Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫, ১৫ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

ভাষা আন্দোলনে নারীদের অবদান

| প্রকাশের সময় : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

প্রফেসর চেমন আরা : বাঙালি জাতি ও বাংলা ভাষার ইতিহাসে ৫২’র  ভাষা আন্দোলন একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা। হাজার বছর ধরে পূর্বসূরিদের বহু ত্যাগ, তিতিক্ষা, সাধনা ও দুস্তর পথ পাড়ি দিয়ে বাংলা ভাষাকে ৫২’র দোর গোড়ায় আসতে হয়েছিল। এই ধারাবাহিকতার ইতিহাস এই ছোট্ট নিবন্ধে বলা সম্ভব নয়।
১৯৪৭ সাল থেকে অর্থাৎ পাকিস্তান সৃষ্টির সূচনাকাল থেকে ভাষার পথ যাত্রা দিয়ে শুরু করছি আমার কথামালা।
১৯৪৭ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র পাকিস্তান সৃষ্টির পর পরই পহেলা সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে  ১৯নং আজিমপুর আবাসিক বাসাবাড়িতে তমদ্দুন মজলিস নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন গঠিত হয়।
এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিলো জাতির তাহজিব, তমদ্দুন, কৃষ্টিকে সমুন্নত রেখে জাতীয় সত্তার উন্মোচনে নতুন নতুন দ্বার উদঘাটন করা।
এই লক্ষের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে মজলিস বেছে নিয়েছিল অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে শাসক গোষ্ঠির কাছ থেকে বাংলা ভাষার স্বীকৃতি আদায় করা। এই দাবিকে গতিময় করার জন্য খুব অল্প সময়ের মধ্যে তমদ্দুন মজলিশ প্রকাশ করে তিন প্রাজ্ঞজনের লেখা সম্বলিত একটি পুস্তিকা। এই পুস্তিকাটি প্রকাশিত হলে সচেতন জনগোষ্ঠির মনে ভাষার প্রশ্নটি আলোড়ন সৃষ্টি করে। আমি তখন সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা। এই ভাষায় আমরা কথা বলি। এই দেশের রাষ্ট্রভাষা বাংলা হবে এ খুশিতে আমরা আবেগ আপ্লুত হয়ে উঠি। অধ্যাপক আবুল কাশেম ছিলেন আমাদের পূর্বপরিচিত। এই সুযোগের সূত্র ধরেই আমি এবং আমার ছোট বোন মমতাজ তমদ্দুন মজলিসের একজন কর্মী হয়ে পড়ি। মাঝে মাঝে ছুটির দিনে আমরা মজলিস অফিসে যেতাম। পোস্টার, ব্যানার বানানোসহ আরো অনেক কাজে আমরা বড়দের সাহায্য করতাম। এই সময় দুই চারজন মহিলাদেরও মজলিসে আসতে দেখি। তাদের নাম যথাক্রমে জেবুন্নিসা বেগম, দৌলতুন্নেছা বেগম ও আনোয়ারা বেগম। তারা তিনজনই উচ্চ শিক্ষিত ছিলেন। মজলিসের আদর্শে বিশ্বাসী ও ভাষার দাবিতে সোচ্চার ছিলেন এই মহিলারা।
বর্তমানের মতো তখন মেয়েদের স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ ছিলো না। অনেক বাধা-বিপত্তির মধ্যে দিয়ে তাদের দিন যাপন করতে হতো। রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারের মেয়েদের উর্দু, আরবী, ফারসী ছাড়া সাধারণ লেখাপড়ার চর্চা কম হতো।
কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার, নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর পরই সমগ্র দেশ জুড়ে মুসলমান মেয়েদের জাগরণের সাড়া পড়ে গেল। গ্রামে, গঞ্জে, শহরে, বন্দরে মেয়েদের স্কুল, কলেজে লেখাপড়ার হার বেড়ে গেল। অভিভাবকরাও মেয়েদের উচ্চশিক্ষা দেয়ার ব্যাপারে উৎসাহি হয়ে উঠলেন।
তার শুভ ফল অচিরে দেখা গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সংখ্যা ক্রম বৃদ্ধিতে। স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার আগ পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলমান ছাত্রী সংখ্যা ছিলো খুবই নগণ্য।
