Inqilab Logo

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৭ আশ্বিন ১৪২৪, ০১ মুহাররম ১৪৩৮ হিজরী
শিরোনাম

আদমদীঘিতে পিতা-মাতাকে আটকে রেখে জোরপূর্বক কন্যার বাল্যবিবাহ

| প্রকাশের সময় : ২১ মার্চ, ২০১৭, ১২:০০ এএম

আদমদীঘি উপজেলা সংবাদদাতা : বগুড়ার আদমদীঘিতে শালিস বৈঠকের নামে পিতা-মাতাকে বাড়ীতে আটকে রেখে বৃষ্টি নামের এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক বাল্যবিবাহ দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বড় আখিড়া গ্রামে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে জানা যায়, উক্ত গ্রামের হাফিজারের মেয়ে সান্তাহার পৌর বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী বৃষ্টি (১৫) তার নিজ বাড়ী থেকে গত ১৪ ফেব্রæয়ারী একই গ্রামের মোতাহার আলীর ছেলে মোমেন (১৮) অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে বহু খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানা যায় ওই গ্রামের ওমির গানের ছেলে একাব্বরের বাড়ীতে তাকে আটক করে রাখা হয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ একলাস এর নেতৃত্বে গ্রামের কতিপয় যুবক তাকে উদ্ধার করে এক শালিস বৈঠক ডাকে। ওই বৈঠকে প্রথমে ইউপি সদস্য একলাস উদ্দীন বৃষ্টি অপ্রাপ্ত বয়স হওয়ায় তাকে পিত্রালয়ে পাটিয়ে দেয়া কথা বলে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বৈঠক চলাকালীন সময়ে উক্ত ইউপি সদস্য অজ্ঞাত স্থান থেকে কোন এক মোবাইল ফোনে কথা বলার পর তার সিদ্ধান্ত পরির্বতন করে বৃষ্টির পিতা-মাতাকে বাড়ীতে আটকে রেখে পরিবারের লোকজনের অনুউপস্থিতে স্থানীয় মাদ্রাসার মওলানা মোস্তাফিজুরকে ডেকে উক্ত অপহরণকারী মোমেনের সাথে স্কুলছাত্রী বৃষ্টির বাল্যবিয়ে দিয়ে দেন। এব্যাপারে স্থানীয় মাদ্রারাসা মওলানা মোস্তাফিজুরের সাথে কথা বললে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন আমি বেকায়দায় পরে বিয়ে পরাতে বাধ্য হই। এবিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য একলাস উদ্দীনের সাথে কথা বলতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে কল রিসিভ না করায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এদিকে এঘটনার পর থেকে মোমেন তার লোকজন নিয়ে হাফিজারের বাড়ীতে গিয়ে চরাও হয়ে এ বিয়ে মেনে নিতে বিভিন্ন প্রকার চাপ সৃষ্টি করছে। এমনকি হাফিজারের পরিবারের লোকজনকে হত্যার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিটক একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং থানায় একটি সাধারণ ডাইরী দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী আফিসারের সাথে কথা বললে অভিযোগ পাওয়ার পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবকে তদন্ত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 


দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

এ সংক্রান্ত আরও খবর