Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২৭ মে ২০১৭, ১৩ জ্যৈষ্ঠ , ১৪২৪, ৩০ শাবান ১৪৩৮ হিজরী

জিজ্ঞাসার জবাব

| প্রকাশের সময় : ২ মার্চ, ২০১৭, ১২:০০ এএম

১। মোহাম্মদ ফারহানুলবারী দাইয়্যান, খেজুরবাগ, ঢাকা।
জিজ্ঞাসা : এলমে দ্বীন শিক্ষা ও আমলের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করুন?
জবাব : মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন- ‘(হে রাসূল! আপনি) পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্ত থেকে। (হে রাসূল! পাঠ করুন, আপনার প্রতিপালক অত্যন্ত দয়াবান। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানতো না।’ (সূরা আলাক, আয়াত : ১-৫) অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছে :
‘দয়াময় আল্লাহ্্। শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন। সৃষ্টি করেছেন মানুষ। তাকে শিখিয়েছেন বর্ণনা (কথাবার্তা বলা)।’ সূরা আর-রাহমান, আয়াত: ১-৪
হক্বানী উলামায়ে কেরামের বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে আল কোরআনের উক্তি : ‘নিশ্চয় আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (হক্কানী) আলেমরাই তাঁকে (বেশী) ভয় করেন।’ সূরা ফাতির, আয়াত: ২৮ আলেম ও গয়রে আলেম কখনো সমান হতে পারে না। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ্্পাকের ঘোষণা হলো : ‘(হে রাসূল! আপনি) বলুন, যাঁরা আলেম (জ্ঞানী) আর যারা আলেম নয় (অজ্ঞ) তারা কী পরস্পর সমান হতে পারে? (সূরা যুমার, আয়াত : ৯)
অন্যত্র বলা হয়েছে : ‘আল্লাহ্্ তা’য়ালা তোমাদের মধ্যে-ঈমানদারগণের এবং যাঁদেরকে (দ্বীনের) ইল্ম দান করা হয়েছে তাঁদের মর্যাদা উঁচু করে দিবেন।’ (সূরা আল-মুজাদালাহ্্, আয়াত : ১১) হাদীস শরীফে নবীকরীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : ‘প্রত্যেক মুসলমানের উপর ইল্মে দ্বীন শিক্ষা করা ফরজ।’ (ইবনে মাজাহ্্)
অন্য হাদীসে এসেছে : ‘আমার পক্ষ থেকে একটি বাণী হলেও (তা অপরের নিকট) পৌঁছিয়ে দাও।’ (বুখারী) তিনি আরো ইরশাদ করেন : ‘তোমরা ফরজসমূহ ও কোরআন মজীদ শিক্ষা কর এবং লোকদের শিক্ষা দাও, কেননা আমি চিরকাল থাকব না।’ (তিরমিযী) হাদীস শরীফে এসেছে : ‘যে ব্যক্তি ইল্মে দ্বীন শিক্ষার জন্য কোন একটি পন্থা অবলম্বন করে, আল্লাহ্্ তা’য়ালা তার জন্য জান্নাতের রাস্তা সহজ করে দেন।’। (মুসলিম) পবিত্র কোরআনের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদেরকে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমাজের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন : ‘তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বোত্তম, যিনি কোরআন মজীদ শিক্ষা করেন এবং অপরকে শিক্ষা দেন।’ (তিরমিযী)
হাদীস শরীফে আরো এসেছে : ‘ আল্লাহ তা’য়ালা যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের প্রাজ্ঞতা (গভীর ইল্ম) দান করেন।’ (বুখারী শরীফ) অন্যত্র বলা হয়েছে : ‘একজন বিজ্ঞ আলেম শয়তানের মোকাবেলায় এক হাজার আবেদ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।’ (তিরমিযী) হযরত রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন : ‘আমার প্রতিপালক আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, তাই আমার শিক্ষা সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষা। আমার প্রভু আমাকে আমল ও আখলাক, জীবনাচার ও নৈতিকতা শিক্ষা দিয়েছেন, তাই আমার জীবনাচার ও নৈতিকতা সর্বোত্তম।’
এ হাদীস থেকে জানা গেল যে, স্বয়ং আল্লাহ্পাক রাব্বুল আলামীন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বোত্তম ও সর্বোৎকৃষ্ট ইল্ম-আমল ও শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়ে সমগ্র মানব জাতির জন্য একজন ‘অনুসরণীয় মানুষ’ হিসেবে এ পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন। স্বয়ং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিজের পরিচয় এভাবে দিয়েছেন : ‘নিশ্চয় আমি প্রেরিত হয়েছি একজন শিক্ষক হিসেবে।’ তিনি আরো বলেছেন : ‘উন্নত আমল-আখলাক ও নৈতিকতা শিক্ষা দেয়ার জন্যই আমাকে পাঠানো হয়েছে।’ নবীজীর ইল্ম, আমল ও আখলাকের যারা ধারক-বাহক, অনুশীলক ও প্রচার-প্রসারকারী তাঁদেরকে বলা হয় উলামায়ে কেরাম। প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উলামায়ে কেরামকে তাঁর নিজের ও সকল নবী-রাসূলগণের ওয়ারিস বা নায়েব আখ্যায়িত করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন : ‘নিশ্চয় আলেমগণ নবীগণের ওয়ারিছ বা উত্তরাধিকারী। আর নবীগণ দুনিয়াতে টাকা-পয়সার উত্তরাধিকার রেখে যাননি। বরং তাঁরা রেখে যান ইল্ম এর উত্তরাধিকার। সুতরাং যে ব্যক্তি এ ইল্ম অর্জন করলো সে (নববী ত্যাজ্য সম্পত্তির) এক বিরাট অংশ লাভ করলো। (আহমদ, তিরমিযী)
এক রেওয়ায়েত থেকে জানা যায় যে, কেয়ামতের দিন পাঁচটি প্রশ্নের জবাব না দিয়ে কেউ তার পা সরাতে পারবে না। তন্মধ্যে একটি প্রশ্ন হলো এই ‘ইল্ম অনুুযায়ী আমল করা হয়েছে কী না?
উত্তর দিচ্ছেন : মাওলানা সাদিক আহমাদ

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।