Inqilab Logo

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৭ ফাল্গুন ১৪২৫, ১৩ জামাদিউস সানি ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

জিজ্ঞাসার জবাব

প্রকাশের সময় : ২১ জানুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

১। মোহাম্মদ ফাহমিদুল বারী রাইয়্যান, মুন্শী মঞ্জিল, রাজামেহার, কুমিল্লা।
জিজ্ঞাসা : বিশেষ বিশেষ দরূদ শরীফের ফজিলত কি?
জবাব : সবচেয়ে উত্তম ও সর্বাপেক্ষা মর্যাদাপূর্ণ দরূদ শরীফ হলো দরূদে ইব্রাহিমী যা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে পড়া হয়। এই দরূদ শরীফের ফজিলত বোখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফসহ অন্যান্য সহীহ হাদিসের পুস্তক দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। মোহাদ্দেসগণের মতে, এই দরূদ শরীফ সর্বশ্রেষ্ঠ দরূদ শরীফ। আল্লাহা জাজারী (রহ.) তাঁর হেসনে হাসীন নামক কেতাবে ইহাকে সর্বশ্রেষ্ঠ দরূদ শরীফ বলে উল্লেখ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি এই দরূদ পাঠ করবে আমি কেয়ামতের দিন তার জন্য স্বাক্ষী দিব ও শাফায়াত করব। বুযুর্গানেদ্বীনের মতে, এই দরূদ শরীফ প্রত্যেহ একশ’ বার পাঠ করলে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যিয়ারত নসীব হবে।
দরূদ ইব্রাহিমীর উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা সল্লি আ’লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ’লা আলি মুহাম্মাদিন কামা সল্লাইতা আ’লা ইবরাহীমা ওয়া আ’লা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লাহুম্মা বারিক আ’লা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আ’লা আলি মুহাম্মাদিন কামা বারকতা আ’লা ইবরাহীমা ওয়া আ’লা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি নি¤েœর দরূদ শরীফ পাঠ করবে তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজেব হয়ে যাবে।
উচ্চারণ : “আল্লাহুম্মা সল্লি আ’লা মুহাম্মাদিও ওয়া আনযিলহুল মাক আদাল মুকাররাবা ই’নদাকা ইয়াওমাল কেয়ামাহ”। (নাসায়ী, আহমদ) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন- রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনÑ যে ব্যক্তি নি¤েœর দরূদ শরীফ পাঠ করবে তাঁর সওয়াব লেখার জন্য সত্তর জন ফেরেশতাকে এক হাজার দিন পর্যন্ত মশগুল রাখা হবে। উচ্চারণ : “জাজাল্লাহু আ’ন্না মুহাম্মাদান মাহুয়া আহলুহু” (তাবরানী কর্তৃক তার কবীর ও আওসাত গ্রন্থে বর্ণিত)
নি¤েœর দরূদ শরীফ প্রত্যেহ ১০০ বার পাঠ করলে দ্বীন ও দুনিয়ার সমুদয় সফলতা লাভ করবেন। ব্যর্থতা আপনার ধারে কাছেও আসবে না। এই দরূদ শরীফ ইসমে আযম নামে খ্যাত। এই দরূদ হলোÑ
উচ্চারণ : “আল্লাহুরাব্বু মুহাম্মাদীন সল্লা আলাইহি ওয়া সাল্লামা নাহনু উম্মাতু মুহাম্মাদীন সল্লাআ’লাইহি ওয়া সাল্লামা”। (এক খ-ে বোখারী শরীফ, ৯২৯ পৃ.) সয়্যিদ আলী ইবনে ইউসুফ মাদানী (রহ.) হজরত জালালুদ্দিন সুয়ুতা (রহ.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেন এই দরূদ শরীফ একবার পাঠ করলে ছয় লক্ষ বার দরূদ শরীফ পাঠ করবার সওয়াব পাওয়া যাবে। (এক খ-ে বোখারী শরীফ, ৯৩০ পৃ.) উচ্চারণ : “আল্লাহুম্মা সল্লি আ’লা সাইয়্যিদিনা ওয়া মাওলানা মুহাম্মাদীন আদাদা মাফিই’ল মিল্লাহি সলাতান দায়িমাতান বেদওয়ামি মুলকিল্লাহ”।
এই দরূদ শরীফ কেহ একবার পাঠ করলে সত্তর হাজার ফেরেশতা এক হাজার দিন পর্যন্ত তাঁর আমল নামায় নেকী লিখতে থাকেন। (এক খন্ডে বোখারী শরীফ ৯৩০ পৃ.)
উচ্চারণ : “আল্লাহুম্মা সল্লি আ’লা সাইয়্যিদিনা ওয়া মাওলানা মুহাম্মাদীন ওয়া আ’লা আলি সাইয়্যিদিনা ওয়া মাওলানা মুহাম্মাদীন কামা তুহিব্বু ওয়া তারদলাহু”। হজরত আবু সাইদ খুদবী (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন- যে ব্যক্তি চায় যে তার মাল-সম্পদ বৃদ্ধি হোক সে যেন নি¤েœর দরূদ শরীফের উপর আমল করে।
এই দরূদ শরীফ প্রতিদিন একশ’ বারÑ উচ্চারণ : “আল্লাহুম্মা সল্লি আ’লা মুহাম্মাদীন আ’বদিকা ওয়া রসুলিকা ওয়া সল্লি আ’লাল মু’মিনীনা ওয়াল মু’মিনাতী ওয়াল মুসলিমীনা ওয়াল মুসলিমাত” (এক খ-ে বোখারী শরীফ, ৯৩৩ পৃ.) দরূদ শরীফের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দরূদ হলো দরূদে ইব্রাহিমী যাহা নামাজে পড়া হয়। আর সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত দরূদ হচ্ছেÑ
উচ্চারণ : সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এই সংক্ষিপ্ত দরূদ পড়লেও দরূদ শরীফ পাঠে ফজিলত হাসিল হয়ে যাবে।
উত্তর দিচ্ছেন : মো. আবু বকর সিদ্দীক দেব নগরী।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: জিজ্ঞাসার জবাব

১৭ নভেম্বর, ২০১৬
১০ নভেম্বর, ২০১৬
৩ নভেম্বর, ২০১৬
২৭ অক্টোবর, ২০১৬
২০ অক্টোবর, ২০১৬
৬ অক্টোবর, ২০১৬
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
২৫ আগস্ট, ২০১৬
১৮ আগস্ট, ২০১৬
১১ আগস্ট, ২০১৬
৪ আগস্ট, ২০১৬
২৮ জুলাই, ২০১৬

আরও
আরও পড়ুন
গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