Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৮ আশ্বিন ১৪২৪, ০২ মুহাররম ১৪৩৮ হিজরী

জিজ্ঞাসার জবাব

| প্রকাশের সময় : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

১। মোহাম্মাদ ফাতহুল বারী ফাইয়্যাজ, রাজামেহার, কুমিল্লা।
জিজ্ঞাসা : মকছুদ হাসিলে মানতের বিধান কি, জানতে চাই?
জবাব : মানত শব্দের সাথে সকল ধর্মের অনুসারীরা কম-বেশি পরিচিত। মানতের বিষয়ে সকল ধর্মের অনুসারীরা একমত পোষণ করলেও মানতের ক্ষেত্র নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতভেদ রয়েছে। যেমনÑ মানত কোথায় করবে, মানত কীভাবে করবে, মানতের যৌক্তিকতা কি এবং আদৌ মানতের বৈধতা আছে কিনা ইত্যাদি। সাধারণত কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে কিংবা মকছুদ হাছিলের অনুক‚লে কোনো হালাল বস্তু বা প্রাণী উৎসর্গ করাকে মানত বলা হয়। মানতের পূর্বশর্ত হলো মানতের বস্তু, প্রাণী এবং নগদ অর্থ হালাল হতে হবে। এবং মানতের নিয়ত সহি শুদ্ধ হতে হবে। হারাম কিংবা অবৈধ কোনো বস্তুকে মানত হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। কোনো উদ্দেশ্যে হাছিলের জন্য অবশ্যই মানত করতে হবে এধরনের বাধ্যতামূলক বিধি-বিধানও নেই। তবে কেউ যদি মনে করেন-আমি পরীক্ষায় পাস করলে দশ রাকায়াত নফল নামাজ আদায় করব এবং দশটি নফল রোজা রাখব ইহাতে কোনো বাধা-নিষেধ নেই।
মানত নতুন কোনো বিষয় নয়। বনি ইসরাঈলের নবীদের যুগেও মানতের প্রচলন ছিল। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন ইমরানের স্ত্রী বলল, হে আমার প্রভু, আমার গর্ভে যা আছে তাকে স্বাধীনভাবে তোমার জন্য উৎেসর্গ করলাম, তুমি আমার পক্ষ থেকে এ সন্তানটি কবুল করে নাও, অবশ্যই তুমি শোনো এবং জানো।’ (সূরা আল ইমরান : ৩৫)। হযরত ঈসা (আ.)-এর কোনো পিতা ছিল না। হযরত ঈসা (আ:)-এর জন্মের পর তার মাতা হযরত মরিয়ম (আ.)-কে নিয়ে সমাজের লোকজন নানান সমালোচনা ও মন্তব্য করলে হযরত মরিয়ম (আ.)-কে আল্লাহ তা‘য়ালা কথা না বলার বিশেষ উদ্দেশ্যে রোজা রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তুমি মানুষের কাউকে দেখো তখন বলবে, আমি আল্লাহ তা‘য়ালার নামে রোযা রাখার মানত করেছি, আমি আজ কোনো মানুষের সাথে কথা বলব না।’ (সূরা মরিয়ম : ২৬)।
দান সদকা যেমন আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য করতে হয়। তদ্রæপ মানতও আল্লাহকে খুশি করার উদ্দেশ্যে করতে হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা যা কিছু ব্যয় করো, আর কিছু (ব্যয় বরার জন্যে) মানত করো, আল্লাহ পাক অবশ্যই জানেন।’ (সূরা বাকারা : ২৭০)। তবে মানত নিয়ে সমাজে নানান ধরনের ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। তাই মানতের নিয়ম-কানুন জানা প্রয়োজন। যেমনÑ কেউ মানতের নিয়ত করল যে, অমুক (হালাল) কাজে সফল হলে পশু (ছাগল, ভেড়া, গরু ও মহিষ ইত্যাদি) দিয়ে একশ’ এতিম ছাত্রকে ভাত খাওয়াবে। এ ধরনের মানত আদায়ের ক্ষেত্রে দোষের কিছু নেই। এতিম খাওয়ানো সওয়াবের কাজ। এতিমকে এহসান করলে আল্লাহ খুশি হন। অপরদিকে মানতকারী ব্যক্তি যদি এরূপ মানত করেন যে, অমুক (হালাল) কাজে সফল হলে পশু (শূকর, সিংহ, শিয়াল ইত্যাদি) দিয়ে একশ’ এতিম ছাত্রকে ভাত খাওয়াবে। এক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি হালাল কাজে মানত করলেও মানতের সাথে শূকরের মাংস খাওয়ানোর বিষয়টি সম্পৃক্ত থাকায় মানতটি অবৈধ। কোরআন ও হাদিস অনুমোদিত বৈধ বিষয় দিয়ে মানত আদায় করতে হবে। হালাল বস্তু বা প্রাণী দিয়ে মানত আদায় করতে হয়। পক্ষান্তরে কেউ নিয়ত করল, আমার ছেলে পরীক্ষায় কৃতকার্য হলে দশবার অজুু করে দুই রাকায়াত নফল নামাজ আদায় করব। ইহা বৈধ হবে না। নফল নামাজ আদায় ও অজুু করার বিষয়টি উত্তম কাজ হলেও কোনো নামাজ আদায়ের পূর্বে দশবার অজুু করার বিধান নেই। এজন্যে ঐ ব্যক্তির মানতের নিয়ত শুদ্ধ হবে না। আবার কেউ যদি কোনো বিষয়ে মানত করে এবং মানত আদায়ের পূর্বে ইন্তেকাল করেন। তাহলে মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির পক্ষে মানত আদায় করতে হবে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে হযরত আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, হযরত সাদ ইবনে উবাইদা (রা.) হযরত রাসূল (সা.)-এর নিকট মানতের কথা জিজ্ঞাসা করেন, যা তাঁর মায়ের জিম্মায় ছিল, তাঁর মাতা মানত পূর্ণ করার পূর্বে ইন্তেকাল করেন। হযরত রাসূল (সা.) বললেন, ‘তুমি তার পক্ষ থেকে তা আদায় কর।’ (মুসলিম শরীফ : ৪০৮৯)। হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, ‘হযরত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ পাকের আনুগত্য করার মানত করে, সে যেন অবশ্যই তার আনুগত্য করে। আর যে তার অবাধ্যতার কোনো বিষয়ে মানত করে, সে যেন কারো নাফরমানি না করে।’ (বোখারী : ২/৯৯১)। আল্লাহকে খুশি করার উদ্দেশ্যে যে কোনো সৎকর্ম সম্পাদন করা উত্তম কাজ। যেমনÑ অবসর বসে না থেকে তাসবীহ তাহলীল পাঠ করা ও সমাজসেবা করা। মানতও একটি সৎকর্ম। প্রত্যেক সৎকর্মই একটি নফল ইবাদত। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী মানতের নিয়ত করতে হবে। অসম্ভব ও কাল্পনিক বিষয়ে মানত করা যাবে না। যে বস্তু দ্বারা মানত আদায় করা হবে। তা ক্রয় করা বা উৎসর্গ করার মতো সামর্থ্য মানতকারীর অবশ্যই থাকতে হবে। তবে কোনো ব্যক্তি বিশেষকে খুশি করার উদ্দেশ্যে কোনো মানত করা কিংবা মানত আদায় করা যাবে না। মানত আদায়ের প্রতিদান শুধু আল্লাহ তা‘য়ালাই দিতে পারেন।
উত্তর দিচ্ছেন : ফিরোজ আহমাদ

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।