Inqilab Logo

ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৭ আশ্বিন ১৪২৫, ১১ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

দেশে পোলট্রি বিল্পব ঘটেছে

| প্রকাশের সময় : ৮ মার্চ, ২০১৭, ১২:০০ এএম

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান : মুরগির বাচ্চা উৎপাদনে দেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশে এখন সপ্তাহে ১ কোটি ১০ লাখ মুরগির বাচ্চা উৎপাদিত হয়। দেশের খামারগুলোতে সপ্তাহে চাহিদা ৯৫ লাখ থেকে ১ কোটি ১০ লাখ বাচ্চার। পুরোটাই দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। দেশীয় পোলট্রি খামারিদের এই সাফল্য একদিনে আসেনি। সমস্যার পাহাড় ছিল। সব ডিঙ্গিয়ে তারা এগিয়েছেন। থমকে দাঁড়াননি একটুও। দেশে এখন ৭০ হাজারেরও বেশি খামারি রয়েছেন। এর মধ্যে তরুণদের সংখ্যা অনেক। আছেন গৃহবধূও। চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্তরাও বাদ নেই। পোলট্রি আশার আলো জ্বালিয়েছে। একদিকে খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টির যোগান হচ্ছে। অপরদিকে পোলট্রি করে স্বাবলম্বী মানুষদের সংখ্যা বাড়ছে। কমছে বেকারদের সংখ্যা। বেকারত্ব দূরীকরণে পোলট্রির জুড়ি নেই। তবে জ্ঞানের অভাব, সঠিক পরিচর্যা করতে না পারা। এসব কারণে অনেক নতুন খামারি শুরুতেই ভালো করতে পারেন না।
অবিশ্বাস্যভাবে মুরগির মাংসের উৎপাদন বেড়েছে। ২০১৪ সালে দেশের খামারগুলোতে ১৫১০ টন মাংস উৎপাদিত হতো। ২০১৬তে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৫১ টনে। ২০৩০ সালে এই উৎপাদন ৩৩০০ টনে পৌঁছতে পারে। এমনটাই অভিজ্ঞদের আশাবাদ। মুরগির বাচ্চার উৎপাদন, সরবরাহ নির্বিঘœ হয়েছে। হরতালসহ রাজনীতিক অস্থিরতা কম ছিল। এসব কারণেই বেড়েছে মাংসের উৎপাদন। শুধু মাংস নয়। ডিম উৎপাদন বেড়েছে আশাতীতভাবে। ২০১৪ সালে ডিম উৎপাদনের পরিমাণ বছরে ১ কোটি ৭৫ লাখ পিস। ২০১৬তে উৎপাদন বেড়ে হয়েছে ২ কেটি ৩০ লাখ। খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির যোগানে পোলট্রির অবদান অনস্বীকার্য। দেশের মোট খাদ্য সরবরাহের ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ মাংস ডিম আসে পোলট্রি থেকে। ২০১৪ সালে পোলট্রি ফিডের বার্ষিক উৎপাদন ছিল ২৫ লাখ মেট্রিক টন। ২০১৬তে তা বেড়ে হয়েছে ৩৩ লাখ মেট্রিক টন। ২০২১ সালে ৫৫/৬০ লাখ মেট্রিক টনে পৌঁছবে এমনটাই অভিজ্ঞদের মত।
অর্থনীতিক সমীক্ষা ২০১৬-এর তথ্যানুযায়ী পোলট্রি খাত দেশের প্রাণিজ আমিষের চাহিদার ৪৫ শতাংশ পূরণ করে। প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ৬০ লাখ মানুষের জীবন জীবিকার উৎস পোলট্রি। বিনিয়োগের পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। পোলট্রির সাথে জড়িত সবকিছুই দেশে হচ্ছে। আগে জিপি ফার্ম ছিল না। এখন প্রায় ১৫টি জিপি ফার্ম। হ্যাচারির সংখ্যা ২০৫টির মতো। খাবারের যোগান দিচ্ছে ১৮৬টি ফিড মিল। ওষুধের জন্য বিদেশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না। ৩০টির মতো দেশি কোম্পানি মানসম্মত ওষুধ তৈরি করছে। আমদানি নির্ভরতা নেই বললেই চলে।
প্রশিক্ষণের অভাব, টেকনিক্যাল সাপোর্ট নেই, কম সুদে ব্যাংক লোন পাওয়া যায় না, দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা নেই, মাঠ পর্যায়ের পশুসম্পদ কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা, রাজনীতিক অস্থিরতা, পোলট্রি বীমা না থাকা এসবই হলো মোটা দাগে পোলট্রি শিল্পের বিকাশে অন্তরায়। এছাড়া কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক, কিছু ভ্যাকসিন আমদানির অনুমোদন পোলট্রির প্রসারের জন্য দেয়া দরকার। তবে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো বার্ড ফ্লু। অসচেতনার কারণেই এর বিস্তার বেশি ঘটে। বিশ্বের কোনো বাজারে মুরগি ড্রেসিং করে বিক্রি হয় না। জবাই ড্রেসিং-এর ময়লা যেখানে-সেখানে ফেলা হয়। কাকসহ অনান্য পাখি সেটাকে খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে। এসব বন্ধ করতে হবে। ময়লা ঢেকে রাখতে হবে। বাজারে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে। প্রয়োজনে একদিন বাজারগুলো বন্ধ রাখা দরকার। তবে বার্ড ফ্লু শনাক্তকরণেও সফলতা এসেছে। ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে বার্ড ফ্লু হয়েছে কিনা বলে দেয়া সম্ভব। প্রাণী সম্পদ অধিদফতর এ বিষয়ে সারা দেশে নজর রাখছে। সমস্যা মনে করলেই তাদেরকে জানাতে হবে। বিন্দুমাত্র বিলম্ব করা যাবে না।
বলা হয়ে থাকে গার্মেন্ট-এর পরে সবচেয়ে বেশি উন্নতি হয়েছে পোলট্রি শিল্পে। প্রবৃদ্ধির হার অনেক ভালো। যেসব খামারিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই সাফল্য। তাদেরকে স্যালুট জানাই। পাশাপাশি যখন রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য একদমই আসছে না। তখন পোলট্রি পণ্য রফতানির যে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সেটা যেন আলোর মুখ দেখে। সেজন্য সরকারি সহায়তাও সময়ের দাবি।
ষ লেখক : সচেতন নাগরিক



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।