Inqilab Logo

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৪ আশ্বিন ১৪২৫, ৮ মুহাররাম ১৪৪০ হিজরী‌

অপরাধ দমনে পুলিশের ভূমিকা

| প্রকাশের সময় : ২২ মার্চ, ২০১৭, ১২:০০ এএম

হেলেনা জাহাঙ্গীর : জঙ্গিবাদ দমনে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৪টি দেশের পুলিশ প্রধানরা একযোগে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। জঙ্গিবাদসহ ১৭টি অপরাধ দমনে ১৪ দেশের পুলিশের একসঙ্গে কাজ করার ঐকমত্য এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য সুখবর হিসেবে বিবেচিত হওয়ার দাবি রাখে। স্মর্তব্য, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদসহ আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে রাজধানীতে তিন দিনের পুলিশ প্রধান সম্মেলনে ১৪ দেশের প্রতিনিধি ছাড়াও ইন্টারপোল, ফেসবুক ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা, আসিয়ানপোল প্রভৃতি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যোগ দেন।
সম্মেলনে জঙ্গি দমন, মানব পাচার, অর্থনৈতিক অপরাধ, সন্ত্রাসী অর্থায়ন, মাদক পাচার রোধ, অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধ, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে আলোচনা হয়। সম্মেলন শেষে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদসহ আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে পুলিশ প্রধানদের ‘যৌথ ঘোষণা’কে একটি বিরাট অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। পুলিশ প্রধানদের পক্ষ থেকে ফেসবুকের আইডি খুলতে ভোটার আইডি কার্ড কিংবা পাসপোর্ট ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হলেও ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাতে সায় দেয়নি। এটি হতাশার হলেও এ সম্মেলন অপরাধ দমনে পারস্পরিক সহযোগিতার যে সুযোগ সৃষ্টি করেছে তা আশাজাগানিয়া ঘটনা।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ একটি বিশ্বজনীন সমস্যা। দুনিয়ার কোনো জাতিই এ সমস্যা থেকে মুক্ত নয়। সেহেতু এ বিপদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের যে তাগিদ সৃষ্টি করেছে সদ্যসমাপ্ত পুলিশ প্রধানদের সম্মেলন তা আরও এগিয়ে নিতে হবে। সম্মেলনে পারস্পরিক যোগাযোগ বিশেষত অপরাধ দমনে একসঙ্গে কাজ করার যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ১৪টি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতবিনিময়ের যে সূচনা সম্মেলনের মাধ্যম শুরু হয়েছে তা আরও এগিয়ে নেওয়া হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বৈশিষ্ট্যে ব্যত্যয় না ঘটিয়ে কীভাবে এ প্রচার মাধ্যমকে অপরাধীদের কাছ থেকে দূরে রাখা যায় তা উদ্ভাবনে সদ্যসমাপ্ত সম্মেলন তাগিদ সৃষ্টি করবে আমরা এমনটিই দেখতে চাই।
মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ পুলিশ নামে সংগঠিত হয়। বাংলাদেশ পুলিশ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পুলিশ বাহিনীর মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে প্রধান ভ‚মিকা পালন করে থাকে। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাডিশনাল চরিত্রে বিরাট পরিবর্তন এনে দিয়েছে। শুধু আইন পালন আর অপরাধ প্রতিরোধ বা দমনই নয়, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা পালন করছে। গত এক দশকে জঙ্গিবাদ দমন এবং নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। পুলিশের সদস্যরা তাদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা আর পেশাদারিত্ব দিয়ে অপরাধ মোকাবিলায় প্রতিনিয়ত সৃজনশীলতার পরিচয় দিচ্ছেন। ঘুষ দুর্নীতির কারণে একসময়ে অভিযুক্ত এই বাহিনী তার পেশাদারিত্ব আর জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে জনগণের গর্বের বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল সময় হলো ১৯৭১ সাল। মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল, বেশ কয়েকজন এসপিসহ প্রায় সব পর্যায়ের পুলিশ সদস্য বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে জীবনদান করেন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাস হতেই প্রদেশের পুলিশ বাহিনীর ওপর কর্তৃত্ব হারিয়েছিল পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকার। পুলিশের বীর সদস্যরা প্রকাশ্যেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তারা ২৫ মার্চ ১৯৭১ ঢাকার রাজারবাগের পুলিশ লাইনসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত বাতিল .৩০৩ রাইফেল দিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা। এই সশস্ত্র প্রতিরোধটিই বাঙালিদের কাছে সশস্ত্র যুদ্ধ শুরুর বার্তা পৌঁছে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশের এই সদস্যরা ৯ মাসজুড়ে দেশব্যাপী গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১২৬২ জন শহীদ পুলিশ সদস্যের তালিকা স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিল পত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রসঙ্গত, ঝিনাইদহের তৎকালীন সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ মুজিব নগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে ঐতিহাসিক গার্ড অব অনার প্রদান করেন।
সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক প্রতিরোধ, জুয়া, বাল্যবিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন সকল ক্ষেত্রে পুলিশের যে ভ‚মিকা তার চেয়ে জনগণের ভ‚মিকা কোনো অংশে কম নয়। যে কোনো অপরাধ নির্মূল করতে হলে পুলিশ ও জনতা মিলে কাজ করতে হবে। তাহলে সমাজে আর কোনো অপরাধ থাকবে না।
লেখক : চেয়ারম্যান, জয়যাত্রা ফাউন্ডেশন



 

Show all comments
  • এস, আনোয়ার ২৪ মার্চ, ২০১৭, ৮:৩৭ পিএম says : 0
    পুলিশী সেবাতো আমাগো হর-হামেশাই দরকার। মাগার মুসিবৎ হইলো, ওই সেবার লাইগ্গা কিঞ্চিত চা-নাস্তার খরচাপাতি যোগাইতেতো আমাগো পকেট উজাড় হইয়া যায়। এই লাইগ্গাইতো থানার কাছ দিয়া কানাও যাইবার চায় না।
    Total Reply(0) Reply

দৈনিক ইনকিলাব সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন।

গত​ ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