১৯৪৭-১৯৫১ মাত্র চার বছরের ব্যবধানে ভাষা আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সংখ্যা ৮০-৮৫ জন। এবং এই ছাত্রীরাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে এক কাতারে দাঁড়িয়ে ভাষা আন্দোলনে গৌরবময় ভূমিকা রেখে গেছেন। ১৯৫০-১৯৫১ তে ড. সাফিয়া খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ওমেন হল ইউনিয়নের জি.এস ছিলেন, ৫১-৫২ তে ছিলেন ভিপি। তাকে দিয়ে ভাষা আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা প্রথম পর্ব শুরু হয়। বলা যায় তিনি ছিলেন তখনকার বিশ্ববিদ্যালয়ের নারীদের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। তার ভাষ্য মতে,
তিনি ভাষা আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন সচেতন অনুভূতি নিয়ে। পারিবারিক বাধা-বিপত্তি ডিঙ্গিয়ে ছেলেদের সঙ্গে জোর কদমে এগিয়ে গেছেন ভাষা আন্দোলনকে আরো গতিময় করতে। তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা দলে দলে স্কুল, কলেজে গিয়ে মেয়েদের ভাষা আন্দোলনে যোগ দেয়ার আহ্বান জানায় এবং সংঘবদ্ধ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওমেন হলের ছাত্রীরা ভাষা আন্দোলনে দুঃসাহসিক অবদান রেখেছেন। এই সত্য কথাটি আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে।
এই সময়ের ছাত্রীদের মধ্যে যারা ভাষার ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন তারা হলেন- সুফিয়া খাতুন (বিচারপতি ইব্রাহিম সাহেবের মেয়ে),সামসুন নাহার, রওশন আরা বাচ্চু, সারা তৈফুর, কাজী আমিনা, মাহফিল আরা, খুরশিদি খানম, হালিমা খাতুন প্রমুখ। হালিমা খাতুন, সুফিয়া বেগম ও রওশন আরা বাচ্চু এখনও ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ভূমিকা রাখার জন্য ফেব্রুয়ারি আসলেই নানা সভা সমিতিতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে স্মৃতিচারণের জন্য দাওয়াত পান।
ভাষা আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে যারা তমদ্দুন মজলিসের সাথে যুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আনোয়ারা খাতুন। তিনি ছিলেন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য এবং ৫২’র ভাষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সদস্য। গাইবান্ধার বেগম দৌলতুন্নেছা ও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনিও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ছিলেন ১৯৫৪ সালে। নাদেরা বেগম ও লিলি হকের নামও ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে। হামিদা খাতুন, নুরজাহান মুরশিদ, আফসারী খানম, রানু মুখার্জী প্রমুখ মহিলারাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। একুশে ফেব্রুয়ারিতে নৃশংসতার প্রতিবাদে অভয়দাশ লেনে এক সভায় নেতৃত্ব দেন বেগম সুফিয়া কামাল ও নুরজাহান মুরশিদ। ধর্মঘট উপলক্ষে প্রচুর পোষ্টার ও ব্যানার লেখার দায়িত্ব পালন করেন ড.সাফিয়া খাতুন ও নাদিরা চৌধুরী।
বেগম দৌলতুন্নেছার নেতৃত্বে একটি প্রতিবাদ মিছিলও হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারিতে মিছিলে গুলি চালানোর প্রতিবাদে নুরজাহান মুরশিদ ও লায়লা সামাদের নেতৃত্বে নিন্দা প্রস্তার গৃহিত হয়। পরবর্তীকালে এই আন্দোলনে শরিক হয় লুলু বিলকিচ বানুসহ আরো অনেক সচেতন নারীরা।
১৯৪৭ সালে আজাদ পত্রিকায় বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে একটি লেখা প্রকাশ হলে যশোরের হামিদা সেলিম রহমান নামে এক মহিলা একটি নিবন্ধ লেখেন পরবর্তীতে তিনি রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম সম্পাদিক হয়েছেন। এ সময় সুফিয়া খাতুন, হালিমা খাতুন নামে দুজন মহিলার নাম শোনা যায়। যারা ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন।
