Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৬ আগস্ট ২০১৭, ১ ভাদ্র, ১৪২৪, ২২ যিলকদ ১৪৩৮ হিজরী

ইসলামের দৃষ্টিতে বিবাহ

পথ নির্দেশ

| প্রকাশের সময় : ৯ মার্চ, ২০১৭, ১২:০০ এএম

মাওলানা এইচ.এম গোলাম কিবরিয়া (রাকিব)
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
বিবাহের সময় বর ও কনের পিতার সমতার প্রতিও লক্ষ্য রাখতে হবে, আর যেসব দিক দিয়ে দু’জনের মধ্যে সমতা হওয়া দরকার তা হচ্ছে : ১. ধর্ম, ২. ধন-সম্পদ, ৩. বংশ মর্যাদা, ৪. স্বাধীনতা, ৫. পরহেযগারী ও ৬. পেশা। তবে কেউ বয়সের প্রতিও দৃষ্টি রাখার শর্ত আরোপ করেছেন। বিবাহের মাহর বিবাহে মাহর দেয়া অপরিহার্য। তবে মাহর স্বামীর আর্থিক অবস্থার উপর নির্ভর করেই নির্ধারণ করা উচিত, যা তার জন্যে আদায় করা সম্ভব। অনেক মাহর নির্ধারণ করে শুধু লোককে জানিয়ে পরবর্তীতে তা আদায় না করলে মহাপাপী হবে।
মাহরের পরিমাণ : শরীয়ত মাহরের সর্বোচ্চ কোন পরিমাণ নির্ধারণ করেনি; তবে আবূ হানীফা (র.)-এর মতে, এর সর্বনিম্ন পরিমাণ হবে ১০ দিরহাম (বা পৌনে তিন তোলা রৌপ্য) বা তার মূল্য। এব্যাপারে ইমামদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। বিবাহের সময় কনের কোন্ কোন্ অঙ্গ দেখা বৈধ অধিকাংশ ইমামের মতে, শুধু হাত ও চেহারা দেখা বৈধ। তবে হানাফী মাযহাবে পা দেখাও বৈধ। ইমাম অহমদের মতে, স্বাভাবিকভাবে মেয়েদের শরীরের যেসব অংশ বাইরে থাকে তা দেখা বৈধ। যেমন, হাত, পা, চেহারা ও পায়ের পাতা ইত্যাদি। কারো কারো মতে চুল দেখাও বৈধ। এখানে আরেকটি কথা মনে রাখা প্রয়োজনÑ তা হচ্ছে, বিবাহের পূর্বে দেখার নামে কনেকে নিয়ে ভ্রমণ তথা পার্কে বা অন্য কোথাও যাতায়াত করা হারাম। এমন কি কনেকে একাকী দেখাও বৈধ নয়। তার সাথে অবশ্যই তার কোন মুহরিম আত্মীয় থাকতে হবে।
যাদেরকে বিবাহ করা হারাম যাদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া হারাম, আল্লাহ্ তাদের কথা পবিত্র কুরআনে বর্ণনা করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে : ১. পিতার স্ত্রী, তাতে সৎ মাও শামিল, ২. নিজ মা, গর্ভধারিণী, অনুরূপ দাদী-নানীও হারাম, ৩. কন্যা, পুত্রের কন্যা, কন্যার কন্যা এবং তাদের ধারাবাহিকতা নিম্নদিকে যতই বিস্তার লাভ করুক না কেন, ৪. বোন, সৎ বোন, দুধ বোনও এর মধ্যে শামিল, ৫. ফুফু পিতার আপন বোন হোক না সৎ বোন, ৬. খালা, ৭. ভাইয়ের কন্যা, ৮. বোনের কন্যা, ৯. দুধ মা-শৈশবে যার দুধ পান করেছে, ১০. দুধ বোন, ১১. স্ত্রীর মা, ১২. স্ত্রীর কন্যা, ১৩. ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী। উল্লেখ্য যে, পালিত পুত্রের স্ত্রীকে বিবাহ করা হারাম নয়, ১৪. দু’বোনকে একত্রে বিয়ে করা। তদ্রƒপ, কোন মেয়েকে এবং তার ফুফু অথবা খালাকেও একত্রে বিয়ে করা হারাম। ১৫. অপরের স্ত্রী, যতক্ষণ না সে তাকে তালাক দিবে (অথবা বিধবা না হবে)। Ñ নিসা : ২৩-২৪ আরো কতিপয় নারীকে বিবাহ করা হারাম করা হয়েছে। তন্মধ্যে রয়েছে মুশরিক ও কাফির নারী। এদেরকে মুসলমান না করে বিবাহ করা বৈধ নয়। এখানে সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো। এ ব্যাপারে বিশদভাবে জানার জন্য ফিকাহ্ এর কিতাবসমূহ দেখা যেতে পারে।
বাল্যবিবাহ ও বহু বিবাহ : বাল্যবিবাহ ইসলামে জায়েয থাকলেও এর তেমন কোন ইতিহাস পাওয়া যায় না। শুধু হযরত আয়েশা (রা.)-এর বিবাহ ছাড়া সাহাবাদের যুুগেও এর নজির বিরল। ইসলাম এ সম্পর্কে তেমন কোন বাধা কিংবা আদেশ দেয়নি, তবে বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাল্য বিবাহের উপকার ও অপকার দু’টিই বিদ্যমান। বরং অপকারের মাত্রাই বেশি। তাই যথাসম্ভব এর থেকে দূরে থাকাই সামাজিক ভারসাম্য তথা শান্তি বজায়ের কারণ বলে বিবেচিত। আর বহু বিবাহের ইতিহাস অনেক পুরানো। জাহিলী যুগে বিবাহের সংখ্যার কোন নীতি নির্ধারিত ছিল না। যে যতটি ইচ্ছা বিয়ে করতো। ইসলাম এসে একে ৪টির মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে। তবে একাধিক বিবাহ প্রয়োজনে বৈধ হলেও স্বাভাবিকভাবে বহু বিবাহ সংসারে কলহের একটি প্রধান উৎস। রাসূল (সা.) ও তাঁর সাহাবায়ে কিরাম (রা.) একাধিক বিবাহ করেছেন। তাদের বেশির ভাগেরই উদ্দেশ্য ছিল মহৎ। কিন্তু আমাদের দেশে বহু বিবাহের কারণে সমাজে প্রায়ই বিশৃঙ্খলা বিরাজ করে। ইসলাম বহু বিবাহ স্বাভাবিকভাবে সবার জন্যে বৈধ রাখেনি; বরং শর্তসাপেক্ষে বৈধ রেখেছে। আর সে শর্ত হলো, স্ত্রীদের মধ্যে আদল-ইনসাফ। এ শর্ত কার্যকর করতে না পারলে তার জন্য একটি বিবাহের হুকুম। আল্লাহ বলেন : তোমারা যদি স্ত্রীদের মধ্যে সুবিচার করতে না পারার আশঙ্কা কর, সে ক্ষেত্রে একজনকেই বিবাহ কর।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।