ফালি সমেয়ের
শোকেস থেকে দুদ- ধার নিই,
ভিজে জবুথবু সারসের আড়ষ্টতা মেখে চলো
কলমিলতার ন্যায় দুজনে পেঁচিয়ে জড়সড় হই।
চটিতে বুরুশ মাজার মত গায়ে গা ঘেষি চিবুকে চিবুক লাগাই
অতঃপর কিছুক্ষণ পরীক্ষমূলক কাছে আসার ভান করি।
ঝনঝনে তোলপাড় বাজিয়ে তুলি চলো ভেতর যন্ত্রের ঝুনঝুনি।
চলো সুনসান নীরবতার জাবর কাটি,
ফিসফিস স্বরে তুমুল কাঁপন ধরাই চলো,
তৃষ্ণাতাড়িত চোখেমুখে আর ফাটা বেদানার মত
হাঁ হয়ে থাকা আমাদের আঠালো অধরে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন