Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৬ আগস্ট ২০১৭, ১ ভাদ্র, ১৪২৪, ২২ যিলকদ ১৪৩৮ হিজরী

রাজধানীতে পানযোগ্য পানির অভাব

| প্রকাশের সময় : ২০ মার্চ, ২০১৭, ১২:০০ এএম

এক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, বিশুদ্ধ পানির অভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ। বলা হয়েছে, মানবদেহের প্রায় ৭০ ভাগ রোগের জন্ম হয় বিশুদ্ধ পানির অভাবে। পানির বিভিন্ন উৎস দূষিত হয়ে পড়ায় বিশুদ্ধ পানির যোগানও সীমিত হয়ে পড়েছে। বিদ্যমান বাস্তবতায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার একান্ত আবশ্যক হলেও জরিপে দেখাযাচ্ছে রাজধানীর অর্ধেক মানুষ বিশুদ্ধ পানির যোগান থেকে বঞ্চিত। তারা মনে করছেন দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে হেপাটাইটিসসহ টাইফয়েড, ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, জন্ডিসের মতো জটিলরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার আশঙ্কা বেড়ে যাচ্ছে। রাজধানীতে পানি সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত ওয়াসার পানিতে ১ থেকে ১০০ কলোনি ফার্মিং ইউনিটস (সিএফইউ) কোলা-ই-ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে যা থেকে ক্যান্সারের মতো জটিলব্যাধি  হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবদেহের ৭০ ভাগই হলো পানি। বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারে ২১ শতাংশ পর্যন্ত মৃত্যুঝুঁকি হ্রাস পেতে পারে। অন্যদিকে যদি খাবার পানি  বিশুদ্ধ না হয় তাহলে মানবদেহে রোগব্যাধি বাসা বাঁধে। পানি পানের মাধ্যমে জীবাণুগুলো খাদ্যনালী হয়ে মানুষের রক্তে মিশে যায়।
রাজধানীতে সুপেয় পানির সংকট অনেক দিনের পুরনো। পানিবাহিত রোগের কারণে নাগরিক ভোগান্তির খবর এর আগেও প্রকাশিত হয়েছে। ওয়াসার পানিতে  নানা বর্জ্য মিশে যাওয়া নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন মাঝে মাঝেই প্রকাশিত হচ্ছে। সুপেয় পানির দুষ্প্রাপ্যতা নিয়ে বলা হয়েছে, প্রথমত ঢাকার চারপাশের নদ-নদীগুলোর পানি দূষিত হয়ে যাওয়া এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে টানপড়া। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার পানি সরবরাহের প্রধান উৎস ছিল চার নদী। বর্তমানে এই চার নদী এত পরিমাণে দূষিত যে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা শূন্যে নেমে গেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঢাকার প্রাণ বলে পরিচিত বুড়িগঙ্গার পানি সারাবছরই ব্যবহার অনুপযোগী থাকছে। পানি ব্যবহারের জন্য পনিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা প্রতি মিলিমিটারে  ৫-এর উপরে থাকা জরুরি হলেও ঢাকার চার নদীর পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা ১ থেকে দশমিকের নিচে অবস্থান করছে।ওয়াসা বলছে, একারণে নদীর পানি ট্রিটমেন্ট প্লান্টে পরিশোধন করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে নদীর পানিতে ভারী ধাতব পদার্থের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। বাস্তবতা হচ্ছে, নদীর পানি তথা ভূউপরিস্থ পানির উপর আস্থা হারাবার কারণে স্বাভাবিকভাবেই ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপ বেড়েছে। ফলে অস্বাভাবিকহারে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে নদীর দূষিত পানি ভূগর্ভস্থ পানির সাথে মিশে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পানির স্তর বেশি মাত্রায় নেমে গেলে আগামীতে চাহিদার প্রয়োজনীয় পানিও সরবরাহ করা যাবে না। ওয়াসার সূত্র অনুযায়ী বর্তমানে রাজধানীবাসীর ২৩০ কোটি  লিটারের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করছে প্রায় ২১০ কোটি লিটার। বাস্তবতা হচ্ছে, দেশে প্রতিদিন নানা উন্নয়নের কথা শোনা গেলেও মানুষের বেঁচে থাকার জন্য যে পানির কোন বিকল্প নেই, তার চাহিদা পূরণের কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই।
বলার অপেক্ষা রাখে না, প্রতিবেশীর বৈরী পানি নীতির আগ্রাসনের শিকার বাংলাদেশ। পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত থাকার কারণেই একদিকে নদ-নদীতে পানি নেই, অন্যদিকে ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে টান পড়ছে। এখন দেখাযাচ্ছে, জীবন যাপনের মতো পর্যাপ্ত পানি নেই। অন্যদিকে বর্ষার পানি ধরে রাখতে  গঙ্গাব্যারেজসহ যেসব প্রকল্পের কথা এবং সেই সাথে নদ-নদীর তীর সংরক্ষণসহ যেসব পরিকল্পনার কথা বারবার ঘোষণা করা হয়েছে তাতে কোন অগ্রগতি নেই। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে পানি পাবার মত কোন কার্যকর অগগ্রতি হয়েছে এমন খবর এখনো পাওয়া যায়নি। বাস্তবত সুপেয় পানির অভাব শুধু রাজধানীতেই নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরো আগে শুরু হয়েছে। পানির অভাবে কৃষিকাজ পর্যন্ত বিঘিœত হতে শুরু করেছে। রাজধানীতে সুপেয় পানি সরবরাহের নানা মহাপকিল্পনার কথা মাঝেমধ্যে শোনা যায়। দফায় দফায় পানির মূল্যও  বাড়ানো হয়েছে। বাস্তবতা হচ্ছে সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে সংকট আরো বাড়ছে। পয়সা দিয়ে পানি কিনে সেই পানি পান করে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে নগরবাসী। এ অবস্থা অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত। নগরবাসীকে যদি পানযোগ্য পানিই সরবরাহ করা না যায় তাহলে রাজধানী টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। সেকারণেই সংশ্লিষ্টদের সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি হয়ে দেখা দিয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশে পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্টরা আন্তরিক হবেন, এটাই প্রত্যাশিত।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।