নারায়ণগঞ্জের মরগান হাইস্কুলের হেড মিস্টেস মমতাজ বেগম স্থানীয়ভাবে রাষ্ট্র ভাষা বাংলার স্বপক্ষে নেতৃত্ব দেন।
সিলেটের মেয়েরাও ১৯৪৮ সালে ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল এবং তৎকালীন মূখ্য মন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিনের নিকট প্রতিনিধিও পাঠায়। এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেয় সিলেটের মুসলিম লীগের নেত্রী জোবেদা খাতুন চৌধুরাণী। অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন সাহারা  বানু, সৈয়দা লুৎফুন্নেছা, রাবেয়া বেগম প্রমুখ।
বিপ্লবের দেশ, বিদ্রোহের দেশ চট্টগ্রাম। যে কোন সময়ে দেশ ও জাতির প্রয়োজনে চট্টগ্রামের ভূমিকা অগ্রগামী। ভাষা আন্দোলনেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। চট্টগ্রামেও  বেশ কিছু কলেজ ছাত্রী এবং সে সময়ের ভদ্র মহিলারাও ভাষা আন্দোলনেও যুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম তোহফাতুন্নেছা আজিম, সৈয়দা হালিমা, সুলতানা বেগম, নুরুন্নাহার জহুর, আইনুনু নাহার, আনোয়ারা মাহফুজ, তালেয়া রহমান, প্রতিভা মুৎসুদ্দি।
খুলনাতেও কাজ করেছেন তমদ্দুন মজলিসের কর্মী আনোয়ারা বেগম, সাজেদা আলী এবং বিভিন্ন স্কুল কলেজে পড়–য়া ছাত্রীরা।
সাতক্ষীরায় সক্রিয়ভাবে এ আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন গুলআরা বেগম ও সুলতানা চৌধুরি। টাঙ্গাইলে আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন নুরুন্নাহার বেলী, রওশন আরা শরীফ।
রংপুরে এই সময় মহিলারা রাষ্ট্র ভাষার দাবিতে মিছিলে গুলি বর্ষণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল। তারা হচ্ছেন নিলুফা আহমেদ, বেগম মালেকা আশরাফ, আফতাবুন্নেছা প্রমুখ।
ভাষা আন্দোলনে রাজশাহীর মহিলাদের ভূমিকা অপরিসীম। রাজশাহীতে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন-ড.জাহানারা বেগম রেনু, মনোয়ারা বেগম বনু, ডা.মহসিনা বেগম, ফিরোজা বেগম ফুনু, হাফিজা বেগম টুকু, হাসিনা বেগম ডলি, রওশন আরা, খুরশীদা বানু খুকু, আখতার বানু প্রমুখ। ভাষা আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনগুলির কথা মনে আসলে প্রথমে মনে পড়ে ইতিহাসের আড়ালে ঢাকা তিনজন নারীর কথা। ১৯নং আজিমপুরের অন্দর মহল ছিল এই তিন নারীর কর্মশালা। কোনরূপ মিটিং, মিছিলে অংশ না নিয়েও এই তিন নারী দিনের পর দিন তমদ্দুন মজলিসের বিপ্লবী চেতনায় উদ্বুদ্ধ কিছু তরুণদের আদর্শিক প্রেরণার উৎস ছিলেন। এই তিনজন নারীর নাম-রাহেলা খাতুন, রহিমা খাতুন ও রোকেয়া বেগম। রাহেলা খাতুন ছিলেন অধ্যক্ষ আবুল কাসেমের স্ত্রী, রহিমা খাতুন ছিলেন তার বোন এবং সাহিত্যিক ও সাংবাদিক সানাউল্লাহ নূরীর স্ত্রী। রোকেয়া বেগম ছিলেন কাসেম সাহেবের সম্বন্ধীর স্ত্রী।
স্বামীর আদর্শিক কর্ম উদ্যোগকে সম্মান করে রাহেলা খাতুন নিজের জীবনের সমস্ত আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে সারাক্ষণ মোমবাতির মতো জ্বলেছেন, পুড়েছেন আর আগর বাতির মতো সুবাস ছড়িয়েছেন। একঝাঁক আদর্শবাদী তরুণদের তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণার উৎস। রোকেয়া বেগমও প্রতিদিন বিশ ত্রিশজন মানুষের রান্নার কাজে সাহায্য করতেন রাহেলা খাতুনকে হাসিমুখেই। রহিমা খাতুনও রাতের কর্মের সঙ্গী ছিলেন। রাত ২টার আগে  এই তিন নারী ঘুমানোর সুযোগ হতো না, মজলিস কমীদের হইহুল্লোড়, গ-োগোলের জন্য।
