Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭, ০৬ কার্তিক ১৪২৪, ৩০ মুহাররম ১৪৩৯ হিজরী

নির্বাচনকালীন সরকার ভাবনা

| প্রকাশের সময় : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

মুহাম্মদ রেজাউর রহমান : নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শুরু হয়েছে প্রায় আরও দুই বছর পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে আলোচনা। সাধারণ নির্বাচনের সময়ে দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকবে না সর্বদলীয় কোনো নিরপেক্ষ সরকার অস্থায়ীভাবে কয়েক মাসের জন্য গঠিত হবেÑ এ নিয়ে চলছে বিতর্ক। বিএনপি এখন দাবি করছে নির্বাচনের সময়ে একটি সহায়ক সরকার গঠনের। সরকারদলীয় নেতৃবৃন্দ বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হতে হবে।
জাতীয় সংসদে ২০১১ সালের ৩০ জুন গৃহীত হয় সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী। এ সংশোধনীতে নির্বচানের সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের যে ব্যবস্থা ছিল, তা বিলোপ করে রাজনৈতিক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা রাখা হয়। সে অনুযায়ী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকালীন বহাল ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক সরকার। তবে ওই সরকারকে একটি সর্বদলীয় সরকারের রূপ দেয়া হয়েছিল জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য আরও দু-একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে। আওয়ামী লীগ সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করলেও ১৯৯৫-৯৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে এক বিরতিহীন হরতাল ও দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ে দল-নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করে নিয়েছিল।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে বিএনপি। অতি-সম্প্রতি তারা নির্বাচনকালীন একটি সহায়ক সরকার গঠনের কথা বলা শুরু করেছে। অবাক হওয়ার কথা এই যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করার অধিকার যে কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের ছিল না বা নেইÑ তা বলা শুরু করেছেন নাগরিক সমাজের কেউ কেউ। অর্থনীতিবিদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান গত ১১ ফেব্রুয়ারি ডিভেট ফর ডেমোক্রেসির এক অনুষ্ঠানে এ সম্পর্কে বলেছেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে কি হবে না, তা কোনো রাজনৈতিক দল সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এ সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণ এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গণভোট গণতন্ত্রের পক্ষে শক্তিশালী হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এ দেশে গণভোট শক্তিশালী করার জন্য দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। যে দেশে রাজনৈতিক দলগুলো বিবাদে লিপ্ত থাকে, একে অপরকে অভদ্র ভাষায় গালিগালাজ করে এবং কথায় কথায় শোধ নেয়ার চেষ্টা করে, সে দেশে গণতন্ত্র শক্তিশালী হওয়া সম্ভব নয়।” জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে গৃহীত নয়, বরং জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত গোটা জাতি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গণভোটের মাধ্যমে গৃহীত হওয়া উচিত বলে এই প্রথম বুদ্ধিজীবী সমাজের একজন মন্তব্য করলেন। ড. আকবর আলি খান দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্বন্ধেও সঠিক মন্তব্য করেছেন। কিন্তু অনুসৃত রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটানোর দায়ভার যাদের, তাদের মধ্যে বিদ্যমান বিবাদ, বেমানান ভাষায়Ñ একে অপরকে গালিগালাজ করার আত্মস্থ প্রথা এবং প্রতিশোধের স্পৃহা চরিতার্থ করার প্রবণতা খুব শীঘ্র দূর হওয়ার কোনো আশা যে নেই তা সকলেই স্বীকার করবেন।
দেশের বৃহত্তম দুটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এতটা বিপরীতমুখী অবস্থানে রয়েছে যে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থেও তারা পরস্পরের সাথে সংলাপে বসতে অনিচ্ছুক। অবস্থা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সরকারি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বিএনপির সাথে সংলাপে বসাকেই নিজেদের প্রাথমিক পরাজয় হিসেবে গণ্য করছেন। এর একমাত্র কারণ হচ্ছে এই যে, সুশীল সমাজ ও গণমাধ্যম এবং কূটনীতিকবৃন্দ বিভিন্ন সময়ে অন্তত কয়েকটি জাতীয় বিষয়ে রাজনৈতিক দলসমূহের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন কিন্তু কোনো সময় না নিয়ে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য দলের নেতৃবৃন্দ এবং কয়েকজন মন্ত্রী সংলাপের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তাই সারা দুনিয়ায় প্রচলিত প্রবাদসম বাক্য ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই’ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আর প্রযোজ্য নয়।
