Inqilab Logo

ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

অমর একুশে গ্রন্থমেলা হাতের মুঠোয় ই-বুক

| প্রকাশের সময় : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

এহসান আব্দুল্লাহ : ঘরভর্তি সারি সারি বই। নিঃশব্দ কক্ষে পাতা উল্টানোর শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যাচ্ছে না। চার দিকে পিনপতন নীরবতা। কিছুক্ষণ পর পর পাঠক দেখছেন কত পৃষ্ঠা পড়া হলো আর কতটুকু বাকি আছে। এরকমই এক প্রকার নেশা জাগানো অভ্যাস বই পড়া। স্কুল-কলেজ অথবা পাড়ার ছেলেরা মিলে গড়ে তোলে এক ক্ষুদ্র পাঠাগার, পরবর্তীতে তা রূপ নেয় সকলের আড্ডাস্থলে। বিকেলে চায়ের কাপে ঝড় ওঠে লেখকের সমালোচনা বা প্রশংসায়। মূলধারার পাঠকরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে বসেন লেখকের সাহিত্যবোধের আর মনোযোগী শ্রোতা হিসেবে থাকেন নতুন পাঠকরা। যাদের সামর্থ্য আছে তারা ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখত প্রিয় বইয়ের একটি কপি। অবসরে বাসার ব্যালকনিতে চায়ের কাপের সাথে কাটত তাদের বইপ্রেম। এভাবেই একসময় চলত কাগজের বইয়ের পাঠ। কালের বিবর্তনে সবকিছুতে লেগেছে প্রযুক্তির ছোঁয়া। এখন তা পাওয়া যাচ্ছে স্মার্টফোনের খুদে স্ক্রিনে। নাগরিক ব্যস্ততার দরুন এখন আর আয়োজন করে বসা হয় না কারোরই। পাড়ার পাঠাগারে ধুলোর আস্তরণ জমে থাকে ইঞ্চিখানেক। তাই সময়ের ফাঁকে তারা বেছে নেন ই-বুক। বইয়ের স্ক্যান অথবা পিডিএফ কপি যা অনলাইনে অথবা রিডারে সেভ করে রেখে পড়া যায় তাকেই ই-বুক বলে। বর্তমান সময়ে সকল বয়সী পাঠকের কাছেই এটি পেয়েছে একটি উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা। ফলে কাগজের বইয়ের প্রতি চাহিদা কমছে কিছুটা। তবে মূলধারার পাঠকরা এখনো নির্ভর করেন কাগজে মুদ্রিত বইয়ের ওপরই। বইয়ের গন্ধ না পেলে তারা পান না পাঠের উপযুক্ত স্বাদ। পাশাপাশি ই-বুকের প্রয়োজনীয়তাও উপলব্ধি করেন সমানভাবে। বিশ্বজুড়ে বইয়ের দুনিয়ায় বিরাট পরিবর্তন এনেছে ডিজিটাল বই বা ই-বুক। কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল বইয়ের (ই-বুক) ব্যবহার ও জনপ্রিয়তাও দিন দিন বাড়ছে।
বইপ্রেমীদের হাতে বই তুলে দেয়ার বইমেলায় দেখা গেল ই-বুককেন্দ্রিক দুটি স্টল এরা হলো ‘সেই বই’ ও ‘বেঙ্গল ই-বুক’। এদের এটি মূলত একটি মোবাইল অ্যাপ। মোবাইল থেকে ব্যবহারকারী তার পছন্দের বইয়ের ই-বুক ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন সহজেই। অ্যাপটিতে আছে নির্দিষ্ট অংশ হাইলাইট করা, ডিকশনারি সুবিধা, টেক্সট ছোট-বড় করা, পাতার রঙ পরিবর্তন এবং বইয়ের অংশবিশেষ শেয়ার করা ইত্যাদি
সেই বইয়ের স্টলে দায়িত্বরত সাজেবুল ইসলাম বলেন, বাংলা সাহিত্যকে ডিজিটালাইজেশন করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছে ‘সেই বই’। এর বইগুলো পড়ার জন্য পাঠককে ‘সেই বই রিডার অ্যাপ’টি মোবাইল বা ট্যাবে ইনস্টল করতে হবে। অ্যান্ড্রয়েট এবং আইওএস-নির্ভর স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট ব্যবহারকারী পাঠকরা অ্যাপটি ফ্রি ডাউনলোড এবং ইনস্টল করতে পারবেন।
১১শ’র বেশি ই-বুক সংরক্ষণে রয়েছে সেই বইয়ের স্টলে। সব ই-বুকেই ৫০ শতাংশ ছাড় দেয়া হচ্ছে। তবে ক্লাসিক বইগুলো দেয়া হচ্ছে ফ্রি। সেই বই অ্যাপটি ইনস্টল করে একজন ইউজার তার ডেবিট, ক্রেডিট, ভিসা, মাস্টারকার্ড, বিকাশ, এমক্যাশ, ইউক্যাশসহ যেকোনো পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করে বই কিনতে এবং পড়তে পারবেন। তারা জানান, প্রকৃতপক্ষে একজন পাঠক বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে পছন্দের বাংলা বই সংগ্রহ করতে পারবেন। আমরা প্রচুর সাড়া পাচ্ছি। স্টলের সামনে মেলার প্রথম দিন থেকেই পাঠকদের ভিড় সবসময় লেগেই আছে।
স্টলে এসে ই-বুক সম্পর্কে জানছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী হায়দার হোসেন। তিনি বলেন, এটা আসলেই চমৎকার এবং যুগোপযোগী উদ্যোগ। পাশাপাশি সাধারণ পাঠকের এ বিষয়ে আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র নোমান আব্দুল্লাহ বলেন, ই-বুকের মাধ্যমে আমাদের বই পড়াটা আরো সহজ হয়েছে। এখন আমরা একটু সময় পেলেই স্মার্টফোনের স্ক্রিনে চোখ বুলিয়ে পড়ে নিতে পারি পছন্দের বইগুলো। মেলায় এসেছে মোল্লা জামানের বই রাজার হুকুম।
গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ৯৪টি এবং ৩৮টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
সুন্দরী জেলেকন্যা ও রহস্যময় গুহা
উদয় হাকিমের সুন্দরী জেলেকন্যা ও রহস্যময় গুহা এখন পাওয়া যাচ্ছে বইমেলায়। ভিয়েতনাম ভ্রমণের ওপর ভ্রমণ কাহিনীভিত্তিক এই বইটি প্রকাশ করেছে অনিন্দ্য প্রকাশ। প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের দ্বিতীয় শীর্ষে স্থান পাওয়া ভিয়েতনামের হা লং বে গুহা এবং এক জেলেকন্যার উপকাহিনী ছাড়াও ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপ ও দ্বীপ রাষ্ট্র মালদ্বীপের ভ্রমণ কাহিনী ঠাঁই পেয়েছে এই বইটিতে। অনিন্দ্য-এর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে বইটি। বইটির প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রæব এষ। বইটির মূল্য ২৫০ টাকা।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন