Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫ ফাল্গুন ১৪২৫, ১১ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।

নিজস্ব অ্যাকাউন্ট নেই ৫৬ শতাংশ গ্রাহকের

প্রকাশের সময় : ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

কর্পোরেট রিপোর্ট : বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে যত অর্থের লেনদেন হয়, তার অর্ধেকের বেশি হয় তৃতীয় পক্ষ বা এজেন্টের মাধ্যমে। হিসাব ছাড়া এজেন্টের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের এ পদ্ধতিকে বলা হয় ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি)। মোবাইল অপারেটরদের বৈশ্বিক সংগঠন গ্রুপ স্পেশাল মোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (জিএসএমএ) ‘স্টেট অব দি মোবাইল ইকোনমি’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। স্পেনের বার্সেলোনায় চলমান ওয়ার্ল্ড মোবাইল কংগ্রেস উপলক্ষে এ গবেষণা প্রতিবেদন গত মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের ৫৬% গ্রাহক নিজস্ব হিসাব খোলার আগেই এজেন্টের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে সক্রিয় মুঠোফোন হিসাবের সংখ্যা ১ কোটি ৩৬ লাখ। আর ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ। অর্থাৎ এক বছরে দেশে সক্রিয় হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ১৭ লাখ। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন হয়েছে ১৬,৭৪৫ কোটি টাকা। জিএসএমএর হিসাব বিবেচনায় নিলে এ অর্থের ৫৬% বা ৯ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয় এজেন্টের মাধ্যমে। প্রতিবেদনে বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখার তুলনায় বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা ১০ গুণ বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সহজলভ্যতার কারণেই প্রথাগত ব্যাংকিংয়ের চেয়ে এই মাধ্যমে অর্থ লেনদেন জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম কারণ। প্রতিবেদনে ২০১৪ সালে বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখার তুলনায় সক্রিয় এজেন্টের সংখ্যা ১০ গুণ বেশি এমন দেশ ছিল ২৫টি, ২০১৫ সালে যা বেড়ে হয়েছে ৩৭টি। তবে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে নিজস্ব হিসাবের মাধ্যমে লেনদেনে যে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো জোর দিচ্ছে, সে বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার উদাহরণ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে এজেন্টের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯%। এর বিপরীতে নতুন হিসাব খোলায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৬%। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নিজস্ব মোবাইল হিসাব খোলায় পাকিস্তানের অগ্রগতির বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে আনা হয়েছে প্রতিবেদনে। সিম নিবন্ধনে আঙুলের ছাপ পদ্ধতির ব্যবহার বৈধ হিসাব খোলায় সহায়ক হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। মুঠোফোনে অর্থ লেনদেনে সারা বিশ্বের হিসাব তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বে মোবাইলভিত্তিক আর্থিক হিসাবের সংখ্যা ৪১ কোটি ১০ লাখ, এর মধ্যে সক্রিয় লেনদেন হয় ১৩ কোটি ৪০ লাখ হিসাবের মাধ্যমে। বিশ্বের ৯৩টি দেশে ২৭১টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এখন এই সেবা দেয়া হচ্ছে। সারা বিশ্বে শুধু ২০১৫ সালে এই ধরনের হিসাব খোলা হয়েছে ১০ কোটির বেশি, যা এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ ধরনের আর্থিক ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সাফল্য সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সেবাবঞ্চিত দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কল্যাণে এখন শতকরা ৮৫% মানুষ আর্থিক লেনদেন করতে পারছেন। একই দেশের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি অন্য দেশে অর্থ পাঠাতেও ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মোবাইল ব্যাংকিং। গত বছরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসী-আয়ের (রেমিট্যান্স) অর্থ লেনদেনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫২%। বর্তমানে ৪১ কোটি ১০ লাখ মোবাইলভিত্তিক হিসাব সারা বিশ্বের মানুষের অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