গত কয়েক বছরে সরকারবিরোধী দল বিশেষ করে বিএনপি ও এর নেত্রীকে জঙ্গিবাদের প্রশ্রয়দাত্রী, পেট্রোলবোমায় নিহত শতাধিক নিরীহ নাগরিকের খুনি এবং সর্বশেষে এতিমদের টাকা আত্মসাৎকারী চোর বলে অভিহিত করা হয়েছে। বিএনপি ও এর নেত্রী সম্পর্কে এসব বিশেষণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ গত কয়েক বছর ধরেই বিএনপির সাথে সংলাপে বসার সকল প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। আর অন্যান্য বিরোধী দলের সাথেও ক্ষমতাসীন দলের কোনো আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কোনো প্রয়োজনই অনুভব করা হয়নি। সাধারণ নির্বাচনকালীন কোন ধরনের সরকার থাকবে এটা আওয়ামী লীগের গত মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক বাতিল করার পর পঞ্চদশ সংশোধনীর খসড়া তৈরি করার জন্য ১৫ সংসদ সদস্যবিশিষ্ট যে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়, সে কমিটি ২৭টি বৈঠক করা ছাড়াও পাঁচজন সাবেক প্রধান বিচারপতি, সংবিধান প্রণয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট গণপরিষদ সদস্যসহ ১৮ জন শীর্ষ স্থানীয় আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ, ২৬ জন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ২৬টি জাতীয় সংবাদপত্রের সম্পাদক, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলসমূহের নেতৃবৃন্দ ও সেক্টর কমান্ডারস্ ফোরাম নেতৃবৃন্দের মতামত নিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও বৈঠক করেন তারা। উল্লেখ্য, মতামত দেয়ার জন্য বিশেষ কমিটি কর্তৃক আমন্ত্রিত হলেও বিএনপি এতে কোনো সাড়া দেয়নি। ২০১১ সালে বিএনপি এখনকার মতো দুর্বল কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না। কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীতে সুপ্রিম কোর্টের সুপারিশ অনুযায়ী অন্তত আরো দুটি সাধারণ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দ্বারা অনুষ্ঠিত হওয়ার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হোকÑ এই দাবি আদায়ের জন্যও তারা কোনো কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি। জাতীয় সংসদেও তাদের নির্বাচিত সদস্যগণ সংসদ বর্জন কর্মসূচির জন্য অনুপস্থিত ছিলেন। পঞ্চদশ সংশোধনী তাই একতরফাভাবেই সংসদে গৃহীত হয় এবং সে অনুযায়ী দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচন ৫ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে অনুষ্ঠিত হওয়ার সময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারেরও প্রধান ছিলেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সর্বশেষ পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, সংবিধান বিশেষ করে পঞ্চদশ সংশোধনীর আলোকেই নির্বাচনকালীন একটি সহায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব দেবে বিএনপি। শেখ হাসিনাকে সহায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে রেখেই নির্বাচনে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছে দলটি। তবে তাদের দ্বারা তৈরি করা সহায়ক সরকারের প্রস্তাবে থাকবে কয়েকটি শর্ত। এগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর স্বাভাবিক সাংবিধানিক ক্ষমতা হ্রাস, প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র, সংস্থাপন ও তথ্য মন্ত্রণালয়সমূহ থাকবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে, নির্বাচনকালীন তিন মাসে মন্ত্রীদের শুধু রুটিন ওয়ার্ক পালন ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে টেকনোক্র্যাটদের রাখা। আবার দশম জাতীয় সংসদ প্রেসিডেন্টের আদেশে ভেঙে দিয়ে একটি সর্বদলীয় সরকার গঠনের প্রস্তাবও থাকতে পারে বিএনপির রূপরেখায়। রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচনকালীন সরকার সম্পর্কে প্রস্তাব দেয়ার অধিকার বিএনপির থাকলেও তা আনুষ্ঠানিকভাবে সাধারণত সংবাদ সম্মেলন মারফত ঘোষণা করার আগেই এ সম্পর্কে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। ১৯ ফেব্রুয়ারি মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, “সহায়ক সরকারের প্রস্তাব কার্যত নির্বাচন ভ-ুল করা এবং একটি অস্বাভাবিক সরকার গঠনের চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়।”
