Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫, ৭ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

বাংলাদেশের এশিয়া কাপ

প্রকাশের সময় : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

ইমামুল হাবীব বাপ্পি : ক্রিকেট এমন একটা খেলা যেখানে সংস্করণ যত ছোট হতে থাকে, ছোট-বড় দলের ব্যবধানও তত কমতে থাকে। টেস্টের তুলনায় ওয়ানডেতে অঘটন ঘটার সুযোগ বেশি থাকে। আবার ওয়ানডের চাইতে বেশি টি-টোয়েন্টিতে। টি-২০ ক্রিকেটে অবশ্য অঘটন শব্দটা ব্যবহার না করাই ভাল। এখানে ছোট-বড় দলের ব্যবধান এতই কম যে অঘটন গুলোও এখানে প্রচলিত ঘটনারই অংশ। এশিয়ার ক্রিকেট এখন ভাসছে সেই টি-টোয়েন্টির স্রোতে। এশিয়া কাপ শুরু হওয়ার আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি হোম সিরিজের মাধ্যমে একটু আগেই সেই ¯্রতে গা ভাসায় বাংলাদেশ। এশিয়া কাপ শেষ না হতেই ভারতে বসছে ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট সংস্করনের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক আসর। তবে এশিয়া কাপের এই আয়োজন বেশ পুরোনো হলেও এক দিয়ে কিন্তু এটি নতুন। এই প্রথম এশিয়া কাপ হচ্ছে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম ভার্শনে। সেই সুবাদে প্রথম এশিয়া কাপের আয়োজক হওয়ার গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ।
টানা তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে শুরু হয়েছে এশিয়া কাপ। তবে এবারই প্রথম এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দিয়ে। ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বাংলাদেশের দুর্বলতা পুরোনো। র‌্যাঙ্কিংটাও মাশরাফিদের জন্য একরাশ হতাশার প্রতীক। সর্বশেষ র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান আফগানিস্তানেরও নিচে। কোচ হাতুরোসিংহে ও অধিনায়ক মাশরাফিও বিভিন্ন সময়ে স্বীকার করেছেন ক্রিকেটের এই সংস্করণে নিজেদের দুর্বলতার কথা। টি-টোয়েন্টিতে ব্যর্থতার পেছনে এতদিন সবচেয়ে বড় যুক্তি ছিল পর্যাপ্ত ম্যাচ না খেলতে পারা। তবে এখন এই যুক্তি দেখানোর সুযোগ কম। গত চার মাসে আন্তর্জাতিক ও বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগ মিলিয়ে খেলোয়াড়েরা খেলেছেন অনেক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। নভেম্বরে বিপিএলের পর জানুয়ারিতে খুলনায় ছিল জিম্বাবুয়ে সিরিজ। সাকিব-মুশফিক খেলে এসেছেন পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি লিগ পিএসএলে।
এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সুখ স্মৃতি খুঁজতে গেলে চলে আসে ২০১২ সালের ফাইনাল। সেদিন বাগে পেয়েও পাকিস্তানকে হারাতে না পারার বেদনা আজও কাঁদায় দেশের ক্রিকেটপ্রেমিদের। মাত্র ২ রান দূরত্ব থেকে ফসকে যায় এশিয়া কাপের ট্রফি। পাকিন্তানের ২৩৬ রানের জবাবে সেদিন ২৩৪ রানেই থেমে গিয়েছিল বাংলাদেশের ইনিংস। সেদিন কেঁদেছিলেন সাকিব মুশফিক তামিমরা। কেঁদেছিল পুরো বাংলাদেশ। একমাত্র প্রাপ্তি ছিল সাকিবের সিরিজ সেরার পুরষ্কার।
এবারের আসর সম্ভবত মিস করবে দু’জন খেলোয়াড়কে। আসরে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে বেশি রান করা তামিম ইকবাল ও সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া আব্দুর রাজ্জাকে। এবারের এশিয়া কাপে দুজনই দর্শক। টানা চার ম্যাচে অর্ধশতক করে ২০১২’র ফাইনালে এক, দুই, তিন, চার- চারটি আঙুল উঁচিয়ে দেখিয়েছিলেন তামিম। বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি ওপেনারের বনানী ডিওএইচএসের বাসায় ঢুকতেই চোখে পড়বে ছবিটা। এটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের একটি প্রতীকে রূপ নেওয়া ছবিও বলা যায়।
২০১২ এশিয়া কাপে ফিফটি করেছিলেন পর পর তিন ম্যাচে। ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষেও ফিফটি করার পর পরপর চারটি আঙুল দেখিয়ে উদযাপন করেছিলেন তামিম। তিনটি এশিয়া কাপে খেলা তামিমের ব্যাট হেসেছে নিয়মিতই। ১২ ম্যাচে ৪৩.০৮ গড়ে তাঁর রান ৫১৭, বাংলাদেশ দলের হয়ে যা সর্বোচ্চ। আশ্চর্য ব্যাপার হল ২০১২ এশিয়া কাপের ওই ফাইনালটাই এশিয়া কাপে এখন পর্যন্ত তামিমের শেষ ম্যাচ! গত এশিয়া কাপে তাঁকে খেলতে দেয়নি ঘাড়ের চোট। এবারের কারনটা অন্য। টুর্নামেন্টের সময় সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকবেন বলে খেলা হচ্ছে না তাঁর। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকের সামনে তো খেলার এখন ভুরি ভুরি সুযোগ। কিন্তু আবদুর রাজ্জাকের জন্য এবারের এশিয়া কাপ এসেছে দীর্ঘশ্বাস হয়েই। এশিয়া কাপে ১৮ ম্যাচে নিয়েছেন ২২ উইকেট, বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি। অনেক দিন ধরেই দলের বাইরে রাজ্জাক। ২০১৪ সালের আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে সর্বশেষ খেলেছেন বাংলাদেশের হয়ে। আবার কবে সুযোগ মিলবে কিংবা আদৌ মিলবে কি না, সেটিও তিনি জানেন না। দুজনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও একটি জায়গা মিলে যাচ্ছেন তামিম-রাজ্জাক। এশিয়া কাপে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ও উইকেটশিকারি এই প্রথম একসঙ্গে দলে নেই!
মাশরাফির জন্য অবশ্য এবারের এশিয়া কাপ অন্য রকম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গনে পা রাখার পর ২০০৪ সালের এশিয়া কাপটাই শুধু খেলতে পারেননি মাশরাফি বিন মুর্তজা। এরপর ২০০৮, ২০১০, ২০১২, ২০১৪- চারটি এশিয়া কাপের প্রতিটিতেই খেলেছেন তিনি। তবে প্রতিটি টুর্নামেন্টে তিনি খেলেছেন দলের একজন সদস্য হিসেবে। এবার এশিয়া কাপটা মাশরাফির জন্য তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু। এই প্রথম তিনি এশিয়া কাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক।
