Inqilab Logo

ঢাকা, সোমবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৭, ০৮ কার্তিক ১৪২৪, ০২ সফর ১৪৩৯ হিজরী
শিরোনাম

ভিটামিন-সি ও ভিটামিন-ই

| প্রকাশের সময় : ১৫ মার্চ, ২০১৭, ১২:০০ এএম

সব ভিটামিনের মধ্যে ভিটামিন-সিরই তাপের সঙ্গে বিক্রিয়া বেশি হয়। তাই আমাদের প্রত্যেকের খাদ্যের মধ্যেই ভিটামিন-সি থাকা প্রয়োজন। ভিটামিন-সি প্রধানত তাজা ফল, সবুজ শাকসব্জিতে পাওয়া যায়। তাজা মাছ-মাংসেও ভিটামিন-সি পাওয়া যেতে পারে। তবে দানাশস্যে প্রায় পাওয়াই যায় না। অঙ্কুরিত শস্যে ভালো পরিমাণ ভিটামিন সি পাওয়া যায় তবে মূল, কন্দে খুব অল্প পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে। আমলা ফল ভিটামিন সির প্রাচুর্যের আধার। তাজা বা শুকনো সবধরনের আমলাতেই ভিটামিন সি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। পেয়ারাতেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। তাছাড়া লেবু, টমাটো, অঙ্কুরিত ছোলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি ইত্যাদি আরও অনেক শাকসব্জি, ফলমূল ভিটামিনের আধার। ভিটামিন-সির অভাবে প্রধানত যে রোগ দেখা যায় তার নাম স্কার্ভি। এতে নরম মাড়ি ফুলে যায়, রক্ত পড়ে, দাঁত নড়ে যায়, চামড়া ও গাঁটের তলায় হেমারেজ দেখা যায়, পেশীর দৌর্বল্য দেখা যেতে পারে, ঘা শুকোতে দেরি হয়, অ্যামিনিয়া ও শারীরিক দুর্বলতা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা তো রয়েছেই।
প্রত্যেকের প্রতিদিন প্রায় ৬০ মিঃ গ্রাঃ এর মতো ভিটামিন-সি খাওয়া প্রয়োজন। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ এর গবেষণামূলক সিদ্ধান্ত অনুসারে স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকের দিনে ৪০ মিঃ গ্রাঃ করে ভিটামিন-সি খাওয়া প্রয়োজন। তবে বুকের দুধ খাচ্ছে এমন বাচ্চার মায়ের, বাচ্চা জন্মের পর ৬-১২ মাস পর্যন্ত ভিটামিন-সি দরকার ৬০ মিঃ গ্রাঃ প্রতিদিন, আর ৬-১২ মাসের বাচ্চার প্রতিদিন ২৫ মিঃ গ্রাঃ ভিটামিন-সি খাওয়া দরকার।
ভিটামিন-ই-র রাসায়নিক নাম টেকোফেরল। এ গ্রæপের মধ্যে আলফা টেকোফেরল হচ্ছে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। ভিটামিন-ই ফ্যাটে দ্রবীভ‚ত হয়। অন্ত্র থেকে ফ্যাটে দ্রবীভ‚ত হয়ে রক্তের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন অংশে পরিবাহিত হয়।
এ পরিবহনে লিভারের ভ‚মিকা অনেকখানি। পিত্ত রসের প্রবাহ পথে কোনও বাধা যেমন পাথর ইত্যাদি থাকলে অথবা কোনও অসুস্থতার কারণে অন্ত্রের কোনও অংশ অপারেশন করে বাদ দেয়া হলে ভিটামিন-ই শোষণ বাধা পায়। অ্যান্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে ভিটামিন-ই কাজ তো করেই তবে উচ্চ অক্সিজেনযুক্ত জায়গায় এ কাজের হার বেশি। পারঅক্সাইড যেহেতু দেহের ক্ষতিই করে তাই সে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচার জন্য লিপিড পার-অক্সাইডও তৈরিতে ভিটামিন-ই বাধা দেয়। ভিটামিন-ই সেলেনিয়ামকে দেহ থেকে বেরোতে দেয় না। যা হল একটি উন্নতমানের অ্যান্টিঅক্সাইড।
গমের দানা, সুর্যমূখী বীজ, স্যাফ ফ্লাওয়ার, বীজের তেল, ভুট্টা ও সয়াবিন তেল, ভেজিটেবল তেল, তুলাবীজ, ডিমের কুসুম, মাখন ও যেসব খাবার পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত তাতেই ভিটামিন-ই বেশি পাওয়া যায়। খনিজ তেল যারা বেশি খান, যারা অক্সিজেন বেশি ব্যবহার করেন, তাদের অস^াভাবিক লিপিড শোষণ হয়ে নিউরোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার হলে ভিটামিন-ইর অভাব দেখা যায়।
ভাজাভুজি বা কড়া ধরনের রান্না হলে, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ হলে এমনকী ডিপফ্রিজে রাখলেও খাদ্যের ভিটামিন-ই নষ্ট হয়ে যায়।
দেহে অল্প পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকলে তার জন্য অনেক রোগ দেখা যায়। যেমন যাদের ক্যান্সার আছে তাদের সেলেনিয়াম, ভিটামিন-এ, বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন, ভিটামিন-সি এসব অ্যান্টি অক্সিডেন্ট কম থাকে।
আলট্রাভায়োলেট রশ্মির জন্য ত্বকে যে যে ক্ষতি হয় তা থেকে ত্বককে বাঁচায় ভিটামিন-ই। খাদ্যে ভিটামিন-ই ও সি এ দুটো অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট বেশি থাকলে কার্ডিওভাসকুলার রোগ কম হয়।
সাংবাদিক ও কলামিষ্ট। বৃক্ষ রোপণে জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত (১ম) স^র্ণ পদক।
আফতাব চৌধুরী

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।