Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার ২৪ জুন ২০১৯, ১০ আষাঢ় ১৪২৬, ২০ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।
শিরোনাম

সাইবার আতঙ্কে সিআইএ

| প্রকাশের সময় : ১০ মার্চ, ২০১৭, ১২:০০ এএম

ইনকিলাব ডেস্ক : সাড়া জাগানো তথ্য ফাঁসকারী ওয়েবসাইট উইকিলিকস মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র হ্যাকিং কৌশল ফাঁস করে দেয়ার পর গোয়েন্দা সংস্থাটির কর্মকর্তারা শত্রæপক্ষের সাইবার হামলার আতঙ্কে পড়েছেন। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা মনে করছেন, সর্বশেষ এই ফাঁসের ঘটনায় সিআইএ’র চলমান সাইবার গোয়েন্দা তৎপরতাই কেবল বিপদে পড়বে না; বরং ইচ্ছা করলে এই ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করতেও পারবে শত্রæরা। ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ‘বাজফিড নিউজ’কে এসব বিষয় নিশ্চিত করেছেন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। মার্কিন অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা এফবিআই’র সাবেক ‘কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স’ কর্মকর্তা এরিক ও’নিল বলেন, সত্যি বলতে কি, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নিজেদের প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে; আর এখন আড়িপাতা এবং হামলার সক্ষমতাও হ্রাস পেল। মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘কার্বন বস্ন্যাকে’ বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ও’নিল। তিনি স্বীকার করেন, উইকিলিকসের ফাঁস করে দেয়া সিআইএ’র হ্যাকিং কৌশল এখন রদবদল করে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই হামলা চালানো যাবে। ফাঁস হয়ে যাওয়া নথিপত্রগুলো বানোয়াট নয় বরং গোয়েন্দা তৎপরতা ব্যবহৃত আসল কাগজপত্র বলেই মনে করছেন মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। অবশ্য, এসব নথির সত্যতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সিআইএ মুখপাত্র জোনাথন লিউ। তিনি বলেছেন, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যসংক্রান্ত কোনো নথির সত্যতা নিয়ে কোনো মন্তব্য করা হয় না। উল্লেখ্য, সিআইএ সাইবার হামলা চালাতে কী কৌশল গ্রহণ করে তা মঙ্গলবার উইকিলিকস ফাঁস করে দেয়। ইন্টারনেট সুবিধাসংবলিত ‘স্মার্ট টিভি’ থেকে শুরু করে গাড়ি পর্যন্ত যে কোনো ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রে সাইবার হামলা চালাতে এসব কৌশল গ্রহণ করে সিআইএ। এসব কৌশলের অংশ হিসেবে ম্যালওয়ারও (ভাইরাস) ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে কোনো কোনো হ্যাকিং সফটওয়্যার সিআইএ নিজেই তৈরি করেছে, কিন্তু স্যামসাং টেলিভিশনে হ্যাকিং করার জন্য একটি স্পাইওয়্যার তৈরিতে যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা ‘এমআই-ফাইভ’ সাহায্য করেছে বলেও এতে উল্লেখ হয়েছে। ফাঁস হওয়া দলিলে দেখা যায়, স্যামসাংয়ের ‘স্মার্ট টিভি’কে হ্যাক করার যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, তার ‘কোড’ নাম ছিল ‘উইপিং অ্যাঞ্জেল’। সেখানে এমন এক স্পাইওয়্যার বসানো হয়েছিল, যাতে ব্যবহারকারী টেলিভিশন বন্ধ করলেও আদতে তা বন্ধ হতো না। স্ক্রিন অন্ধকার হয়ে ব্যবহারকারীকে ধোঁকা দিলেও আসলে তা থাকত সিআইএ’র নিয়ন্ত্রণেই। এসব টিভি আশপাশের শব্দ রেকর্ড করত। সিআইএ’র ‘ফিউচার সেকশন’ বিভাগ পরে ওই টিভিগুলো দিয়ে ব্যবহারকারীর অজান্তে ‘স্ন্যাপশট’ নেয়ারও ব্যবস্থা করে বলে ধারণা করছে উইকিলিকস। এখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই টিভিগুলো ব্যবহার করে ঘরের মানুষের কথাবার্তা রেকর্ড করার ব্যবস্থা ছিল, যা পরে ‘ওয়াইফাই’ ব্যবহার করে সিআইএর দপ্তরে চলে যেত। একইভাবে আড়িপাতা হতো স্যামসাং, এইচটিসি ও সনিসহ অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে তৈরি মোবাইলফোনসহ নানাবিধ প্রযুক্তি পণ্যে। এমনকি তারা অ্যাপলের আইফোন ও আইপ্যাডে আড়িপাতার ব্যবস্থাও করেছিল বলেও ফাঁস হওয়া দলিলে জানা যায়। সিএনএন।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: সিআইএ

৮ জানুয়ারি, ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন