Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১ আশ্বিন ১৪২৪, ০৫ মুহাররম ১৪৩৮ হিজরী

যুক্তিতর্কে প্রাণবন্ত ক্যাম্পাস

| প্রকাশের সময় : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭, ১২:০০ এএম

বিতর্ক হচ্ছে যুক্তির খেলা। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই স্কুল-কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে বিতর্ক প্রতিযোগিতা। আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বিতর্ক মানে শুধু তর্কের খাতিরে তর্ক নয় বরং অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা কিংবা সমালোচনা। প্রতিপক্ষকে যুক্তি দিয়ে ঘায়েল করার অন্যতম কৌশল এই বিতর্ক। এর মাধ্যমে বিতর্কে অংশগ্রহণকারী ও শ্রোতা, উভয়েরই জ্ঞানের ভা-ার সমৃদ্ধ হয়। সেই সাথে বিতর্ক একজন শিক্ষার্থীকে নেতৃত্বদানের যোগ্যতা তৈরি করতে সাহায্য করে। বিতর্ক করলে যেমন মনোযোগী শ্রোতা হওয়া যায়, তেমনি সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
বর্তমান সময়ে বিতর্কের সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেল সংসদীয় বিতর্ক। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব কমন্সের অনুসরণে এ বিতর্ক করা হয়। সংসদীয় বিতর্ক অল্প সময়েই প্রবল জনপ্রিয় হয়ে উঠার মূল কারণ হল এ ধারার বিতর্কের পয়েন্টসমূহ। সংসদীয় ধারার বিতর্কে তিন ধরনের পয়েন্ট উত্থাপিত হয়- পয়েন্ট অব অর্ডার, পয়েন্ট অব প্রিভিলেজ এবং পয়েন্ট অব ইনফরমেশন
এই জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সংঘ (বাউডিএস) আয়োজন করে আন্তঃঅনুষদীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ১৪ বছর পর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকবি) আয়োজিত হল আন্তঃঅনুষদীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে প্রধান অতিথি থেকে ওই বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ ও মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ, ভেটেরিনারি অনুষদ ও পশুপালন অনুষদ এবং কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদ ও কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদের মধ্যে বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে কৃষি অনুষদ ও কৃষি প্রকৌশল ও কারিগরি অনুষদ এবং পশুপালন অনুষদ ও ভেটেরিনারি অনুষদের মধ্যে সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। অবশেষে ফাইনালে মুখোমুখি হয় কৃষি অনুষদ ও পশুপালন অনুষদ। ফাইনালের বিতর্কের বিষয় ছিল- এই সংসদ মনে করে যে “সিন্ডিকেটই দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির মূল কারণ।”
এই বিষয়ের ওপর সরকারি দল হিসেবে ছিল পশুপালন অনুষদ এবং বিরোধী দল হিসেবে লড়াই করে কৃষি অনুষদ। পশুপালন অনুষদের পক্ষে বিতর্ক করেন মো. আহাদ জাহিন (প্রধানমন্ত্রী), মো. আতিকুর রহমান (মন্ত্রী), মো. ফারুক হোসেন (সাংসদ)। টিম মেম্বার হিসেবে পেছনের বেঞ্চে ছিল মো. নিহাল হোসেন ও মো. ফরহাদ রিদয়। অপরদিকে বিরোধী দলের পক্ষে বিতর্ক করেন আবু সায়েম দোসর (বিরোধীদলীয় নেতা), রৌমিকা জাহান প্রমি (বিরোধীদলীয় উপনেতা) এবং রাগীব হাসান বর্ষণ (বিরোধীদলীয় সাংসদ)। টিম মেম্বার হিসেবে পেছনের বেঞ্চে ছিল মিলাদুন রিমা ও সৈয়দ কান্তা।
পশুুপালন অনুষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ড. রায়হান হাবিব ও ড. মো. আশিকুল ইসলাম এবং কৃষি অনুষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ড. মো. আব্দুল্লাহ আল বারী।
২০ ফেব্রুয়ারি ফাইনালে মুখোমুখি দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে যুক্তির বাণে বিদ্ধ করছে। আর গ্যালারিজুড়ে দর্শকদের ঘন ঘন করতালি বাড়িয়ে দিচ্ছে উত্তেজনা। বিতর্ক শেষে আসলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। টান টান উত্তেজনার মধ্যে স্পিকার ঘোষণা করলেন বিজয়ীদের নাম। চ্যাম্পিয়ন হলো পশুপালন অনুষদ ও রানার্স আপ হলো কৃষি অনুষদ। ফাইনালের শ্রেষ্ঠ বক্তা হন বিরোধী দলের আবু সায়েম দোসর এবং টুর্নামেন্টের শ্রেষ্ঠ বক্তা হন রাগীব হাসান বর্ষণ।
ফলাফল শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপের মধ্যে ট্রফি ও সনদপত্র বিতরণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিবেটিং সংঘের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খান, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সচ্চিদানন্দ দাস চৌধুরী এবং ডিবেটিং সংঘের সাধারণ সম্পাদক মো. মোর্শেদুল ইসলাম।
ফাইনালের শ্রেষ্ঠ বক্তা হিসেবে আবু সায়েম দোসর তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে ভালো লাগত। তবে পরবর্তী প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতি নেয়াই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। এই সময়টায় আমরা নিজেদের ভুলগুলো সংশোধন করার চেষ্টা করব।
মো. নাবিল তাহমিদ রুশদ

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।