বাস্তবে আওয়ামী লীগের শাসনের উপকারভোগী কিছু রাজনৈতিক দল ও নেতা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একাদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার স্বাদ উপভোগ করতে চান। বিএনপি যদিও বর্তমানে অনেকটাই সাংগঠনিকভাবে দুর্বল, তবুও সাধারণ জনগণের মধ্যে গত আট বছরের আওয়ামী লীগ শাসনামলে দলীয় নেতৃবৃন্দ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মীবৃন্দ যে বাধাহীন লুটতরাজ, দখলবাজি, চাঁদা আদায়, কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) ও এরকম আরো অনেক উপায়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেনÑ এসবের প্রতিক্রিয়ায় সমর্থন বহুগুণে হ্রাস পেয়েছে। পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন করে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিজ দলীয় নেতা ও কর্মীদেরকে বারবার সতর্ক করে দিচ্ছেন। বিএনপি সম্পর্কেও তিনি মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপির জনসমর্থনকে ছোট করে দেখলে চলবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের সকল পরামর্শ, নির্দেশ উপদেশ উপেক্ষা করে ব্যবসা-বাণিজ্য দখল, ভাগ-বাটোয়ারার দ্বন্দ্বে নিজেদের মধ্যে সহিংস হানাহানি ও রক্তাক্ত খুন-খারাবির মধ্যে জড়িয়ে পড়ছে আওয়ামী লীগসহ ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এর প্রতিক্রিয়ায় সচেতন জনগণের মধ্যে সমর্থন কমছে আওয়ামী লীগের।
বিএনপির শুভাকাক্সক্ষী বুদ্ধিজীবীদের অনেকেই নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা সম্বন্ধে আলোচনার জন্য সরকার প্রধান শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রবীণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ গত ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকের সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, এ দেশে সবার অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উচিত সকল দলের সাথে বসা। এতে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে। গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের স্বার্থেই এটা জরুরি। প্রতিটি বিবেকবান মানুষই দুই নেত্রীর মধ্যে বাক্যবিনিময়, পারস্পরিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থাসহ দেশের অন্যান্য জাতীয় সমস্যা নিয়ে সংলাপকে স্বাগত জানাবেন। কিন্তু এটা হচ্ছে এমন এক আকাক্সক্ষা যা কোনো দিনই পূরণ হওয়ার নয়। বিএনপির সাথে কোনো যোগাযোগ বা সর্বোচ্চ পর্যায়ে সংলাপ এড়িয়ে চলার ব্যাপারে আওয়ামী লীগের মনোভাবেরও কারণ রয়েছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সাধারণ নির্বাচনের আগে বিএনপির ডাকা তিন দিনের হরতালের প্রথম সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিফোন করে খালেদা জিয়াকে আমন্ত্রণ জানিয়ে ছিলেন আলোচনায় বসার জন্য। সে টেলিফোন কল রিসিভ করার পূর্ণ সুযোগ গ্রহণ করার চূড়ান্ত ব্যর্থতা খালেদা জিয়ারই। আরাফাত রহমানের ইন্তেকালের খবর শুনে খালেদা জিয়াকে সান্ত¦না দেয়ার জন্য ছুটে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীকে খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করতে দেয়া তো হয়ইনি বরং প্রধান ফটকের বাইরে কয়েক মিনিট দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও সুযোগ বুঝে এগুলোকে অযুহাত হিসেবে ব্যবহার করছেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব ডা. অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে প্রেসিডেন্ট পদে বসিয়েছিল বিএনপি। তুচ্ছ দলীয় কারণে তাকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। এখন বিকল্প ধারার প্রধান হিসেবে ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিভিন্ন জাতীয় বিষয়ের ওপর যে ধরনের বক্তব্য রাখছেন, তার প্রায় সবই বিএনপির পক্ষে যায়। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, “নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারবে না। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে নির্বাচনকালীন সরকারকেও নিরপেক্ষ হতে হবে। দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আলোচনার প্রস্তাব দেয়া।”
সাধারণ নির্বাচনকালীন সময়ে কী ধরনের সরকার থাকবেÑ সে সম্পর্কে বিএনপি খুব শীঘ্র তাদের রূপরেখা তুলে ধরবে। তবে সংবিধানের বাইরে গিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যে কিছু করবে নাÑ তা জোর দিয়েই বলা যায়। নির্বাচন ব্যবস্থার বিদ্যমান সংকট সম্পর্কে বলতে গিয়ে সম্প্রতি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন একটি জাতীয় দৈনিকে লিখেছেন, “সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের জন্য আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থায় মহাসংকট সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনী সংকট মুক্ত না হলে গণতন্ত্র সংকটমুক্ত হবে না। সংসদীয় ব্যবস্থায় কোনো দেশেই নির্বাচিত সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে না। কারণ অতি সহজ। সংসদ না ভেঙে সংসদের নির্বাচন হয় না। আর সংসদ না থাকলে সরকারও নির্বাচিত থাকে না। তবুও আমাদের দেশে সেটাই সম্ভব করতে পেরেছে বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তের কারণে। আমরা স্বাধীনতার যোগ্য নই- এ কলঙ্ক আমাদের কাছে গ্রহণীয় হতে পারে না।”
লেখক : গবেষক ও প্রাবন্ধিক

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।