Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

রাজনীতির গতিধারা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে

| প্রকাশের সময় : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

হারুন-আর-রশিদ
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে নতুন সিইসি নুরুল হুদা বলেছেন- ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা ছিল। আমি ছিলাম ফজলুল হক হলের ছাত্রলীগ থেকে নির্বাচিত নাট্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক। ১৯৭২ সালে পিএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হই।’ আমরা সবাই জানি স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে সবাইকে অটোপ্রমোশনের একটি সুযোগ দেয়া হয়েছিল। তার মধ্যে সিইসির নামও ছিল। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ১৯৭৩ সালে তার চাকরি জীবন শুরু হয়। তার সব শেষ বক্তব্য ছিল, আমি এখন অতীত ভুলে যেতে চাই। আজ থেকে আমি নতুন মানুষ। বর্তমান দায়িত্ব নিয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে চাই। তারপরও কথা থেকে যায়, যা নতুন সিইসি নুরুল হুদা স্বীকার করেছেন। ‘২০০১ সালে বিএনপি সরকার বিনা কারণে আমাকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছিল। তখন মাত্র ২৫ বছর চাকরি পূর্ণ হয়। সে সময় বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়ার কথা নয়।’ বিএনপি সূত্র বলেছে- জনতার মঞ্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে তার বিরুদ্ধে ওই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। নতুন সিইসি তা অস্বীকার করলেও সাবেক সচিব মোফাজ্জল করিম দাবি করেছেনÑ জনতার মঞ্চের সংশ্লিষ্টতার কারণেই বিএনপি সরকার ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছিল। নুরুল হুদা কিন্তু এর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। আইনি যুদ্ধে অবতীর্ণ হন এবং সেই আইনি যুদ্ধে তিনি বিজয়ী হনÑ এ কথাও তিনি সাক্ষাৎকারে বলেছেন। তিনি এও বলেছেনÑ জনতার মঞ্চ যখন ঢাকায় চলছিল, তখন কুমিল্লার ডিসি ছিলাম আমি। তখন কুমিল্লায় ডিসি অফিস থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবি নামানোর ঘটনা ঘটেছিল। কথাটি ঠিক। কিন্তু কাজটি কে বা কারা করেছে তা আমি জানি না। নুরুল হুদা বলেছেনÑ ২০০৮ ও ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আদালতের রায়ের কারণে আমি চাকরি ফিরে পেয়েছি।
আদালতের রায় ছিলÑ ভূতাপেক্ষভাবে সব সুযোগ-সুবিধা, পদমর্যাদাসহ আমাকে চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে। বিএনপির শাসনামলে ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি নিয়মিত চাকরিতে ফেরেননি। এ কথাও সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন। আওয়ামী লীগ ২০০৮-২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর তিনি চাকরিতে যোগদান করেন। উল্লেখ্য, তিনি স্বাধীনতার ২৮ দিন আগে ১৮ নভেম্বর ’৭১ পটুয়াখালীর গলাচিপার পানপট্টিতে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হয় ১৬ ডিসেম্বর অর্থাৎ শত্রুমুক্ত হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তবে ওই জাতীয় দৈনিকে নুরুল হুদার সাক্ষাৎকারের আলোকে এ কথা স্পষ্ট হয়ে যায়Ñ তিনি বিতর্কের ঊর্ধ্বে নন। প্রথম  কারণ- তার ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের সাথে সংশ্লিষ্টতা। দ্বিতীয় কারণ- জনতার মঞ্চ (১৯৯৫-১৯৯৬) যখন প্রেস ক্লাব সম্মুখস্থ সড়কে স্থাপন করে ম খা আলমগীরের নেতৃত্বে চাকরিরত অবস্থায় সরকারি আমলা বিদ্রোহ সময়কালীন নুরুল হুদার কুমিল্লার ডিসি অফিস থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর ছবি নামিয়ে ফেলা হয়। এটাও নুরুল হুদা স্বীকার করেছেন। তৃতীয় কারণ তার চাকরিচ্যুত কারণটাও ঘটে বিএনপির দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর (২০০১-২০০৬)। চতুর্থ কারণ নুরুল হুদা পুনরায় চাকরি ফিরে পান (২০০৮-২০০৯) আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর। এরপর থেকে নানা পদে তিনি চাকরি করেছেন। তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
