Inqilab Logo

রোববার, ২৯ মে ২০২২, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৭ শাওয়াল ১৪৪৩ হিজরী

এসএমই খাতে চার্জ নির্ধারণ করে দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

| প্রকাশের সময় : ১৪ মার্চ, ২০১৭, ১২:০০ এএম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার : অবশেষে এসএমই খাতে ঋণ বিতরণের কোন কোন পর্যায়ে চার্জ নেয়া যাবে তা নির্দিষ্ট করে দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছ থেকে ছয় রকম চার্জ নিতে পারবে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এগুলো হলো ডকুমেন্টেশন ফি, সিআইবি চার্জ, স্ট্যাম্প চার্জ, আইনি ও জামানত মূল্যায়ন ফি এবং আর্লি সেটেলমেন্ট ফি। এর মধ্যে ঋণ আবেদন ফি ২০০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। আর ডকুমেন্টেশন ফি, সিআইবি চার্জ, স্ট্যাম্প চার্জ এবং আইনি ও জামানত মূল্যায়ন ফি ব্যাংকগুলোর প্রকৃত ব্যয়ের ভিত্তিতে নেয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া আর্লি সেটেলমেন্ট ফি কত নিতে পারবে সেটি স্পষ্ট করে বলা হয়নি। বর্তমানে আর্লি সেটেলমেন্ট ফি ঋণ লিমিটের সর্বোচ্চ ২ শতাংশ আদায় করে থাকে ব্যাংকগুলো। তবে কটেজ ও মাইক্রো খাতের গ্রাহকদের কাছ থেকে মেয়াদপূর্তির পূর্বে ঋণ সমন্বয়ে আর্লি সেটেলমেন্ট ফি আদায় না করার কথা বলা হয়েছে। সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে; যা দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে এসএমই ঋণে নানা নামে হরেক রকম সার্ভিস চার্জ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সার্কলারে বলা হয়েছে কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) খাতে ঋণের আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে ঋণ মঞ্জুরি পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে গ্রাহকের নিকট থেকে ভিন্ন ভিন্ন নামে ও হারে চার্জ আদায় করা হচ্ছে। ফলে গ্রাহকের প্রকৃত ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা এ খাতের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
এদিকে সম্প্রতি সময়ে তথ্য পর্যালোচনায় বাংলাদেশ ব্যাংক দেখেছে, কেবল এসএমই খাতেই (ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প) অনেক ব্যাংক তাদের প্রদত্ত ঋণের বিভিন্ন পর্যায়ে ১৪ রকমের চার্জ আরোপ করে থাকে। এগুলো হলো লোন প্রসেসিং ফি, লোন অ্যাপ্লিকেশন ফি, ডকমেন্টেশন ফি, সার্ভিস চার্জ, আর্লি সেটেলমেন্ট ফি, পারশিয়াল সেটেলমেন্ট ফি, রিসিডিউল ফি, লিমিট ইনহ্যান্সমেন্ট ফি, লিগেল ফি, অ্যাপরাইজাল ফি, লেট পেমেন্ট ফি, সিআইবি চার্জ, স্টাম্প ফি ও অন্যান্য চার্জ। দেখা গেছে, এসএমই লোন প্রসেসিং বাবদ ব্যাংকগুলো সর্বনিম্ন ৩০০ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে। লোন অ্যাপ্লিকেশন ফি বাবদ আদায় করে ২০০ থেকে ৬০০ টাকা। রিসিডিউল ফি ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা, লিমিট ইনহেন্সমেন্ট ফি ১০০০ টাকা, লিগ্যাল ফি ৬ হাজার ৫০০ টাকা, অ্যাপরাইজাল ফি ১০০০ থেকে ৫০ হাজার টাকা, স্টাম্প ফি ৫০০ টাকা, আর্লি সেটেলমেন্ট ফি মোট ঋণ লিমিটের দমমিক ৫০ শতাংশ থেকে ২ শতাংশ, পারশিয়াল সেটেলমেন্ট ফি ১ থেকে ২ শতাংশ ও সার্ভিস চার্জ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ১ শতাংশ আরোপ করে থাকে।
ব্যাংকগুলো তাদের কোন সেবায় কত চার্জ নেবে, আর কোন সেবায় চার্জারোপ করতে পারবে না এ বিষয়ে সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২২ ডিসেম্বর একটি মাস্টার সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সার্কুলার অনুযায়ীই চার্জারোপ করে আসছে ব্যাংকগুলো। তবে সার্কুলার জারির পর ব্যাংকের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে নতুন পণ্য, সেবা ও খাত। বর্তমানে এমন অনেক সেবা রয়েছে, যেগুলোর চার্জ ওই সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়নি। যেমন ব্যাংকগুলো এসএমই ঋণের ক্ষেত্রে কোন পর্যায়ে কত চার্জারোপ করবে সেটির উল্লেখ নেই ঐ সার্কুলারে। এই সুযোগে এ খাতে চার্জারোপে স্বেচ্ছারিতার ভূমিকায় রয়েছে ব্যাংকগুলো।



 

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

ঘটনাপ্রবাহ: ব্যাংক

২৭ মে, ২০২২
২৬ মে, ২০২২

আরও
আরও পড়ুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