এই কষ্টকর পরিস্থিতির মধ্যেও এই তিন নারী ভাষা আন্দোলনের মূল উৎসকে বেগবান রাখতে নিজেদের সব রকমের শারীরিক ও মানসিক শান্তিকে দূরে রেখে অবিরাম তমদ্দুন মজলিসের দূর প্রবাসি কর্মী ভাইদের সুখ-সুবিধার প্রতি সচেষ্ট থাকতেন। গফুর ভাইয়ের মুখে শুনেছি ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ২২ ও ২৩ ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের ধরপাকড় চলেছিলো। তখন গফুর ভাই ছিলেন সৈনিক পত্রিকার সম্পাদক। কাসেম ভাই ও গফুর ভাইকে ধরার জন্য সেই রাতে পুলিশ এসেছিলো বাড়িতে। রাহেলা খাতুন সাহসিকতার সাথে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশের মোকাবেলা করেন। এই সুযোগে কাসেম ভাই ও গফুর ভাই পেছনের দরজা দিয়ে সরে পড়েন। পুলিশ ঘরে তাদের না পেয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। প্রেম, ভালোবাসা, বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতা দিয়ে যে নারীরা ভাষা আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তিকে সচল রেখেছিলেন।
উল্লেখিত নারীরা ছাড়াও আরো কিছু নারীদের কথা জানা যায় আতাউর রহমান খানের সাক্ষাতকার থেকে। তিনি বলেছেন-২১ ফেব্রুয়ারির দুই তিন দিন পর তারা কয়েকজন আজিমপুর কলোনীতে গিয়েছিলেন ভাষা আন্দোলনের চাঁদা তুলতে। সেই সময় অনেক মহিলা ফ্লাটের উপর থেকে তাদের দেখে স্বেচ্ছায় টাকা-পয়সা ছুড়ে দিয়েছিলেন। এমনটি অনেক মহিলা তাদের প্রিয় সোনার অলংকার যেমন-আংটি, কানের দুল, গলার হারও ছুড়ে দিয়েছিলেন। সেই সময়ে নারীদের ভাষার প্রতি আবেগঘন ভালোবাসা, অনুভূতি দেখে তিনি অভিভূত হয়েছিলেন। সুখের কথা নারীদের স্বকীয়তা ও স্বাতন্ত্র্যবোধের প্রথম উন্মেষ ঘটেছিলো তখন থেকে। এই উপলব্ধির মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার ভিত তৈরি হয়েছিলো এবং তারই ফলশ্রুতিতে আমরা লাভ করেছি স্বাধীনতা। লাল সবুজ পতাকা শোভিত স্বাধীন বাংলা দেশ। তারপরও কিছু বর্তমানের বাংলা ভাষার দৈন্য চেহারা দেখে মন ভারাক্রান্ত হয় এতে ত্যাগ, তিতিক্ষা, শহীদি ভাইয়ের বদলে যে আন্দোলনের সূবর্ণ ফসল পেয়ে আমরা ধন্য হয়েছিলাম। স¦াধীনতা, জাতিয়তা ও সংস্কৃতি রক্ষার তাগিদ অনুভব করেছিলাম। ইদানিং বাংলা ভাষা চর্চায় তা দেখা যাচ্ছে না। ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত সেই মূল্য বোধ হারিয়ে যাচ্ছে দিনদিন। সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার, শ্লোগান সর্বস্ব এখন। সাম্প্রদায়িকতার নামে দুইশত বছর ধরে প্রোথিত অনেক শব্দের আমদানি করার সচেতন প্রয়াস চালাচ্ছে একশ্রেণির স্বঘোষিত গবেষক। পরিভাষা সৃষ্টির প্রয়াস- বাংলা ভাষাকে একধাপ নিচে নামিয়ে দিয়েছে। বাংলা ভাষার শ্রুতি মাধূর্য হারিয়ে যাচ্ছে। আজন্ম পরিচিত ভাষার বিকৃতির ছড়াছড়ি, বানানে স্ব-ইচ্ছা প্রণোদিত ই-কার, ঈ-কারের ব্যবহারে ভাষা হয়ে উঠেছে দুবোধ্য ও ব্যবহারের অযোগ্য। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে বিকৃতি ঢুকে ভাষা আন্দোলনের সাফল্যকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করে দিচ্ছে। যারা একুশে পদক পাচ্ছেন তাদের কাছে স্ববিনয়ে অনুরোধ এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করে চিরাচরিত ব্যবহার্য বাংলা ভাষার প্রবাহকে রক্ষা করবেন এই কামনা করি।
লেখক : ভাষা সৈনিক, কবি ও কথাসাহিত্যিক



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।