Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৬ আশ্বিন ১৪২৫, ১০ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

দেশে চলছে লুণ্ঠনতন্ত্র - হাফিজ উদ্দিন

প্রকাশের সময় : ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন, দেশে গণতন্ত্রের নামে লুন্ঠনতন্ত্র চলছে। গতকাল দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, সারাদেশে গণতন্ত্রের নামে যে তন্ত্র চলছে সেটি হলো লুণ্ঠনতন্ত্র। গতকালও পত্রিকায় উঠেছে, সম্প্রতি অবর্ণনীয় ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি হয়েছে যেটির হোতা হলো বিদেশী নাগরিক। তিনি (বিদেশী নাগরিক) রিমান্ডে গিয়ে যেসব তথ্য দিয়েছেন, পুলিশ বাহিনীর পিলে চমকে গেছে। নিজ ছবিতে দেখা গেছে, শাসক দলের বড় বড় নেতাদের ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে বিদেশীর উপস্থিতি, যার ফলে তাকে ইন্টারভিউ করতে তার বক্তব্য নেয়ার ক্ষেত্রে তাদের কম্পন শুরু হয়েছে। এই যে শত শত কোটি টাকা জালিয়াতি হয়েছে, রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ব্যক্তিরা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা, তাদের কাছের লোকেরা এমনভাবে জড়িত যে, পুলিশ বাহিনী এদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট লিখতে এখন আর সাহস পায় না। এ সব কিছু হচ্ছে গণতন্ত্রের নামে। এই ধরনের গণতন্ত্র কী আমরা চেয়েছিলাম?
মেজর হাফিজ বীর বিক্রম অভিযোগ করেন, দেশে জবাবদিহিতা কোনো ক্ষেত্রে নাই। এই রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দিচ্ছে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার। ব্যাংক ব্যবস্থা সম্পর্কে সবাই জানে। হলমার্ক, বেসিক ব্যাংক, অন্যান্য ব্যাংক, বিসমিল্লা গ্রুপ ইত্যাদির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে নিয়েছে, এর সঙ্গে শাসক দলের লোক জড়িত।
দলের আসন্ন ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে সংগঠনে গতি আনতে সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে ইংগিত দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে জিয়া নাগরিক ফোরাম-জিনাফ-এর উদ্যোগে মহান ভাষা আন্দোলন উপলক্ষে ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়।
কাউন্সিল প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপি একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল। দেশে কী গণতন্ত্র আছে আমরা দেখছি। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপি, তার কাউন্সিল করার জন্য এতো বড় ঢাকা শহরে স্থান দেয়া হচ্ছে না। পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছি আমরা।
দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তনের ইংগিত দিয়ে তিনি বলেন, আমরা আশা করি, এবারে গঠনতন্ত্রে কিছু পরিবর্তন হবে। যে পরিবর্তনে কিছু কিছু নতুন উপ-কমিটি থাকবে। সেই উপ-কমিটিগুলো সারা বছর ধরে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে কর্মকা- চালাবে। আমরা আশা করি, এই উপকমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটিতে যেখানে দেশনেত্রী যোগ্য মনে করেন, তাদের স্থান দেবেন। আমরা দলের কর্মকা-ে গতি আনতে চাই।
দলের এই ভাইস-চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে কাউন্সিলের পরে আমরা মাঠে নামতে চাই। অনেক তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হচ্ছে যে বিএনপির মাঠে নামার ক্ষমতা নেই, বিএনপির কোনো শক্তি নেই, কোমড়ে জোর নেই। আমরা যারা এখানে আছি, আমরা কোনো পদ-পদবির লোভে না গিয়ে আমরা ইনশাল্লাহ আগামী দিনে মাঠে নামতে চাই, দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে চাই।
আগামী ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল তারিখ ঘোষণা করলেও এখনো তারা স্থানের বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি পায়নি। সর্বশেষ বিএনপি ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল হয় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীনদের জিতিয়ে দিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন সাবেক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহম্দে।
তিনি বলেন, কী নির্বাচন আমরা পাচ্ছি ? ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১১৪ জন বিএনপির প্রার্থী মনোনয়নপত্রই জমা দিতে পারেনি কিংবা তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয়া হয়েছে।
আমার নির্বাচনী এলাকায় ভোলার তজমুদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নে একটি ঘটনা ঘটেছে শুনলে মানুষ অবাক হয়ে যাবে। সেখানে বর্তমানে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী যিনি তিনবার চেয়ারম্যান হয়েছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান এবং বিএনপির প্রার্থী দুইজনকে দূরের আরেকটি উপজেলায় গোপনে টাকার বিনিময়ে ভোটার করা হয়েছে। যার ফলে তাদের দুইজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে গেছে। তারা এখন দৌড়াদৌড়ি করছে। নির্বাচন কমিশনের কী বিশৃঙ্খলা। টাকার বিনিময়ে কী না করা যায়, এর একটি উদাহরণ শম্ভুপুর ইউনিয়ন। সুতরাং আরেক আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন। এ হচ্ছে নির্বাচনের নাটক।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সহ-সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, জিনাফের সভাপতি মিয়া মো. আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কে এ জামান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