এসব কারণেই বলা যায়, তিনি কখনই আওয়ামী মতাদর্শের বাইরের ব্যক্তি ছিলেন না। উপরন্তু বিএনপির প্রতি তার রাগ-বিরাগ এসব ছিল- সেটাও তার সাক্ষাৎকারে প্রমাণ মেলে। শেষে গিয়ে তিনি বলেছেনÑ আমি অতীতকে ভুলে যেতে চাই। আজ আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। সেই দায়িত্বটি নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে পালন করতে চাই। এখানে আমাদের প্রশ্ন, একজন অভিজ্ঞ মানুষ এবং তাকে হতে হবে সম্পূর্ণ রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি। কিন্তু দেখা গেছে, তিনি ছাত্রলীগের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। সকল সুযোগ-সুবিধা আওয়ামী লীগ সরকারের দুই টার্মে ক্ষমতায় আসার পর পেয়েছিলেন। অপরদিকে তিনি বিএনপির আমলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন।
এখন আমাদের প্রশ্ন থাকবে, ভবিষ্যতে নতুন সিইসি- নুরুল হুদা যে রকীব কমিশনের মতো ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতিয়ে আওয়ামী লীগকে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার সুযোগটি করে দেবেন না, তার কোনো নিশ্চয়তা কি কেউ দিতে পারবেন? আমরা চাই বহুদলীয় অংশগ্রহণযুক্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের একটি নির্বাচন, যেটি হবে সন্ত্রাসমুক্ত, খুনমুক্ত একটি নির্বাচন, যে নির্বাচনকে দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করবে। দেশি এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকমহল বলবে- সুন্দর একটি নির্বাচন উপহার দিতে পেরেছে নুরুল হুদা কমিশন। সে জন্য অবশ্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। আল্লাহ না করুন যদি রকীব মার্কা নির্বাচন দিয়ে শতাধিক মানুষ খুন করে বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার কোনো মহড়া হয় তাহলে এর দায়ভার-রাষ্ট্রপতির স্কন্দেই এসে শেষ অবধি পড়বে। যেটা আমরা দেখেছি মরহুম প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের বাছাই কমিটির-নিয়োগপ্রাপ্ত রকীবউদ্দিন কমিশনের ক্ষেত্রে। কেননা শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের মাধ্যমেই গঠিত হয়েছে এ কমিশন। জাতীয় নির্বাচনে একটি কালো অধ্যায়- বিগত ৪৬ বছরের ইতিহাসে বিদায়ী কমিশন জাতিকে উপহার দিয়ে গেছে। এ ছাড়াও নির্বাচনী সহিংসতায় কয়েক শতাধিক মানুষের লাশও তারা উপহার দিয়েছিলেন। স্বজনহারা মানুষের বুকফাটা ক্রন্দন এখনো বাংলার আকাশে-বাতাসে মিশে আছে। মজলুমের ফরিয়াদ এক সময় যখন আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যাবে তখনই বোঝা যাবে কত ধানে কত চাল হয়। পৃথিবীর ইতিহাসে এ ধরনের নজির বিরল নয়। এর বহুমাত্রিক নজির আমরা নিকট অতীতেও দেখেছি।
এখন ২০ দলীয় জোটের হাতে একটি মাত্র কাজ বাকিÑ নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার। অনেকেই বলছেন, এ ক্ষেত্রেও ২০ দলীয় জোট অকৃতকার্য হবে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে বিএনপি কখনই কুলিয়ে উঠতে পারেনি। পারেনি ১৯৯৬ সালে। পারেনি ২০০৬ সালে, পারেনি ২০০৮-২০০৯ সালে। পারেনি ৫ জানুয়ারি ২০১৪ সালে। হেরে গেল ২০১৭ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে সিইসি নিয়োগ প্রদানকালেও। তাই অনেকেই বিএনপির নাম দিয়েছে হারা পার্টি। ওবায়দুল কাদেরের দৃষ্টিতে নালিশ পার্টি। জনতার দৃষ্টিতে অসংগঠিত এবং অগোছানো দলের নাম বিএনপি। কেউ কেউ বিএনপিকে বলেন ভীরু পার্টি। অর্থাৎ আন্দোলনকে ভয় পায়। সে জন্যই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মাঝেমধ্যে বলেনÑ কী হলো, আপনাদের মাঠে নামতে ভয় কেন। আমরাও তো বিরোধী দলে ছিলাম। তখন কি আপনাদের পুলিশ বাহিনীকে আমরা ভয় পেয়েছিলাম? তাদের অনুমতির অপেক্ষা করেছিলাম? জনতার মঞ্চ কি পুলিশের সামনেই আমরা বানাইনি? হ্যাঁ, জনগণ আমাদের পক্ষে ছিল। সে জন্যই এসব কাজ করা সম্ভব হয়েছিল। আপনারা জনবিচ্ছিন্ন দল। এসব কথা এখন আওয়ামী লীগের হাইপ্রোফাইলের নথিযুক্ত নেতারা বলছেন। আর বিএনপির এগুলো শুনে ঘরোয়া বা হল ভাড়া করে আলোচনা সভার আয়োজন করা ছাড়া গত্যন্তর নেই বলে প্রতীয়মান হয়। খেলার মাঠে নামলে যেমন যুদ্ধ করতে হয় কৌশলী হয়ে। ডিফেনসিভ, অফেনসিভ সব ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। একই কথা রাজনীতির ক্ষেত্রেও চলমান। যেটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রমাণ করে দিয়েছেন। ডিজিটাল কারচুপি করে ইলেক্টোরাল নির্বাচনে ট্রাম্প হিলারিকে পরাজিত করেছেন। গোটা বিশ্বকে হতবাক করে দিয়েছেন।
