Inqilab Logo

ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ভুয়া দাতা সাজিয়ে আত্মসাৎ করায় ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

রূপগঞ্জে প্রতারক ও জালিয়াত চক্র সক্রিয়

| প্রকাশের সময় : ৪ মার্চ, ২০১৭, ১২:০০ এএম

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা : রূপগঞ্জের কেয়ারিয়া মৌজায় রেকর্ডীয় মালিকের বৈধ ওয়ারিশ নকল করে একটি প্রতারক চক্র ১০৫শতক জমি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছে। শুধু তাই নয়, জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম সনদ ও ওয়ারিশ সনদ জাল করে ভুয়া দাতা সাজিয়ে দলিল সৃজন করে তা অনত্র বিক্রি করার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদ ও বিগত সিএস, এসএ ও আরএস জড়িপ সূত্রে জানা যায়, রূপগঞ্জের আলমপুর গ্রামের মৃত লেবু দাসের স্ত্রী মৃত বিমলা বেওয়ার নামীয় মহিলার একমাত্র সন্তান ছিলেন মৃত অভয় চরণ দাস। উক্ত অভয় চরণ দাস মারা গেলে তার দুই পুত্র বিমল চন্দ্র দাস ও অণিল চন্দ্র দাস পূর্বাচল উপশহর একোয়ারভুক্ত হওয়ায় তাদের ভিটে বাড়ির নারায়ণগঞ্জ এল এ শাখা বিল তুলেন। পরে প্রতিবেশি দেশ ভারতে স্বপরিবারে চলে যায়। এছাড়াও তাদের মালিকানাধীন কেয়ারিয়া মৌজার মোট ১০৫ শতাংশ জমিটি সাব কবলা সূত্রে স্থানীয় রবিউল, জজ মিয়া ও আমমোক্তার সূত্রে সাইফুদ্দিন নাজমূল আহসানদের নিকট বিক্রি করে যায়। ফলে উক্ত জমির বৈধ মালিক হিসেবে তারা ভোগ দখল করতে থাকেন। ইতোমধ্যে কেয়ারিয়া মৌজায় বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানি জমি ক্রয়সহ তাদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করে। স্থানীয় আইকন সিটি নামে একটি প্রতিষ্ঠান জোরপূর্বক উক্ত জমিতে বালি ফেলে রাখে। ফলে চাষাবাদ না করায় জমিটি পতিত পড়ে থাকে। এই সুযোগে স্থানীয় একটি চিহ্নিত প্রতারত চক্র গোয়ালপাড়া এলাকার সফিকুল ইসলাম ওরফে ইয়াবা শফি ও বাগবের এলাকার জমির দালাল নজরুল ইসলাম জমিটি আত্মসাতের চেষ্টা চালায়। জানা যায়, রেকর্ডীয় মালিক বিমলা বেওয়ার একমাত্র ছেলে অভয় চরণ দাস হলেও প্রতারকদের দেয়া ভুল তথ্যের ভিত্তিতে রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাবেক ৩ নং ওয়ার্ড মেম্বার মনিরুজ্জামান বাদশার সুপারিশকৃত এবং চেয়ারম্যান আবু হোসেন ভুইয়ার রানু স্বাক্ষরিত একটি ওয়ারিশ সনদ প্রদান করা হয়। তাতে বিমলা বেওয়ার ভুয়া ছেলে (ভুয়া মালিক) বিমল চন্দ্র দাস দেখানো হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বিমল চন্দ্র দাস নামে কোন আদিবাসির অস্তিত্বই নেই। তারপরও প্রতারক চক্র স্থানীয় গোয়ালপাড়া এলাকার মৃত রেইজদ্দিন মিয়ার ছেলে মোস্তফা মিয়াকে ১০৫ শতক জমি থেকে মাত্র ১০ শতক জমি দেয়ার লোভ দেখিয়ে প্রতারণায় সহযোগী জমির দাতা হিসেবে ব্যবহার করে এবং মোস্তফা মিয়াকেই বিমল চন্দ্র দাস সাজায়। তাতে রাজি হয়ে উক্ত মোস্তফা মিয়াই হয়ে যান বিমলা বেওয়ার কথিত ছেলে বিমল চন্দ্র দাস। এভাবেই গত ০৪/০২/২০০৯ ইং সালে একটি সাব-কবলা দলিল নং ২৫৩১ সৃজন করে। ভোটার আইডি কার্ড হয়নি অযুহাতে দলিলে বিমল চন্দ্র দাসের জাতীয় পরিচয়পত্র না দেখিয়ে একই ইউপি থেকে জন্মনিবন্ধন সনদ নেয়। শুধু তাই নয় সৃজিত দলিলটির কথিত বৈধতা আনয়নে প্রতারক চক্রের হোতা সফিকুল ইসলাম ওরফে ইয়াবা শফি তার মা রাবিয়া বেগম ও নজরুল ইসলাম তার স্ত্রী তাছলিমার নামে একটি সাব-কবলা মাধ্যমে ১০ শতকের একটি দলিল সৃজন করে। এরপর থেকেই প্রতারক চক্র জমিটি অন্যত্র বিক্রি করার চেষ্টা চালায়। সূত্র জানায়, প্রকৃত মালিককে না জানিয়ে তৎকালীন ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে ভুয়া দাতা দ্বারা সৃজনকৃত দলিল দাখিল করে নামজারী জমাখারিজও করে নেয় তাদের নামে। একই জমি বিক্রি করার কথা বলে খোলা বায়না নামে আইকন সিটি থেকে ১৩ লাখ টাকা, বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত গ্রæপ ক্যাপটেন নাজমূল হকের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা, বাগবের এলাকার আক্তার মিয়ার কাছ থেকে ২ লাখ টাকাসহ বিভিন্নজন থেকে লাখ লাখ টাকা মৌখিক বায়না গ্রহণ করে। এদিকে ভুয়া দাতা বিমল চন্দ্র দাস তথা মোস্তফা মিয়ার সাথে প্রতারকদের চুক্তির ১০ শতাংশ না দেয়ায় তাদের মাঝে বিরোধ তৈরি হয়। এরই সূত্র ধরে প্রকাশ পায় প্রতারক চক্রের এ অপকর্মের বিষয়। স্থানীয় জমি মালিকদের মাঝেও তৈরি হয় নতুন আতঙ্ক। টনক নড়ে জমি মালিকদেরও। অভিযুক্ত প্রতারণাকারীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, জমিটির আসল মালিক কে তারা জানেন না। প্রকৃত মালিক ভারত চলে যাওয়ায় না জেনে এমনটা করেছেন বলে দাবি করেন। তবে তাদের সৃজিত বিমল চন্দ্রই আসল মালিক বলে দাবি করেন তারা। এসব বিষয়ে রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু হোসেন ভুইয়া রানু বলেন, ইউপি সদস্যদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারিশ সনদ প্রদান করা হয়। অভিযুক্ত বিষয়টিও বাদশা মেম্বারের সুপারিশ ক্রমে প্রদান করা হয়েছে। তবে প্রতারক চক্রের দেয়া সনদ অনেকটাই জাল। সেখানে তারা স্বাক্ষর জাল করেও তাদের অপকর্ম চালায়। এসব কারণে নিরীহরা হয়রানিয় শিকার হয়। ইউপি সদস্যদের আরো সতর্ক হয়ে সনদে সুপারিশ করার আদেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি আরো বলেন, আমার জানামতে, সংশ্লিষ্ট বিমলা বেওয়া নামীয় রেকর্ডীয় মালিকের বিমল চন্দ্র দাস নামে কোন পুত্র সন্তান ছিলেন না। রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি কর্মকর্তা আহমদ আলী বলেন, কাজের ব্যস্ততায় আসল নকল দাতা চিহ্নিত করা যায় না। এসব দায়িত্ব দলিল লিখকদেরও। তবে এ বিষয়ে আরো সতর্ক হবেন বলে জানান তিনি।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

আরও পড়ুন