২০১৫ সালে বাংলাদেশ সোনালী সময় পার করলেও সব সাফল্যই এসেছে ওয়ানডে ক্রিকেটে। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ এখনো শিশু বললেও ভুল হবে না। ওয়ানডের মতো টি-টোয়েন্টিতেও শক্তিশালি দল হয়ে ওঠার আত্মবিশ্বাস অবশ্য আছে আমাদের খেলোয়াড়দের। দরের সেই আত্মবিশ্বসের সলতেই আগুন জ্বালিয়ে বাংলাদেশ কি পারবে এবারের আসরকে আরোকিত করতে? যে দলে রয়েছে মাশরাফির মত দলনেতা, সেই দলকে নিয়ে আশা করতেই পারে বাংলাদেশ।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ কার বিপক্ষে কেমন
প্রতিপক্ষ ম্যাচ জয় হার সাফল্য (%)
হংকং ১ ১ ০ ১০০.০০
ভারত ৯ ১ ৮ ১১.১১
পাকিস্তান ১১ ০ ১১ ০.০০
শ্রীলঙ্কা ১১ ১ ১০ ৯.০৯
আমিরাত ১ ১ ০ ১০০.০০ সেরা পাঁচ ব্যাটম্যান
ম্যাচ ইনিংস রান সর্বোচ্চ গড় ১০০/৫০
তামিম ইকবাল ১২ ১২ ৫১৭ ৭০ ৪৩.০৮ ০/৬
আতহার আলী খান ১১ ১১ ৩৬৮ ৮২ ৩৬.৮০ ০/২
আকরাম খান ১৩ ১৩ ৩৪৫ ৬৪ ২৮.৭৫ ০/২
মোহাম্মদ আশরাফুল ১২ ১২ ৩১৬ ১০৯ ২৬.৩৩ ১/১
সাকিব আল হাসান ৭ ৭ ২৮৯ ৬৮ ৪১.২৮ ০/৩ সেরা পাঁচ বোলার
ওভার রান উইকেট সেরা গড়
আবদুর রাজ্জাক ১৪১.২ ৬১২ ২০ ৩/১৭ ৩০.৬০
মাশরাফি বিন মুর্তজা ৯৭.৩ ৫৭২ ১২ ২/৩৭ ৪৭.৬৬
সাকিব আল হাসান ৭০.০ ৩৭০ ১১ ২/৩৯ ৩৩.৬৩
শাহাদাত হোসেন ৬৯.৫ ৪৮০ ১০ ৩/৫৩ ৪৮.০০
মোহাম্মদ রফিক ৬৬.০ ২৯৯ ৮ ২/২১ ৩৭.৩৭

সর্বোচ্চ পাঁচ ইনিংস
ইসিংস ব্যাটসম্যান প্রতিপক্ষ ভেন্যু মৌসুম
১১৫ অলক কাপালি ভারত করাচি ২০০৮
১০৯ মোহাম্মদ আশরাফুল আমিরাত লাহোর ২০০৮
৯৭ জুনায়েদ সিদ্দিক পাকিস্তান ডাম্বুলা ২০১০
৮৫* জাভেদ ওমর শ্রীলঙ্কা ঢাকা ২০০০
৮৩ রকিবুল হাসান আমিরাত লাহোর ২০০৮সেরা পাঁচ বোলিং
সেরা বোলার প্রতিপক্ষ ভেন্যু সাল
৪/৩৬ সাইফুল ইসলাম শ্রীলঙ্কা শারজা ১৯৯৫
৩/১৭ আবদুর রাজ্জাক হংকং কলম্বো ২০০৪
৩/২০ আবদুর রাজ্জাক আমিরাত লাহোর ২০০৮
৩/৩২ নাজমুল হোসেন শ্রীলঙ্কা মিরপুর ২০১২
৩/৫৩ শাহাদাত হোসেন পাকিস্তান মিরপুর ২০১২জেনে রাখুন
* পাকিস্তানই একমাত্র দল, এশিয়া কাপে যাদের হারাতে পারেনি বাংলাদেশ।
* বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ৮ উইকেটে ৩০০। ২০০৮ এশিয়া কাপে লাহোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে।
* এশিয়া কাপে দলীয় সর্বনিম্ন ৮৭ রানের লজ্জা বাংলাদেশের। ২০০০ সালে ঢাকায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৪.২ ওভারেই অলআউট হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে একশ’ রানের নিচে যে চারটি স্কোর আছে, তার তিনটিই বাংলাদেশের।
* রান ব্যবধানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়টি হংকংয়ের বিপক্ষে। ২০০৪ সালে কলম্বোয় বাংলাদেশ ১১৬ রানে হারিয়েছিল টুর্নামেন্টে নবাগতদের।
* সবচেয়ে বেশি ৬টি ফিফটি তামিম ইকবালের। প্রতি দুই ম্যাচে গড় একটি করে ফিফটি পেয়েছেন ১২টি ম্যাচ খেলা বাংলাদেশের এই ওপেনার।
* সবচেয়ে বেশি ৩ বার শূন্য রানে আউট হয়েছেন আমিনুল ইসলাম।
* এক ইনিংসে সবচেয়ে খরুচে বোলিং শফিউল ইসলামের। ২০১০ এশিয়া কাপে ডাম্বুলায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ ওভারে দিয়েছিলেন ৯৫ রান।
* সবচেয়ে বেশি ৭টি ক্যাচ নিয়েছেন সাকিব আল হাসান। এক ইনিংসে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩টি ক্যাচ নেয়ার কৃতিত্বও তার।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