যাহোক, শেষপর্যন্ত সিইসি নিয়োগে আওয়ামী লীগের পছন্দেরই প্রতিফলন ঘটেছে। অনেকের মুখ থেকে শুনেছি বিচারপতি কে এম হাসানকে আওয়ামী লীগ প্রতিহত করতে পেরেছে কোনো এক সময় বিএনপির একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের অজুহাতের কারণে। অথচ বিএনপি বিরোধী দলে অবস্থান করে আওয়ামী লীগ (২০০৬-২০০৭) যে কাজটি প্রতিহত করার যোগ্যতা দেখাতে পেরেছিল বর্তমানে তারা সেটা পারেনি। বিচারপতি হাসানকে বিতর্কের জালে আটকিয়ে ফেলা সম্ভব হলো। কিন্তু গোড়া আওয়ামী সমর্থক যা স্ব-জবানবন্দিতেও প্রমাণিত, তাকে রুখে দিতে ব্যর্থ হলো আজকের দুই টার্ম মাঠে থাকা বিরোধী দল বিএনপি। বিএনপির অক্ষমতার এই দায়ভার মেনে নেওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। রাজনীতিতে অচতুর দল হিসেবে ইতোমধ্যেই ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে দলটি। অনেকেই বলেন এবং আমি নিজেও মনে করি-২০১৯ সালে ক্ষমতায় পুনরায় আওয়ামী লীগই আসবে। ৫০ বছর পূর্তি ২০২১ সাল এটা তারা জাঁকজমকভাবে করবেÑ এই প্রতিশ্রুতির কথা ২০০৮-২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারা বলছে। সেই ছক ধরেই তারা এগোচ্ছে এবং সফলও হচ্ছে নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও। অগণিত ইস্যু আওয়ামী লীগ বিএনপির হাতে তুলে দিয়েছিল আন্দোলন সফল করার জন্য কিন্তু একটি ইস্যুই কাজে লাগাতে পারেনি। জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও জনগণকে কাজে লাগাতে পারেনি- রাজনীতির কলাকৌশল না জানার কারণে।
ভারতের সাবেক প্রেসিডেন্ট এ পি জে আবদুল কালাম বলেছিলেন এবং এটা তার বিখ্যাত উক্তিÑ ‘তুমি সমস্যার অধিনায়ক হও। সমস্যাকে পরাজিত কর এবং সফল হও।’ বিএনপির উচিত এই বাক্য থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। সবাই বলছে এবং পত্র-পত্রিকায় এবং বিদেশি মিডিয়া বলছে, বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের গণতন্ত্রের অপর নাম হলো দলীয় শাসন ব্যবস্থা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার নাম বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্রের মূলমন্ত্র পরমতসহিষ্ণুতা। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে কি সকল দল অংশগ্রহণ করেছে? রাজনৈতিক দলের মধ্যে কি পরমতসহিষ্ণুতা আছে? আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিক সমান বলা হয়েছে সংবিধানের ২৭ নং অনুচ্ছেদে। ৩৯ নং অনুচ্ছেদে বলা আছে, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কথা। সংবিধানে এ কথাও বলা আছে সংসদ কার্যকর করার দায়িত্ব সরকারি দল ও দেশের বৃহত্তম বিরোধী দলের। নৈতিকতা, মূল্যবোধ এবং সুশাসন এসব কি দেশে আছেÑ সব কিছুই আজ প্রশ্নের সম্মুখীন। জবাবদিহিতার মতো শাসন পদ্ধতিও দেশে নেই। জবাবদিহিতার সংসদও দেশে বিগত ৪৬ বছরে গড়ে ওঠেনি। তারপরও এদেশের রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে বলে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ, সুশাসনের দেশ। নিজের কাছেই লজ্জা হয় যখন শুনি এসব মিথ্যা বচন। যুক্তরাজ্যের ইকোনমিস্ট গ্রুপের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্ট এর নবম বৈশ্বিক গণতন্ত্র সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪। দেশে চলছে হাইব্রিড গণতন্ত্র তথা ‘সংকর ধারার’ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বাংলাদেশ আজ। এসব নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।
য় লেখক : গ্রন্থকার, গবেষক ও কলামিস্ট
 
harunrashidar@gmail.com



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