Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৬ জুন ২০১৭, ১২ আষাঢ়, ১৪২৪, ০১ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরী

অভিজ্ঞতা ছাড়াই নারীদের ব্রান্ড প্রমোটরের চাকরির সুযোগ

| প্রকাশের সময় : ১২ মার্চ, ২০১৭, ১২:০০ এএম

বেসরকারি কোম্পানিগুলোতে নারীদের চাকরি সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেলস, মার্কেটিং, একাউন্স, অডিট, এমআইএসসহ বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে তারা কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের সাফল্য ইর্ষণীয়। তবে পাস করার পর অনেকেই চাকরি পান না। অভিজ্ঞতা নেই। বেশিরভাগ চাকরি তে অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। সে কারণে আবেদন করা সম্ভব হয় না। প্রবল ইচ্ছা শক্তি, কঠোর পরিশ্রমী, কাজকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণের মানসিকতা যেসব নারীর রয়েছে। তাদের জন্য আকর্ষণীয় চাকরি ব্রান্ড প্রমোটর। দেশি-বিদেশি সব কনজুমার কোম্পানি ব্রান্ড প্রমোটর পদে লোক নিয়োগ করে। ব্রান্ড বা পণ্যের পরিচিতি ভোক্তার সামনে তুলে ধরাই ব্রান্ড প্রমোটরের কাজ। স্নাতক পাস হলে ভালো হয়। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা বেশি হলে ভালো। সুযোগ-সুবিধা বেশি পাওয়া যাবে। অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। চটপটে, ইয়াং, এনারজেটিক, স্মার্ট মেয়েদের কোম্পানিগুলো বেছে নেয়। যাদের অভিজ্ঞতা নেই। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মক্ষেত্রে পাঠানো হয়। পড়াশোনা শেষে ঘরে বসে না থেকে ব্রান্ড প্রমোটরের চাকরি নেয়া যেতে পারে। সুপারসপগুলো হল কর্মক্ষেত্রে। একটা সুপার শপে সাধারণত একটা কোম্পানির একজন ব্রান্ড প্রমোটর থাকে। সেখানে পণ্য আছে কিনা, পণ্যগুলো ডেস্কে সাজানো কিনা, পণ্য সজ্জা দৃষ্টিনন্দন কিনা, পণ্যের সাইনবোর্ড, গন্ডোলা থাকলে সেগুলো ভালো আছে কিনা, পণ্য সর্ম্পকে ক্রেতাদের সুন্দর করে বুঝানোÑ মূলত এসবই ব্রান্ড প্রমোটরের কাজ। পণ্য কম থাকলে তার অর্ডার করানো। ক্রেডিট থাকলে তা যথাযথ সময়ে পরিশোধ করা হলো কিনা। এগুলোও ব্রান্ড প্রমোটরকে দেখতে হয়। অধিকাংশ সুপার শপে কর্মপরিবেশ উন্নত। বিক্রির স্বার্থেই সুপারশপগুলো ব্রান্ড প্রমোটারদের সহায়তা করে। কাজের সময় সকাল থেকে সন্ধ্যা। দেশি কোম্পানিগুলো প্রতি সুপার শপে একজন ব্রান্ড প্রমোটার নিয়োগ করে থাকে। কিছু বিদেশি কোম্পানি প্রত্যেক পণ্যের জন্য ব্রান্ড প্রমোটর নিয়োগ দেয়। কোম্পানি নিদিষ্ট পোশাক থাকলে সেটা তাদের পড়তে হয়। ব্রান্ড সর্ম্পকে ব্রান্ড প্রমোটারকে ভালো জানতে হয়। ব্রান্ডের গুণাগুণ, মূল্য, কনজুমার অফার, মূল্য ছাড় ইত্যাদি ব্রান্ড প্রমোটরের মাথায় থাকতে হবে। প্রায় সব কোম্পানি ব্রান্ড প্রমোটর পদে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে লোক নেয়। এছাড়া সরাসরি সিভি নিয়ে হেড অফিসে যোগাযোগ করলে চাকরি হতে পারে। নারীদের জন্য ব্রান্ড প্রমোটরের চাকরি অনেক নিরাপদ। সুযোগ-সুবিধা মন্দ নয়। কোম্পানি ভেদে সাত থেকে পনেরো হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। এছাড়া পণ্য প্রতি ইনসেনটিভ, টার্গেট ইনসেনটিভ, বছর শেষে প্রমোশন, ইনক্রিমেন্ট, মোবাইল সেট ও বিল, ব্যাগ, ক্যালকুলেটর, ছাতা, ডায়রি এসব সুবিধা কোম্পানিগুলো দিয়ে থাকে। ভালো করলে ব্রান্ড সুপারভাইজার হওয়া সহজ। ব্রান্ড প্রমোটরের জব ফুলটাইম। তবে কোনো কোনো কোম্পানি স্পেশাল মাকেটিং প্রোগ্রাম নিলে সেখানে পারটাইম কাজ করা সম্ভব। এক দশক আগে দেশে নারী ব্রান্ড প্রমোটর কম ছিল। এ পেশায় নারীরা আসতে চাইতেন না। কর্মক্ষেত্র ছিল সংকীর্ণ। এখন দিন বদলেছে। বহু অল্প বয়সী উচ্ছল, চঞ্চল, সুন্দরী মেয়েরা সাফল্যের সাথে ব্রান্ড প্রমোটরের কাজ করছে। কর্মক্ষেত্রের পরিধি বেড়েছে। এফএমসিজি, সিজি কোম্পানিগুলো ব্রান্ড প্রমোটরদের গুরুত্বের সাথে দেখছে। এ পেশার সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে তারা সচেষ্ট। ব্রান্ড প্রমোটররা সরাসরি ভোক্তাকে পণ্য সর্ম্পকে বুঝান। ফলে পণ্যের প্রতি ভোক্তার আকর্ষণ, জানা, বোঝাটা ভালো হয়। ভোক্তার সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্রান্ড প্রমোটররা সরাসরি ভ‚মিকা রাখেন। উদ্বুদ্ধ করেন। যেটা বিজ্ঞাপন, বিলবোর্ডসহ অনান্য কার্যক্রমে কম হয়। একটি বেসরকারি কোম্পানির সুপারভাইজার আতিয়া জানান, ব্রান্ড প্রমোটর পদে নারীরা ভালো কাজ করছে। তাদের পোডাক্টটিভিটি অনেক ভালো। ভোক্তা লেবেলে পণ্য তথ্যে পৌঁছে দিয়ে তারা পণ্য বাজারজাতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখছে। 

১ মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।